মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৯ মাঘ ১৪১৯
আজব হলেও গুজব নয়
হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ায় ফেসবুক
ফেসবুক। বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে আরেক প্রান্তের মানুষের অনলাইননির্ভর যোগাযোগ তৈরির এক বিস্ময়কর মাধ্যম! চলমান প্রাযুক্তিক সভ্যতায় সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি, জীবনের গল্প বলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমই যেন এই ফেসবুক। কতো দূরের মানুষ কিছু দিনের ব্যবহারে হয়ে যায় আপন। ?আর সেই লক্ষ্য মাইল দূরের মানুষটির সঙ্গে কত অবলীলায় নিজের মনের ভেতরকার কথাগুলো প্রকাশ করা যায়। এসবই যে ফেসবুকের কারণেই সম্ভব। আদর-স্নেহ-শ্রদ্ধা-ভালবাসা ভাগাভাগির এ প্রাযুক্তিক মাধ্যমটি বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ পরামর্শ পাওয়ার মাধ্যমও বটে। একটি সমস্যার সমাধানে পরামর্শ চেয়ে পোস্ট করলে কত শত সমাধান মুহূর্তেই পাওয়া যায়। কিন্তু একটি গবেষণা বলছে বিপরীত কথা! ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও ব্যবহারকারীকে দ্রোহীও বানিয়ে দিতে পারে! একদল ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত গবেষণা শেষে বলা হয়, ‘সফল’ বন্ধুদের দেখে বিপজ্জনক রকমের বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে ব্যবহারকারীর! বিদ্রোহ কখনও হতাশা ?আবার কখনও জীবনের প্রতি ঘৃণা বাড়িয়ে দেয়। যেটা স্বাভাবিক জীবনের প্রতি অসন্তোষ ডেকে আনে। জার্মানির হামবল্ডট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হান্না ক্রাসনোভার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহারের কারণে অনেকের মধ্যে অনুভূতির পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় আচরণ, ভাব-ভঙ্গি প্রকাশের ধরনও। কিন্তু এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তির মধ্যেই নেতিবাচক অনুভূতি কাজ করে।
ড. হান্না ক্রাসনোভা গবেষণার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, ‘সবারই অনুভূতির পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন ফেসবুকে পরিচিত কোন বন্ধুর বা আগে থেকে পরিচিত বন্ধুর সফলতার ঈর্ষণীয় ছবি প্রকাশ করা হয়, তখন নিজের মধ্যে এক ধরনের জ্বালা তৈরি হয়। যেটাকে বিদ্রোহ বলা চলে।’
হান্না বলেন, বন্ধুর সফলতার প্রতীক ছবি, গল্প, সামাজিক তুলনা অনেক বেশি ঈর্ষা বাড়িয়ে দেয়। যেটা হতাশার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে অসন্তোষ বয়ে আনে! গবেষণা দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেওয়া কিংবা ফেসবুক ব্যবহারে বিস্ময়করভাবে অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ এ ধরনের হতাশা এবং অসন্তোষই!”
মৃত্যুর আগে
ইচ্ছা পূরণ

জন্মগ্রহণ করলে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে- এটা প্রকৃতির নিয়ম। জীবিত অবস্থায় পৃথিবীতে মানুষ স্বর্গের স্বাদ পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে! মানুষের চাহিদার শেষ থাকে না। তবে গবেষকরা অনেক ঘাম ছড়িয়ে বের করেছেন- পৃথিবী ছাড়ার আগে প্রায় প্রতিটি মানুষ ৫০টি কাজ করে যেতে চায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য মাত্র ৪ থেকে ৫টি আশা পূরণ করে যেতে পারেন অধিকাংশ ব্যক্তি। অনেকে মনে করেন, সব আশা পূরণ করার পর্যাপ্ত সময় নেই। আবার অনেকে স্বীকার করেন, তারা দুঃসাহসিক কাজ করার জন্য তারা উপযুক্ত নন বা আঘাতকে তারা ভয় করেন। কোটিপতি হওয়া, বিশ্বভ্রমণ করা, মেরু প্রভা উপভোগ, চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখা এবং ঋণমুক্ত থাকা এই ৫০ ইচ্ছার শীর্ষে থাকে। আর যে কাজগুলো মানুষ কম করতে চায় মানুষ সেগুলো হলো-উপন্যাস লেখা, অন্য ভাষা শেখা, ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া।
দুই হাজার প্রাপ্ত বয়স্কের ওপর পোশাক প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান হেলি হানসেন গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোক জানিয়েছে, তাদের আশা পূরণে পর্যাপ্ত সময় নেই। আর ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী স্বীকার করেছেন, তারা আহত হতে ভয় পান। এক-চতুর্থাংশ অংশগ্রহণকারী বিশ্বাস করেন, তারা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে উপযুক্ত। কোন ইচ্ছে নেই এমন কথা জানিয়েছে ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারীর উপলব্ধি, তাদের ইচ্ছাপূরণে আরও সাহসী হতে হবে।
৫০টি ইচ্ছার মধ্যে প্রথম ১০টি-
১ কোটিপতি হওয়া, ২ বিশ্ব ভ্রমণ করা, ৩ মেরু“প্রভা উপভোগ, ৪ চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখা, ৫ ঋণমুক্ত জীবন, ৬ ইনকার দুর্গম পথে পা মারানো, ৭ বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য দেখা, ৮ মিসরের পিরামিড দেখা, ৯ জীবন পরিবর্তন করে এমন কিছু উদ্ভাবন করা, ১০ এন্টার্কটিকায় পা রাখা।

ফ্লুর প্রতিষেধক আইসক্রিম!
সর্দি, কাশি, জ্বর, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা, মাথা ভার লাগা, কখনও কখনও পেট খারাপ এসব হচ্ছে ফ্লুর লক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জায় (ফ্লু) মৃতের সংখ্যা ‘মহামারী’ স্তরে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চলতি মৌসুমে ফ্লু পরীক্ষা করা হয়েছে এমন শিশুদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) মার্কিনিদের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের একটি আইসক্রিম প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফ্লুতে আক্রান্তদের জন্য তৈরি করেছে ‘বিশেষ আইসক্রিম’। এই আইসক্রিমটি ফ্লুর প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেছে প্রস্তুকারক কোম্পানি। লেবু, সুস্বাদু লাল মরিচ ও হুইসি দিয়ে তৈরি এই বিশেষ আইসক্রিম গলা পরিষ্কার রাখবে ও কাশি কমাবে। জেনিসের স্পেলডিড আইসক্রিমসের মালিক জেনি ব্রিটন বায়ুয়ের জানিয়েছেন, তাদের এই আইস ক্রিম খেয়ে একটি পরিবারকে সুস্থ করেছে। তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে বলেছে, শুধু এটিই তাদেরকে ভালো রাখছে।’ অক্টোবর-মে মাস হচ্ছে ফ্লুর সময়। আর জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে এর প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

উপহার যখন ছুরি
ভারতের প্রয়াত রাজনীতিবিদ বাল ঠাকরের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেয়েদের হাতে ধারালো ছুরি তুলে দেবে চায় শিবসেনা। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে ছুরি দেওয়ার এ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে কট্টর ডানপন্থি দলটি। আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রয়াত নেতার জন্মদিনে মেয়েদের চীনের তৈরি ছোট ছুরি উপহার দেয়া হবে। মেয়ে ও নারীরা সেগুলো নিজেদের ব্যাগ অথবা পার্সে রাখতে পারবেন। দলের দক্ষিণ মুম্বাই শাখা সিদ্ধান্ত নিলেও, শীঘ্রই দলের সব শাখা এ কর্মসূচি পালন করবে। দলটির শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, সরকার মেয়েদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ। বাল ঠাকরে ১৯২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি পুনেতে জন্মগ্রহণ করেন। গত বছরের ১৭ নবেম্বর মারা যান শিবসেনার এ প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬৬ সালের ১৯ জুন শিবসেনা প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্বে অর্ধেক খাবার ফেলে দেয়া হয়
বিশ্বে খাবারের অর্ধেক খাদ্য অপচয় হয়। আর এর অন্যতম কারণ খাদ্য ফেলে দেওয়া হয় । বিশ্বের ২শ’ কোটি টন খাদ্য নষ্টের পেছনে ফেলে দেওয়া ছাড়াও নিম্নমানের সংরক্ষণ, বিক্রির মেয়াদ, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি ও ভোক্তাদের খুঁতখুঁতে স্বভাব ইত্যাদি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ‘বৈশ্বিক খাদ্য; অপচয় হবে না, অভাব আসবে না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ইনস্টিটিউশন জানিয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী চার শ’ কোটি টন খাদ্য উৎপাদিত হয়। আর এর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নষ্ট করা হয়।
সাত-সতেরো প্রতিবেদক