মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৬
নির্বিচারে পাহাড় কাটা চলছে
কক্সবাজার সংবাদদাতা ॥ কক্সবাজার শহরের কলাতলীর দশটি স্পটে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে চিহ্নিত একদল পাহাড় ধবংসকারী। এসব পাহাড় ধবংসকারীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর না বুঝে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিত্তবান লোকেরা পাহাড় কাটা প্লট কিংবা ভিটা জমি ক্রয় করে নানা মামলা হামলার স্বীকার হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পাহাড় কাটা বিরোধী অভিযান বন্ধ হওয়ায় চিহ্নিত পাহাড় ধবংসকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন কলাতলীর বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, দণি আদর্শ গ্রামের অনত্মত ১০টি স্পটে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে পাহাড় ধবংসকারীরা শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে পস্নট ও ভিটে তৈরী করছে। এ সময় উক্ত এলাকায় শহরতলীর খরম্নলিয়ার বুলবুল আক্তার নামক এক মহিলার সঙ্গে কথা বললে সে শহরের কলাতলীস্থ হোটেল মোটেল জোনে অবস্থিত সুগন্ধা গেস্ট হাউসের ম্যানেজার রহমত উলস্নাহর বাড়ির পাহারাদার বলে পরিচয় দেয়। সে উক্ত ম্যানেজার কতর্ৃক ঐ পাহাড়ে থাকা জায়গা ও বাড়ির পাহারাদার হিসেবে রয়েছে বলে জানায়। পাহাড় কেটে বিশাল সমতল জমিতে পরিণত করছে আরও বেশ কজন শ্রমিক। অপরদিকে এলাকার মসজিদের উত্তর পাশেসহ অনত্মত ১০টি স্পটে নির্বিচারে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ মাটি কেটে বসতভিটা ও পস্নট তৈরি করতে দেখা যায়।
দণি আদর্শ গ্রামে বসবাসকারী বৃদ্ধ লালু, আব্দুর রহমান, জ্যোৎস্না আক্তার, খোকন, শামসু, কহিনুর আক্তার ও সখিনা বেগমসহ বেশ ক'জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এলাকায় বসবাসকারী বরিশালের বাসিন্দা মোজাম্মেল, একই এলাকার বহু মামলার পলাতক আসামী জাগের হোসেনের পুত্র পেঠান ও রহমত উলস্নাহ এবং মোহাম্মদ উলস্নাহ ও ছৈয়দুল হকের নেতৃত্বে দীর্ঘ একমাস ধরে পাহাড় কাটা চলছে। ফলে পুরো এলাকার মানুষ বড় ধরনের আশংকায় ভুগছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, একমাস পূর্বে যখন উক্ত মোজাম্মেলের নেতৃত্বে পাহাড় কাটা শুরম্ন হয় সে সময় তাকে বারণ করা হলে সে নিজেকে স্থানীয় জাতীয় পার্টির এক নেতার ভাই পরিচয় দেয় এবং এলাকার মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়াবে বলে হুমকি দেয়। পরবতর্ীতে সে মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন মানুষকে হয়রানি করেছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে। প্রকাশ্যে প্রায় একমাস ধরে অব্যাহত পাহাড় কাটা হলেও জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারী কোনো প্রশাসনই তা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধ করতে পাহাড় ধবংসকারীদের বিরম্নদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় ধবংসকারীদের বিরম্নদ্ধে কোনো প্রকার আপোস করবেনা পুলিশ। পাহাড় ধবংসকারী ও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে অবশ্যই শাসত্মিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কলাতলী দণি আদর্শ গ্রামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুতরাং দ্রম্নত ঐ সকল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাহাড় ধবংসকারীদের বিরম্নদ্ধে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা পাহাড় ধবংসকারীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের প্রতিশ্রুতি মূলত কার্যালয়ের বাইরে সাড়া পাচ্ছে না। শীঘ্রই এই পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে পরিবেশের মহাবিপর্যয় হওয়ার আশংকা রয়েছে।