মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
জলবায়ু সমস্যা সমাধানে নতুন পদক্ষেপ
জলবায়ু নীতি জ্বালানি ও বায়ু দূষণ সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংরৰণ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত করার সুষ্ঠু নীতি নেয়া হলে সেটা জ্বালানির স্থায়িত্ব অর্জন, বায়ু দূষণ হ্রাস করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন সাধনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। 'নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ' পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এ্যাপস্নাইড সিস্টেমস এনালিসিস (আইআইএএসএ)-এর বিজ্ঞানীদের রচিত এই নিবন্ধে অভিমত দেয়া হয়েছে, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে যেসব নীতি নেয়া হয় সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাব অন্যান্য ৰেত্রের ওপর এসে পড়ে। কারণ স্বভাবতই এসব নীতিতে জ্বালানি দৰতা ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি করার এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ জ্বালানি উৎস বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত ও বহুল পরিমাণে ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকে।
নিবন্ধের মূল লেখক ঐ সংস্থার ডেভিড ম্যাককোলাম বলেন, উচ্চাভিলাষী আবহাওয়া নীতি অনুসরণের একটা সুস্পষ্ট সুবিধা হলো এই যে, এসব নীতির পরিণতিতে অনেক উন্নত প্রযুক্তির আবির্ভাব হবে এবং বিশুদ্ধ জ্বালানি বেরিয়ে আসবে। এর যুগপৎ কিছু প্রভাব পড়বে অন্যত্র। কার্বন উদ্গীরণ শুধু যে কমবে তা নয়, একই সঙ্গে মানুষ ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর বায়ু দূষণকারী বিভিন্ন উপাদানও হ্রাস পাবে। উপরন্তু দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশে নিজ নিজ কঠোর আবহাওয়া নীতি একবার বলবৎ হয়ে গেলে কিছু শক্তিশালী মিশ্র ক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বায়ু দূষণ হ্রাস ও জ্বালানির লৰ্যমাত্রা অর্জনের সম্পূরক নীতিগুলোর বাড়তি খরচও কমে আসে উলেস্নখযোগ্য মাত্রায়। এই হ্রাসের পরিমাণ বিশ্বব্যাপী হতে পারে বার্ষিক বেশ কায়েক শ' কোটি ডলার কিংবা বৈশ্বিক জিডিপির এক শতাংশের অর্ধেক।
লেখকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় হবার অর্থ হচ্ছে এতে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রবাহ ঘটবে। তার মানে আজকের বিনিয়োগের প্রায় এক- তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ অর্থ জ্বালানি ব্যবস্থায় চলে আসবে। জলবায়ু সংরৰণ নীতির কারণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী যে অর্থ ব্যয় হবে সাশ্রয়প্রাপ্ত অর্থ তাকেও ছাড়িয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে বেশ কয়েক দশক ধরে এই অবস্থাই চলবে।
জ্বালানির স্থায়িত্ব অর্জন, বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নতি বিধান করা এই তিনটি গুরম্নত্বপূর্ণ লৰ্য অর্জিত হলে এর আনুষঙ্গিক আরও অনেক সুবিধা আছে যার অর্থ মূল্য অনেক বেশি। যেমন এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমবে এবং মানুষের আয়ু যাবে বেড়ে। বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে এর তাৎপর্য অপরিসীম। যেমন এর ফলে উদ্ভিদের ইউট্রোফিকেশন ও এসিডিফিকেশনজনিত ৰতির পরিমাণ কমবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ভতর্ুকিও হ্রাস পাবে। একটা সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে টেকসই জ্বালানি নীতিগুলোকে সমন্বিত করা হলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাবে।
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক
সূত্র : ন্যাচার সায়েন্স