মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৬
বান্দরবানে ৩০ অবৈধ ব্রিকফিল্ড ॥ প্রতিদিন পুড়ছে শত শত মণ কাঠ
বান্দরবান সংবাদদাতা ॥ বান্দরবানে পরিবেশ সনদ ও লাইসেন্স ছাড়া সরকারী আইন লঙ্ঘন করে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ও বন ধ্বংস করে পোড়ানো হচ্ছে ইটভাঁটিতে। বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এদের বিরম্নদ্ধে রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। লামা উপজেলা আজিজনগর ইউনিয়নের ফাইতং এলাকার এক ব্রিকফিল্ড ম্যানেজার জানান, আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেছি। সাংবাদিকদের লেখালেখিতে কোন কিছু হবে না।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী বান্দরবানে ৩৩টি ইটভাঁটি সরকারের অনুমতি গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে বান্দরবান সদরের সব ক'টি ইটভাঁটির সরকারী লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র থাকলেও সরকারী হিসাব মতে আরও অনত্মত ২১টি ব্রিকফিল্ডে কোন লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তবে বেসরকারী হিসেবে অবৈধ ব্রিকফিল্ডের সংখ্যা ৩০টির কম নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ইটভাঁটির জন্য যেভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে ও ইট পোড়াতে বন ধ্বংস করা হচ্ছে_ একদিন দেখা যাবে বান্দরবানের সব বন উজাড় হয়ে গেছে। রাসত্মাঘাট উন্নয়নে ইটের প্রয়োজন রয়েছে, তাই বলে অবৈধভাবে ব্যাপকহারে ইটভাঁটি তৈরি করে নয়। প্রশাসনের নীরব সম্মতির কারণে ইটভাঁটির মালিকরা আইন অমান্য করে পাহাড় কাটছে ও বন ধ্বংস করছে। সূত্রে জানা যায়, জেলার লামা, আলীকদম ও নাই্যংছড়িতে প্রায় ৩০টির অধিক ইটভাঁটিতে নির্বিচারে পাহাড় কেটে, বন ধ্বংস করে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সরকারী হিসাবে এসব উপজেলায় বৈধ একটিও ইটভাঁটি না থাকলেও প্রশাসন এই ব্যাপারে কোন প্রদপে গ্রহণ করছে না বলে এলাকার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিগণের অভিযোগ।
পর্যবেৰণে দেখা যায়, এখন ইট তৈরির মওসুম হওয়ায় প্রতিদিন বন থেকে অবাধে ইটভাঁটির জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ফখরম্নল ইসলাম, আজম খান, আবদুল কুদ্দুস, আমির হামজা, বেলাল, দিদার মৌলভীর নেতৃত্বে লামা, আলীকদম ও নাইৰ্যংছড়িতে অবৈধ ব্রিকফিল্ড করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। অব্যাহত রয়েছে সরকারী বনাঞ্চল ধ্বংস করে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম। সরকারী আইনে ইটভাঁটি করার জন্য জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি, পরিবেশ অধিদফতর থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র এবং দু'শ' ফুট বয়লার চিমনি করার কথা থাকলেও তার একটিও এ তিন উপজেলায় মানা হচ্ছে না। তা ছাড়া জনবসতির কাছে, সরকারী বনাঞ্চলের পাশে ও স্কুলের কাছে কোনো ইটভাঁটি করা না গেলেও তার একটিও মানছে না এসব বন ধ্বংসকারী ইটভাঁটির মালিকরা।