মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৬
অস্ত্র পাচারের নিরাপদ ট্রানজিট বান্দরবান চন্দ্রঘোনা-সড়ক
কাপ্তাই সংবাদদাতা ॥ অবৈধ অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বান্দরবান-কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা ও চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক। বান্দরবান সীমান্ন্তের সাথে রাজভিলা, সাঙ্গু ও রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত অস্ত্র গোলাবারম্নদ ঢুকছে বলে ঘোরতর অভিযোগ উঠেছে। গত তিন মাসের ব্যবধানে চন্দ্রঘোনা এলাকার কোদালা ও জিয়া মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে স্থানীয় ডংছড়ি ক্যাম্পের বিডিআর জোয়ানরা বেশ কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা থানায় জমা দিয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিক জানান, বিডিআর জোয়ানরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেসব অস্ত্র থানায় জমা দিয়েছে। তবে চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়ক দিয়ে অস্ত্র পাচারের ঘটনা ঘটছে কিনা তা তার জানা নেই।
এদিকে, বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রম্নমু, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সীমানত্ম দিয়ে দেশে আসা এসব অবৈধ অস্ত্র এ সড়ক দিয়ে পাচার হচ্ছে। ফলে বান্দরবান ও পাশর্্ববতর্ী এলাকা ছাড়াও পুরো চট্টগ্রামের অপরাধীদের অস্ত্রের ভান্ডারে মজুদ বাড়ছে। এর সুবাদে উঠতি বয়সী সন্ত্রাসীরাও খুব সহজে হাতে পেয়ে যাচ্ছে ভয়ংকর অস্ত্র। আর এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ডাকাতির কাজে। সীমানত্ম দিয়ে এখন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকছে বলে জানা গেছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডার, উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রম্নপ ছাড়াও বিদেশী চক্র জড়িত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিড়িআর সতর্ক অবস্থান থাকলেও অবৈধ অস্ত্র পাচারকারী চক্র দুর্গম পাহাড়ী পথে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। চন্দ্রঘোনা সিকদার পাড়ার প্রবাসী মোঃ সেকান্দার বলেন, গত ১৩ নবেম্বর তার বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ডাকাতরা ডাকাতি করার সময় একে-৪৭সহ বিদেশী বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করে। ডাকাতির ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ চারজন আনত্মঃজেলার ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করলেও অস্ত্র-গোলাবারম্নুদ উদ্ধার করতে সম হয়নি।
ভিন্ন একটি সূত্র মতে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মদক, ছোট মদক. রম্নমার উপজেলার তীন্দু, রেমাক্রী, চাকমা ঝিরি, পাইন্দু, রোয়াংছড়ির রাই্যংমৌজা, লেম্বুঝিরি, তারাছা মৌজা, রবিন পাড়াসহ সীমা্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবাধে অবৈধ অস্ত্র দেশে ঢুকছে।