মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী ২০১১, ২১ পৌষ ১৪১৭
গোয়েন্দাগিরি থেকে সেলুলয়েডে
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বার্গার কূটনীতি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে বেশ আলোচনায় নিয়ে আসে। সেই সময় পরমাণু নিরস্ত্রকরণে প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকার প্রশংসায় ব্যতিব্যস্ত ছিল বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো। তবে সফরের কিছু দিন পর ২০১০ সালের ২৭ জুন সেই খবরকে ছাপিয়ে উঠে আসে এক ভিন্ন সংবাদ। যুক্তরাষ্ট্রে গুপ্তচর বৃত্তির দায়ে দশজন রাশিয়ান গ্রেফতার। আর আটককৃত গোয়েন্দাদের মধ্যে অন্যতম হলো এক অপরূপ সুন্দরী নারী, যার নাম আনা চ্যাপমান। এ যেন বাস্তব জীবনে হলিউড ছায়াছবির সল্টের ভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেত্রী এ্যাঞ্জেলা জোলি।
আনা ভেসিলয়েভনা কুসিয়ানকো জন্মগ্রহণ করেন রাশিয়ার ভলগোগ্রাডে। পিতা ছিলেন প্রাক্তন সোভিয়েত গোয়েন্দা কর্মকর্তা। পিতার কর্মসূত্রে আনাকে বেশ কিছুদিন কেনিয়ার নাইরোবিতে থাকতে হয়।
এরপর আনা স্নায়ুযুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম প্রতিপৰ ব্রিটেনে বসবাস শুরম্ন করেন। ব্যাংকসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে এই রমনী কর্মরত ছিলেন। তবে গোয়েন্দাগিরির প্রয়োজনেই তাকে ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন করতে হয়। ব্রিটেনে আনা আলেঙ্ চ্যাপমান নামে একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন এবং সেই সুবাদে ব্রিটিশ পাসপোর্ট লাভ করেন। ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়া আনার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যায়। ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর হতে চ্যাপমান মার্কিন রাষ্ট্রের অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য নিজ দেশ রাশিয়াকে সরবরাহ করতেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর গোয়েন্দাগিরির পর অবশেষে মার্কিন কর্তৃপৰের হাতে ধরা পড়েন এই রম্নশ সুন্দরী।
গ্রেফতার হওয়ার পর অন্য সব গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।
আর এর পর শুরম্ন হয় তার দ্বিতীয় ইনিংস। ইতোমধ্যে রাশিয়ার মিডিয়ায় বেশ কাভারেজ পায় এই গোয়েন্দা। পাশাপাশি পুতিনের আশীর্বাদ তো রইলোই। প্রধানমন্ত্রী ভস্নাদিমির পুতিন রাশিয়ার তরম্নণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে আনাকে রাজনীতিতে আমন্ত্রণ জানান। তবে মজার খবরটি হলো এইবার গোয়েন্দা চ্যাপমান একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন বছরের শেষ দিন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে আনাকে একটি সিংহশাবক উপহার দেয়া হয়।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ডের বিপরীতে রাশিয়ায় স্টিরলিটজ (ঝঃরৎষরঃু) বেশ জনপ্রিয় একটি চরিত্র। জার্মান নাজি বাহিনীর বিরম্নদ্ধে খবর সংগ্রহের অনেক মজাদার এই চরিত্রটির রূপকার ঈসায়েভ। সাদা কালো এই স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে (তিন মিনিট) দেখা যায় একটি ক্যাফেতে স্টিরলিটজ এবং চ্যাপমানের পরিচয় ঘটে। তবে তাদের মধ্যে কোন রকম বাক্য বিনিময় ঘটে না কিন্তু চোখাচোখি হয় পরস্পরের। ছবির শেষ দিকে চ্যাপমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, দওড়াব ংযড়ঁষফ হবাবৎ নব ধহ ঁহফবৎপড়াবৎ ংবপৎবফ্থ

ডি-প্রজন্ম প্রতিবেদক