মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০, ২৯ আষাঢ় ১৪১৭
দৃষ্টি কোন
অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রত্যাশায়
বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্য সকল ধর্মের সকল মানুষের। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত। এতে অন্য ধর্মের মানুষকে প্রতিহিংসার অশুভ চিনত্মা জন্ম দেয়। সকলের অধিকার পূরণের ভরসা থাকে না। গণতন্ত্র গতিরোধ হয়ে যায়।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শানত্মি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হতে শানত্মি, শৃঙ্খলা আর উন্নয়ন কতটা সম্ভব তা ভেবে দেখতে হয়। সাম্প্রদায়িকতা দেশপ্রেমের চেতনাকে ৰুণ্ন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সময়ের প্রয়োজনে তাই হয়েছিল। নিজ নিজ ধর্ম চর্চার জন্য মসজিদ, মন্দিরের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান অতি গুরম্নত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনৈতিক চর্চার জন্য সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কতটুকু। আমাদের দেশের মানুষ ধর্মভীরম্ন। ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তি উপকারভুগী রাজনীতি কেউ পছন্দ করে না। ধমর্ীয় ধ্যানধারণা এবং আদর্শ অসংখ্য নেতাকমর্ীর মধ্যে ফুটে ওঠা সহজ নয়। কেউ না কেউ নিজের ৰেত্রে ব্যবহার করবেই। পৃথিবীতে যারা মহান তারা অমরত্বলাভ করেছেন। তাদের ইতিহাস আমরা অতীতের ঘটনার বিবরণ হিসেবে দেখতে পাই। আমরা মাতৃভাষার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক স্বার্থেই করেছি। লাল ও সবুজের পতাকায় আমাদের সবার নাম লেখা আছে। বিশ্ব আজ অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার কথা বলে। দেশপ্রেমের মাহাত্ম্যে আমিও বিশ্বাস করি অসাম্প্রদায়িক উন্নয়নের শুভ চিনত্মা। আজ মহৎ রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবী সকলেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তাই আমাদের মনে রাখা উচিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে চলব। আর অসাম্প্রদায়িকতার বিপুল শক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে অনেক সুন্দর ও শানত্মিময় করব।

০ অপু চন্দ্র বসু