মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১১, ৯ বৈশাখ ১৪১৮
কালোজিরা
সর্বরোগের মহৌষধ
কালোজিরা বা কালিজিরা এমন একটি ঔষধি ভেষজ যাকে বলা হয়, "সর্বরোগের মহৌষধ"। রোগ নিরাময়ে এই ভেষজটি গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কালেজিরার বৈজ্ঞানিক নাম_ ুঘরমবষষধ ঝধঃরাধ খরহহচ্। প্রাপ্তিস্থান দৰিণপূর্ব এশিয়া। 'নাইজেলা' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'নাইজেলাস' বা 'নাইগার' শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ কালো। প্রাচীনকালে রোমীয়রা রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করত। আর গ্রীকরা ব্যবহার করত ঔষধি ভেষজ হিসেবে। পরবতর্ীতে পারস্য ও ভারতেও এর ব্যবহার চালু হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রখ্যাত মুসলিম মণীষী ইবনে সিনা কালোজিরা সম্পর্কে বলেছেন_ এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে, ক্লানত্মি দূর করে, উদ্যম ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রোগের কার্যকর ঔষধ হিসেবে কালোজিরা ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন কালোজিরা ব্যবহারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ৰমতা বৃদ্ধি পায়। বিগত শতাব্দীতে মিসর, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্টসহ বিভিন্ন দেশে এই ভেষজটির ওপর গবেষণা করা হয়। কালিজিরার অন্যতম প্রধান কার্যকরী উপাদানসমূহ হচ্ছে_ নাইজেলোন, থাইমোকুইনোলাইন, ডাই থাইমোকুইনোন, সেপোনিন ইত্যাদি। থাইমোকুইনোন একটি শক্তিশালী এ্যান্টিঅঙ্েিডন্ট, যা শরীরে প্রতিনিয়ত উৎপন্ন হওয়া ৰতিকর ফ্রি র্যাডিকেল দূর করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে , এর কার্যকরী উপাদান থাইমোকুইনোলাইন এবং ডাই থাইমোকুইনোন উভয়ই টিউমার কোষের বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে ফ্রি র্যাডিকেল বা মুক্তমূলক।

কালোজিরার ভেষজ গুণ
১. হৃদরোগ ও বস্নাড ভেসেল স্টেনোসিসের ৰেত্রে কালোজিরা ও রসুন নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে। এছাড়া শিরা ধমনীর চর্বিকেও গলিয়ে বের করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরা ইঁদুরের রক্তের কোলেস্টেরল ঐউখ বৃদ্ধি করে ও মন্দ কোলেস্টেরল খউখ কমায় ও এটি ট্রাইগিস্নসারাইড ও ঞড়ঃধষ ঈযড়ষবংঃবৎড়ষ ও কমায়।
২.কালিজিরা স্নায়ুবিক দুর্বলতায় বিশেষ উপকারী। এটি মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়তা করে। এটি মানবদেহের খাদ্যনালী থেকে গস্নুকোজ শোষণ কমায় ও শরীরে গস্নুকোজ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। কালিজিরা কৃমিনাশক, দনত্মৰয় রোধক, এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাসজনিত পেট ব্যথা ইত্যাদি নিরাময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। অধিক ঋতুস্রাবের জন্যও এটি উপকারী।
৩.কালিজিরার তেল অত্যনত্ম উপকারী দু'টি উপাদান হচ্ছে_ নাইজেলোন এবং থাইমোকুইনোন। নাইজেলোন শ্বাসনালীর প্রদাহে কার্যকর। এটি শ্বাসনালীকে প্রশসত্ম করে। এতে রয়েছে এ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় কর্মৰমতা, যা এলার্জির লৰণ কমায়। থাইমোকুইনোনের আছে ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর গুণ। নাইজেলোন ও থাইমোকুইনোন_ এ দুই মিলে শ্বাসতন্ত্রের অনেক অসুখেই কালোজিরা কার্যকর। এছাড়াও, এটি রম্নচিবর্ধক, গর্ভপাতরোধক, দনত্মৰয় রোধ করে এবং মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৪.কালিজিরায় রয়েছে শতাধিক পুষ্টিকর উপাদান। এতে আছে_ প্রায় ২১% প্রোটিন, ৩৮% শর্করা এবং ৩৫% তেল। এ ছাড়াও এতে আছে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-সি। কালিজিরার তেলে আছে ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি এ্যাসিড ও আরও অন্য পুষ্টিকর উপাদান।

কারিশমা কাস্তুরী