মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী ২০১১, ২১ পৌষ ১৪১৭
উন্মোচনের তাড়না
আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া;
বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া ॥
এই-যে বিপুল ঢেউ লেগেছে তোর মাঝেতে উঠুক নেচে,
সকল পরান দিক না নাড়া ॥

বোস্-না ভ্রমর, এই নীলিমায় আপন লয়ে
অরুণ আলোর স্বর্ণরেণু মালা হয়ে।
সেখানেতে অগাধ ছুটি মেল সেথা তোর ডানা দুটি
সবার মাঝে পাবি সাড়া ॥
_ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

নিজেকে উন্মোচনের তাড়না সকলেরই থাকে। তবে ক'জনাইবা নিজেকে জানতে পারে। দেখতে পারে ভাবের আসল রহস্য। জগদ্বিখ্যাত মনীষীরা নিজের অনত্মর্দৃষ্টি দিয়ে সকল কিছু অবলোপন করতেন। তাই সৃষ্টি রহস্যের কিঞ্চিৎ ভেদ তাঁদের মাঝে ধরা দিয়েছে। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা অরণ্য কেবল তাদের কাছে দর্শনীয় কোন স্থান নয় বরং প্রাকৃতিক রূপকে এবং জগৎকে উপলব্ধি করবেন তাদের অনত্মর্দৃষ্টির দ্বারা।

দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষের দৃষ্টি দুই রকম_ বাহ্যদৃষ্টি এবং অনত্মদর্ৃষ্টি। বাহ্যদৃষ্টি দ্বারা আমরা সমুদ্র, নদী, অরণ্যের মাঝে ব্যবধান এবং বিশেস্নষণ করতে পারি। বাহ্যদৃষ্টি সর্বদা খ-িত, সাময়িক এবং গতানুগতিক। কেবল অনত্মদর্ৃষ্টিই পারে সেই খ-িত এবং গতানুগতিক ছবির পূর্ণতার ভাব ফুটিয়ে তুলতে। নিজেকে চেনা এবং জানার কথা গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন, কহড় িঃযু ংবষভ অর্থাৎ নিজেকে জান। নিজেকে চিনতে পারলেই সব বাঁধ খুলে যাবে বলে মনে করেন বিদ্রোহী কবি
নজরুল।

জীবন স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন_ "শিশুকাল হইতে কেবল চোখ দিয়া দেখাই অভ্যসত্ম হইয়া গিয়াছিল, আজ যেন একেবারে সমসত্ম চৈতন্য দিয়া দেখিতে আরম্ভ করিলাম। রাসত্মা দিয়া এক যুবক যখন আর এক যুবকের কাঁধে হাত দিয়া হাসিতে হাসিতে অবলীলাক্রমে চলিয়া যাইত সেটাকে আমি সামান্য ঘটনা বলিয়া মনে করিতে পারিতাম না বিশ্বজগতের অতলস্পর্শ গভীরতার মধ্যে যে অফুরান রসের উৎস চারদিকে হাসির ঝরনা করাইতেছে সেটাকে দেখিতে পাইতাম।"

কল্পনা এবং অভিজ্ঞতা
শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত্য কিংবা দর্শনের শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল কাজগুলো আসলে এক ধরনের অভিজ্ঞতার ফসল। তবে এর পাশাপাশি কল্পনা অত্যনত্ম জরম্নরী একটি বিষয়। বস্তুত, কল্পনাই মানুষকে উদ্ভাবনশীল করে তোলে। আইনস্টাইন তাই কল্পনার স্থান দিয়েছেন সবার উপরে। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এই বিজ্ঞানী বলেন, আমার ৰেত্রে যা হয়েছে তা হলো আমি বেশ কিছু কাজে ব্যর্থ হলেও কখনোই হতাশ হতাম না।
কারণ আমার কল্পনায় আমি দেখতে পেতাম আমার কাজের সাফল্য।
কল্পনার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকেই মানুষ তার দ্বান্দ্বিকতা দূর করে এবং সঠিক পথের সন্ধান পায়।

পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
মানুষের প্রতিটি ৰেত্রে পর্যবেৰণের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা সকলেই প্রতিদিন অনেক কিছুই দেখি কিন্তু লক্ষ করি না।
এই লক্ষ এবং উদ্দেশ্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি বস্তুত আমাদের মনের জগতে কোন পরিবর্তন আনে না। পর্যবেৰণ একজন মানুষের অভিজ্ঞতার ভা-ারকে সমৃদ্ধ করে। পর্যবেৰণের মাধ্যমেই মানুষ বস্তু জগতের বাহ্যিক রূপকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করে। আর এই উপলদ্ধিবোধ হতে সৃষ্টি হয় নতুন মানুষ।
ডি-প্রজন্ম প্রতিবেদক