মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০১৩, ২৮ ফাল্গুন ১৪১৯
প্রযুক্তি কর্নার
ব্রিটেনে এশীয়দের স্টেম সেল ‘ম্যাচ’ খোঁজার উদ্যোগ
লিউকিমিয়া বা লিম্ফোমার মতো জটিল নানা ব্যাধিতে যারা ভুগছেন তাদের জীবন রক্ষার জন্য স্টেম সেল গবেষণা অপরিহার্য বললেই চলে। দাতাদের রক্ত থেকে নেয়া স্টেম সেল বহু ক্ষেত্রেই এই ধরনের রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ব্রিটেনে এশিয়ান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে এ রকম দাতার সংখ্যা খুবই কম, ফলে দেখা যাচ্ছে লিউকিমিয়াতে আক্রান্ত একজন শ্বেতাঙ্গর জন্য উপযুক্ত ম্যাচ খুঁজে পাওয়ার চেয়ে এশিয়ানদের জন্য সেরকম ম্যাচ খুঁজে পাওয়া দ্বিগুণ কঠিন। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই ব্রিটেনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিজ্ঞানীরা শুরু করেছেন এক অভিনব উদ্যোগ।
স্টেম সেল হলো সেই ধরনের কোষ যা শরীরে নির্দিষ্ট কোনও কাজের জন্য তৈরি হয়নি। ১৭ বছরের আনিসা হুসেইনকে প্রতি সপ্তাহে দুবার হাসপাতালে যেতে হয়- গত বছর খুব বিরল এক রক্তের রোগ ধরা পড়েছিল তার শরীরে, যার ফলে ঠিক মতো রক্ত কণিকা তৈরি হয় না তার দেহে। বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে আনিসার এখন নিয়মিত রক্তকণিকার টপ-আপ করা হয়। এটা না-করা হলে সে দুর্বল হয়ে পড়বে, ঘন ঘন সংক্রমণে আক্রান্ত হবে, লিউকিমিয়ার ঝুঁকিও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও সে রোজই কলেজে যেত, কিন্তু বেশিরভাগ দিনই এখন তাকে বাড়িতে কাটাতে হয়। আনিসার জীবনের মান বাড়াতে হলে তার আসলে দরকার স্টেম সেল প্রতিস্থাপন।
কিন্তু আনিসার জাতিগত পরিচয়ের জন্যই আরও উপযুক্ত দাতা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। শ্বেতাঙ্গ হলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দাতা মিলে যায়, কিন্তু এশিয়ান হলে সেই সম্ভাবনা ৪০ শতাংশেরও কম, কারণ রেজিস্টারে এশিয়ান দাতার সংখ্যা খুব কম।
কারণটা কী সঠিকভাবে বলা শক্ত, তবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস বা সেই সঙ্গে দানের পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতার অভাবই সম্ভবত এ জন্য দায়ী।
কিন্তু এখন লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়েছে নতুন এক উদ্যোগ। তারা জানাচ্ছেন, যেভাবে আপনি রক্তদান করেন, ঠিক সেভাবেই এখন স্টেম সেলও সংগ্রহ করা সম্ভব। কারও কারও ধারণা এটা এখনও একটা ইনভেসিভ পদ্ধতি অর্থাৎ শরীরে কিছু ঢুকিয়ে স্টেম সেল নিয়ে আসতে হয়; কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এখন আর তা নয়! ব্লাড ক্যান্সার চ্যারিটি অ্যান্টনি নোলান ট্রাস্টের রেজিস্ট্রার দশ বছর আগে সই করেছিলেন ধর্মেশ পারেখ- মাসকয়েক আগে তাঁকে ফোন করে জানানো হয় তিনি একজনের ম্যাচ, আর তার পরই ইঞ্জেকশন দিয়ে তাঁর স্টেম সেলের গ্রোথ স্টিমুলেট করা হয়, যাতে তিনি সেটা দান করতে পারেন।
মি পারেখের কথায়, ‘মানুষ আগে ভাবত এটা বোধহয় খুব যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি- আপনার রক্ত থেকে বোন ম্যারো টেনে নেয়া হয়! আসলে কিন্তু খানিকক্ষণ বসে থাকার একঘেয়েমি ছাড়া আর কোনও কষ্টই নেই, আপনার গায়ে লাগানো একটা যন্ত্রই শরীর থেকে স্টেম সেল নিয়ে নেবে, আপনি টেরই পাবেন না।’