মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
ক্লার্ক-জনসনেই ভরসা রাখছে অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর চ্যাপেল হ্যাডলি ট্রফি জিতে নিতে আজ মাইকেল ক্লার্ক ও মিশেল জনসনকেই প্রধান ভরসা মানছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং ইনিংসে ক্লার্কের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে এই কারণে যে, তিনি স্পিনারদের ভাল মোকাবেলা করতে পারেন। বলা হয়ে থাকে, বর্তমান অসি স্কোয়াডে ক্লার্কই স্পিনারদের বিরম্নদ্ধে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান। আজ তাই নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির লেগ স্পিনের ভেল্কি ব্যর্থ করে দিতে হলে ক্লার্ক ব্যাট সফল হতে হবে এমনটাই ভাবছে অস্ট্রেলিয়ানরা। অন্যদিকে, মিশেল জনসনের ওপর ভরসা রাখা হচ্ছে এই কারণে যে, নাগপুরের যে উইকেটে খেলা হবে সেখানে পেসারদেরও সফল হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এরওপর আবার আগের ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন জনসন। আজ কিউইদের বিরম্নদ্ধেও তৃতীয় পেসার হিসেবে দলকে তিনি এমন সাফল্য দিতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা অস্ট্রেলিয়ার। এ প্রত্যাশার পালে আবার বাতাস দিচ্ছে নাগপুরের পিচে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যানও। ২০০৯ সালের ওই ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিরম্নদ্ধেও তৃতীয় পেসার হিসেবে বল করেছিলেন জনসন। ম্যাচে ১০ ওভার বল করে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন অসি পেসার। ব্যাট হাতে আবার ১৯ বলে ২১ রান করেছিলেন। ক্লার্ক-জনসনে ভর করেই আজ তাই নিউজিল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে মাঠে নামছে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া।
এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পেসাদের নিয়ে খুব একটা ভীত নয় অস্ট্রেলিয়া। তবে স্পিনারদের নিয়ে অনেক বেশি চিনত্মা তাদের। সেই সঙ্গে পেসও করেন না আবার স্পিনও করেন না এমন সেস্না বোলারদেরও সমীহ করছে রিকি পন্টিংয়ের দল। কারণ কিংবদনত্মি স্পিনার শেন ওয়ার্নের দেশ হলেও বর্তমানে স্পিনের বিরম্নদ্ধে অনেকটাই দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াডে। এর ওপর আবার ভারতীয় উপমহাদেশের পিচগুলো স্পিনার এবং সেস্না বোলারদের সাফল্য পাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পেসারদের দুমড়ে মুচড়ে একাকার করার ৰমতা থাকলেও স্পিন ও সেস্না বোলাদের বিরম্নদ্ধে শেন ওয়াটসন, ব্র্যাড হ্যাডিন, ডেভিড হাসিদের দুর্বলতা অনেক বেশি। জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচেই সেটা প্রকট হয়ে গেছে। ইনিংসের শুরম্নতেই রেমন্ড প্রাইসকে দিয়ে স্পিন আক্রমণ শানিয়েছিল জিম্বাবু্ইয়েনরা। যে কারণে ইনিংসের শুরম্ন থেকে অস্ট্রেলিয়ানদের রান তোলার গতি ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে ধীর গতির। এমন কি ৩৯ ওভার পর্যনত্ম চাপের মুখে ছিল অসিরা। ওয়াটসন ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করলেও লেগ স্পিনার স্পিনার গ্রায়েম ক্র্যামারের বলে। হ্যাডিন আউট হয়েছেন অফ স্পিনার প্রসপার উতসেয়ার বলে। ডেভিড হাসিকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন প্রাইস। অসি অধিনায়ক পন্টিং অবশ্য স্পিন ভালই খেলেন। তবে ওই ম্যাচে রান আউট হয়েছিলেন তিনি। মাইকেল ক্লার্ক ছিলেন অনবদ্য। শেষ পর্যনত্ম ৫৫ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন অসি সহঅধিনায়ক। আর সেটাকেই আজ প্রেরণা হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। কারণ ড্যানিয়েল ভেট্টরি ছাড়াও নিউজ্যাল্যান্ডে রয়েছে নাথান ম্যাককুলাম, মার্টিন গাপ্তিল, রস টেইলর এবং কেইন উইলিয়ামসনদের মতো স্পিনাররা। ওদিকে, আবার রয়েছে স্কট স্টাইরিশের সেস্না বল। ক্লার্ক নিজেও তাই বুঝতে পারছেন যে আজ ব্যাট হাতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে তাকে। ক্লার্কের মতে, 'এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের কাছ থেকে ২০/৩০ ওভার স্পিন আক্রমণ না দেখলে অবাকই হব আমি। আমার বিশ্বাস আজ জিম্বাবুইয়ের মতো নিউজিল্যান্ডও হয়ত ইনিংসের শুরম্নতেই স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসবে। এ ৰেত্রে ড্যানিয়েল ভেট্টরিকেই বল হাতে দেখা যাবে শুরম্নতে। এরপর ইনিংসের মাঝপথে কিউইরা স্পিন ও সেস্না বোলের আক্রমণ শানাবে বলেই বিশ্বাস করি। সুতরাং আজ অনেক বেশি ব্যাট সতর্ক হতে হবে আমাদের।'
এদিকে, স্পিন নিয়ে যতই কথা বলা হোক না কেন আসরের শুরম্ন থেকেই পেসাররাও আলো ছড়াচ্ছেন। আর নাগপুরের উইকেটটি এমন যে এখানে ব্যাটসম্যানদের দাপট দেখানোর সম্ভাবনা প্রকট, তেমনি স্পিনারদের ছাড়িয়ে পেসারদেরও আবার উজ্জ্বল হয়ে সম্ভাবনা রয়েছে। নাগপুরের অনুষ্ঠিত এ পর্যনত্ম সব ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যান তেমন কথাই বলে। বোলিং আক্রমণে তাই আজ জনসনকে ঘিরেই স্বপ্ন আঁকছে অসিরা। এর সঙ্গে জেসন ক্রেজা আর স্পিড স্টার ব্রেট লির দিকে খানিকটা প্রত্যাশার দৃষ্টি রাখছে পন্টিংরা। এর সঙ্গে ওয়াটসন, শন টেইটরা যদি খানিকটা জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই।