মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০, ২৯ আষাঢ় ১৪১৭
আবার হবে তো দেখা?
আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে এক গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানের একটি মধুর স্মৃতি আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এখনও। সাধারণত এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের মতো আমি খুব বেশি মাতামাতি করি না। এক কোণে বসে কে কি করে তা দেখতে আমার ভাল লাগে। মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে।
আমন্ত্রিত মেহমানদের জন্য বরাদ্দ আসনের এক কোণে বসে রইলাম। নানা সাজে সজ্জিত হয়ে মেহমানরা আসছেন। আনন্দঘন পরিবেশ। সবার মুখে মিষ্টি হাসির ঝিলিক। হৈ-চৈ, নাচ-গান, গল্প-আলাপ বেশ জমে উঠেছে। কনেকে তার নির্ধারিত আসনে বসানো হলো। কনেকে মিষ্টি মুখ করিয়ে আশীর্বাদের চিহ্ন স্বরূপ কপালে এঁকে দিচ্ছে কাঁচা হলুদের পরশ। পুরো চিত্রটাই সোনালি-রম্নপালি ফ্রেমে বন্দী করার কাজ চলছে। সবই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। গায়ে হলুদে আসা একটি মেয়ের প্রতি আমার নয়ন দুটো স্থির হয়ে গেল। শত চেষ্টাতেও তার দিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারছিলাম না। ফেরানোর বৃথা চেষ্টাও করিনি। তার প্রতি একটা টান অনুভব করলাম। সে যেন আমার অনেক কালের চেনা। এত মায়াভরা মুখ আর দেখিনি। আমি সত্যিই অবাক হলাম। তার সঙ্গে আসা সাথীরা যখন আনন্দ করছে, মেয়েটি তখনও চুপটি মেরে শানত্ম-সরলমনে অপরূপ ভঙ্গিমায় বসে আছে। তার পোশাকে নেই কোন বাড়াবাড়ি, নেই কোন আড়ম্বর। তার সাজে নেই অতিরঞ্জন। এক কথায় অসাধারণ। ভাবতে লাগলাম এই কি শরৎ বাবুর বিলাসী, নাকি রবিঠাকুরের হৈমনত্মি। এত ব্যক্তিত্ববান আর সহনশীল মেয়ে হতে পারে? তার কাজল কালো অাঁখি যুগল আর শ্যামল মায়াভরা মুখখানি কখন যে আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে এঁকে ফেললাম বুঝতেই পারলাম না।
ভাবনার নীল সীমানায় আমার মন দোল খেতে লাগল। আমার হৃদয়ে আনন্দের ঝরনাধারা প্রবাহিত হতে লাগল। হঠাৎ চমকে উঠলাম। অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম তাকে আর ফেললাম না। মন বিষণ্ন হয়ে উঠল। সবার অগোচরে চোখের পাতা ভিজে গেল। তার এঁকে দেয়া পরশ আর কোমলতা, শুভ্রতা এখনও প্রতি মুহূর্তে আমাকে ছুঁয়ে যায়। আনমনে এখনও আমি তাকেই ভাবি। তার স্মৃতিই বিচরণ করে আমার সমসত্ম হৃদয়জুড়ে। নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে কতবার বলেছি নুসরাত আমি তোমাকেই ভালোবাসি। তুমি কী শুনেছো? বল বন্ধু, আবার হবে তো দেখা কোন গৌধূলি লগ্নে?

০ শান্ত