মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১১, ২৪ আষাঢ় ১৪১৮
স্বয়ংক্রিয় মেশিনেই উপহার!
কাউকে উপহার দেয়ার কথা ভাবছেন? আবার হয়ত ভাবছেন অতদূরের মার্কেটে কি করে যাবেন? না, আর ছুটতে হবে না। হাতের কাছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমেই আপনি পেয়ে যাবেন এখন কোন না কোন উপহার। কি বিশ্বাস হচ্ছে না! এ রকমই কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করা হয়েছে জার্মানিতে। এসব মেশিন থেকে আগে সিগারেট বের হলেও এখন বের হয়ে আসছে শিল্পকর্ম। পর্যটকদের প্রিয় শহর বাড মুনস্টেরআইফেল-এ স্থাপন করা হয়েছে এ রকমই একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন। বরফ ঢাকা রাসত্মার পাশে ষাট দশকের পুরনো স্বয়ংক্রিয় সিগারেটের মেশিনটি এখন চেহারা পরিবর্তন করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। মেশিনটিতে ছয়টি ইউরো মুদ্রা ঢুকালেই একটি ড্রয়ার খোলা যাবে এবং এতে দেখা যাবে ছোট একটি সাদা প্যাকেট। আর প্যাকেটটি খুললেই বেরিয়ে পড়বে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। শিল্পকর্মগুলোর স্রষ্টা দু'জন শিল্পী-ইউলিয়া ব্রম্নক এবং তার বন্ধু হেক্টর গোবি। চার বছর আগে ডু্যসেলডর্ফ থেকে আইফেল অঞ্চলে বসবাস শুরম্ন করেন। শিল্পী ইউলিয়া ব্রম্নক আইফেলে এসে সৃজনশীল কিছু তৈরি করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। বড় বড় জিনিসের অনুকরণে তিনি ছোট ছোট শিল্পকর্ম গড়ে তুলতে থাকেন এবং হাতের অাঁচড়ে সেগুলো রঙিন করে তুলেন। বিশেষ করে এখানকার বাড়িঘর, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ থেকে তিনি শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা পান। কুড়িয়ে পাওয়া পাথর, ফলমূল, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে শিল্পকে কারম্নকার্যময় করে তোলেন তিনি। আর এসব শিল্পকর্ম তৈরির জন্য তাকে কোন দোকানের ওপর নির্ভর করতে হয় না। হঠাৎ কোন উপহারের প্রয়োজন পড়লে যে কেউ এই স্বয়ংক্রিয় মেশিন থেকে তা সহজেই পেয়ে যাবে।
শিল্পী ইউলিয়ার বন্ধু হেক্টর গোবি বিভিন্ন রকম শিল্পকর্মসহ ১৬টি স্বয়ংক্রিয় মেশিন নিয়ে বসেছেন জার্মানির রাইন ও মোজেল নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। এখানে তিনি কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার দিকটি দেখাশোনা করছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিগারেটের স্বয়ংক্রিয় মেশিন কিনে মেরামত করে নির্দিষ্ট স্থানে মেশিনগুলো স্থাপন করে নতুন নতুন শিল্পকর্ম দিয়ে তা ভরে তোলা হয়। গোবি বলেন, জিনিসগুলো ভাল চলছে এবং মাত্র ছয় ইউরোতে এ ধরনের শিল্পকর্ম হাতে পেয়ে ক্রেতারাও দারম্নণ খুশি। আর এ কাজ করে তারা সহজেই জীবনধারণ করতে পারছেন। দু'জনে অনেক ক্রেতাকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং অনেকের কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়াও পাওয়া যায়। রেসত্মোরাঁ প্রিন্টেন হাউজের মালিক গুন্টার পোর্ট তাদেরই একজন। তিনি বলেন, এই মিনি শিল্পকর্মগুলো এত সুন্দর যে তিনি সবার জন্য তা প্রদর্শন করতে আগ্রহী। আগামী বসনত্মে পর্যটকদের প্রিয় স্থানগুলোতে আরও কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করার পরিকল্পনা করছেন এই দু'শিল্পী এবং উভয়েই মনে করছেন, এতে তারা আরও বেশি সাড়া পাবেন।
প্রদীপ সাহা