মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১১, ২৪ আষাঢ় ১৪১৮
সেবা করেই কোটিপতি
সেবা দিয়ে মন জয়। আর সেই সুবাদে পরিচালক থেকে কোটিপতি বনে গেছেন নেপালের ইন্দ্রা তামাং। চার দশক আগে কৃষিই ছিল কিশোর ইন্দ্রা তামাংয়ের পেশা। থাকতেন ছনের চালার ঘরে। লেখাপড়াও করেননি খুব একটা। কাঠমান্ডুর এক হোটেলে কাজ শুরম্নর আগ পর্যনত্ম গ্রামেই থাকতেন। আর এখান থেকেই খুলে যায় তাঁর কপাল। হোটেলে বেড়াতে আসা মার্কিন কবি চার্লস হেনরি ফোর্ডের সঙ্গে হয়ে যায় বন্ধুত্ব। সহকারী হিসেবে চার্লস তামাংকে নেপাল থেকে নিয়ে যান ইউরোপে। তামাংয়ের কপালে জোটে বিশ্ব ভ্রমণ। মাটির ঘরে থাকা তামাংয়ের আবাসভূম হয় নিউইয়র্ক, প্যারিস আর গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মতো অভিজাত জায়গায়। সাক্ষাতের সুযোগ মেলে এন্ডি ওয়ারহল, জন লেনন ও প্যাটি স্মিথের মতো বিখ্যাতদের সঙ্গে। এ সময়ই সেবার জাদুতে চার্লসের বোন হলিউড অভিনেত্রী রম্নথ ফোর্ডের মন জয় করেন তামাং।
তামাংকে যখন নেপাল থেকে আনা হয় তখন নিউইয়র্কের ডাকোটা ভবনের পাঁচতলার একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন ফোর্ড পরিবার। কর্মদৰতা আর বিশ্বসত্মতার কারণে তামাং হয়ে উঠে ফোর্ড পরিবারের পোষ্যপুত্র। এরই মধ্যে শিখে ফেলেন ফরাসী ভাষা। প্রথমদিকে ভাই হেনরির সেবায় নিয়োজিত থাকলেও অসুস্থ, দৃষ্টি ও শ্রবণ শক্তিহীন বোন রম্নথ ফোর্ডের সেবার দায়িত্বে ঝুঁকে পড়েন তামাং। ২০০২ সালে মারা যান হেনরি। তারপর টানা কয়েক বছর কোন ছুটি ছাড়াই পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে রম্নথের দেখাশোনা থেকে শুরম্ন করে যাবতীয় কাজ করেন। গত বছরের আগস্টে ৯৮ বছর বয়সে মারা যান রম্নথ ফোর্ড। এর আগেই যাবতীয় সম্পদ উইল করে যান তামাংয়ের নামে। আর সে সুবাদে তামাং এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল পার্কের ডাকোটা ভবনের দুটো অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। সঙ্গে আছে রাশিয়ার শিল্পকর্মের বড় সংগ্রহ। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে আট কোটি ডলারের মালিক তামাং। অথচ দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের জন্য কিছুই রেখে যাননি রম্নথ। অবশ্য রম্নথের শেষ দিনগুলোয় মেয়েরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও রাখেননি। ফোর্ড পরিবারের শিল্পকর্ম, লেখা, চলচ্চিত্র নিয়ে একটি সংগ্রহশালা করার কথা জানিয়েছেন তামাং। এছাড়া ফোর্ড ও তাঁর আলোকচিত্র নিয়ে প্যারিসে ও নিউইয়র্কে অচিরেই একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন তামাং। তবে সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে তামাংকে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি তা কিন্তু নয়। রম্নথের বড় মেয়ে শেলি স্কটের সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তাঁর আইনজীবী। ্তুদ্য বাটলার ডিড ইট্থ শিরোনামে ্তুওয়াল স্ট্রিট জার্নাল্থ-এ একটি একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপরই নজর কাড়েন তামাং। তামাং তাঁর নেপালি সংস্কৃতির জন্য গর্ব করেন। কেননা এ সংস্কৃতির মন্ত্র হচ্ছে, যদি পরিশ্রম কর ও সৎ হও, তবে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করবে, যা ভালো কিছু বয়ে আনবেই।
এস এম নাজমুল হক ইমন