মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১১, ২৪ আষাঢ় ১৪১৮
তারকা ভাইরাস!
ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়ায় ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকম ভাইরাস। বিভিন্ন সময় খ্যাতির শীর্ষে থাকা এবং তুমুল জনপ্রিয় কোন বিষয় নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ছড়িয়ে দেয় ভাইরাস। তারকা এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে এবং তাদের বিষয় নিয়ে ইন্টারনেটের বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করলেই কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে এসব ক্ষতিকর প্রোগ্রাম। তারপর ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য চুরিসহ কম্পিউটারের পুরো সিস্টেমও অনেক সময় অচল করে দেয়। আসুন জেনে নেই জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ছড়ানো এমনই কিছু ভাইরাস সম্পর্কে।

বেঁচে আছেন বিন লাদেন !
যুক্তরাষ্ট্রের এলিট বাহিনীর হাতে সমপ্রতি নিহত হন আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন। তার মৃতু্যর খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই সাইবার অপরাধীরা ছড়াতে থাকে তার নামধারী ভাইরাস। কোন কোন লিংকে বলা হয়, এখানে ক্লিক করলে দেখা যাবে লাদেনের মৃতু্যর সময়ের ছবি এবং ভিডিও। তার লাশের ছবি বিষয়েও বেশ কিছু ভাইরাস রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী জানিয়েছে, লাদেনের লাশের কোন ছবি বা ভিডিও তারা প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ওসামা বিন লাদেনের মৃতু্যর সময়ের ছবি বা ভিডিও খোলার ব্যাপারে সচেতন হবার কথা জানিয়েছে কম্পিউটার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস-এর বিশেষজ্ঞরাও। লাদেনের মৃতু্যর বিষয়ে মানুষের কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা এ ম্যালওয়্যার ছড়ানোর সুযোগ নিয়েছিল। ওসামা ভাইরাস বিষয়ে বলা হয়েছে, এ ভাইরাস যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একবার সিস্টেমে ঢুকে গেলে কম্পিউটারে পাকাপোক্তভাবে নিজের জায়গা করে নিতে পারে। কম্পিউটার সিস্টেমে একের পর এক হামলা চালিয়ে যেতে পারে।

পামেলা এন্ডারসন ভাইরাস
এটি মূলত এক্সিকিউটেবল (বা ইএঙ্ই) ফাইল। গস্ন্যামার জগতে পামেলার খ্যাতি কাজে লাগিয়ে তার নামে ইএঙ্ই ফাইল বানিয়ে ভাইরাস ছড়ানোর কাজ করেছে সাইবার অপরাধীরা। পামেলা ভাইরাসে ক্লিক করলে এটি অপারেটিং সিস্টেমে ঢুকে যায় এবং কম্পিউটারে গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশসহ ফাইল চুরি করা এই ভাইরাসের প্রধান কাজ।

পপ কিংও হাজির ভাইরাসে!
প্রয়াত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের গান, ছবি এবং মিউজিক ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে এই ভাইরাস। ভাইরাসটি জ্যাকসনের মৃতু্যর পর ছড়িয়ে পড়েছিল সবচেয়ে বেশি। পপ সম্রাটের জনপ্রিয়তা পুঁজি করে ইমেইল-এর মাধ্যমে কম্পিউটারে নিজের জায়গা করে নিতে নেয় এই ভাইরাস। তারপর নিজে থেকেই কম্পিউটারে মধ্যে কপি হয়ে অন্যান্য কম্পিউটারেও ছড়িয়ে পড়তে শুরম্ন করে।

কুর্নিকোভা ভাইরাস
টেনিস এবং ফ্যাশন দুনিয়ায় আনা কুর্নিকোভা সুপারস্টার। তার জনপ্রিয়তা পুঁজি করেও ভাইরাস ছড়িয়েছে। তার নামের ভাইরাস প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় ২০০১ সালে। টেনিস তারকার ছদ্মবেশে কম্পিউটারে ঢুকে সরাসরি আক্রমণ করে বসে উইন্ডোজ ডিরেক্টরিতে। এটি উইন্ডোজ আক্রমণ করে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ আউটলুক অ্যাড্রেস বুক ব্যবহার করে। এছাড়া অন্যান্য কম্পিউটারেও মেইল হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ব্রিটনি স্পিয়ার্স ভাইরাস
'হিট মি বেবি ওয়ান মোর টাইম' খ্যাত পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স সচরাচর সংবাদের শিরোনাম হন। তাকে ঘিরে প্রায়ই কোন না কোন ঘটন-অঘটনের সংবাদ ছাপা হয়ে থাকে। তার নামের ভাইরাস যে কোন সময় হিট করে বসতে পারে আপনার পিসি। ২০০২ সালে ইন্টারনেটে ব্রিটনি'র ছবির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভিবিএস/ব্রিটনি- নামের এই ভাইরাস কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়।

নতুন সেনসেশন 'মাইলি সাইরাস'
মাইলি.ইএঙ্ই নামের এ ভাইরাস পপ তারকা মাইলি সাইরাসের 'সি ইউ এগেইন' গানটি শোনার সুযোগ দেয় ব্যবহারকারীদের। এরপর সে সুযোগে কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে কম্পিউটার অচল করে দেয়। পরে এটি কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলতে হিমশিম খেতে হয় ব্যবহারকারীদের।

ভাইরাস এ্যাঞ্জেলিনা জোলি!
হলিউডি তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি'র নামে এই ভাইরাস মূলত ট্রোজান ফাইল। ২০০৮ সালে এই ভাইরাস প্রসার লাভ করে। 'এই মেইলে জোলির নু্যড ছবি আছে' এমন মেইলে ক্লিক করলে এই ভাইরাস কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে। প্রথমেই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারকে অচল করে নিজে নিজে নতুন প্রোগ্রাম সাজাতে শুরম্ন করে এই ভাইরাস।

হ্যারি পটার ভাইরাস
হ্যারি পটার-এর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এই ভাইরাস খুব নাটকীয়ভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করে। 'হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হলোস' প্রি রিলিজ হয়েছে এমন খবর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে একটি ডক ফাইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অনায়াসে এটি তার রাজত্ব শুরম্ন করে। এই ভাইরাস প্রথম নজরে আসে ২০০৭ সালে। ভাইরাসটিতে হ্যারি পটার-এর দুই বন্ধু হারমিওন, গ্রেঞ্জার ও রন উইসলির ছবি এবং ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। হ্যারি-পটার ভক্তরা যারা এই ভিডিও ফাইল দেখার জন্য ক্লিক করেছেন তাদের ইন্টারনেটের হোম পেজকে অন্য একটি ওয়েবসাইট এ নিয়ে যায়। যেখানে নকল হ্যারি পটার উপন্যাসটির একটি মোড়কও দেখানো হয়। এটিও ডাউনলোড করার নির্দেশ করে ভাইরাস।

জেনিফার এ্যানিস্টোন স্ক্রিনসেভার ট্রোজান
অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টোন-এর স্ক্রিনসেভার ডাউনলোড করার জন্য আবেদন করে এই ভাইরাস। এই স্ক্রিনসেভারে ক্লিক করা হলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে এই ভাইরাস ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করতেই থাকে। এটি মূলত ট্রোজান ভাইরাস। সাধারণ সফটওয়্যার ডাউনলোড কিংবা অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যানের আদলে এই ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়।

বিয়ন্সি নোয়েলস রিংটোন ভাইরাস
বিয়ন্সি নোয়েলস-এর রিংটোন ডাউনলোড-এর আবেদন জানিয়ে ভাইরাস নিজেও ডাউনলোড হয় ব্যবহারকারীর অজানত্মেই। এই ভাইরাস ব্যাংক-এর গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য এমনকি পাসওয়ার্ড চুরি করে নিতে পারে।
সাতসতেরো প্রতিবেদক