মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ডলফিনের অভয়াশ্রম হবে সুন্দরবন
ইব্রাহিম নোমান
বিশ্বের বিলুপ্ত প্রজাতির ইরাবতি ডলফিনের নতুন চারণক্ষেত্র এখন বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায়। সুন্দরবন উপকূল ও বঙ্গোপসাগরের সোয়াস অব নো গ্রাইন্ডসহ ১২০ কি.মি. পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে রয়েছে ৫ হাজার ৪০০টি ইরাবতি ও অন্য ৬ প্রজাতির ডলফিন। অবশেষে এই ডলফিন রক্ষায় এগিয়ে এসেছে সুন্দরবন বিভাগ। সুন্দরবনের তিনটি এলাকার ৩১ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদী ও খালকে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে এই অভয়াশ্রম ঘোষণা করবে বলে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মিহির কুমার দে জানান, আড়াই বছর আগে ওয়ার্ল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, এনওয়াই ও বাংলাদেশ সিটাসিন ডাইভারসিটি প্রজেক্টের দেশী-বিদেশী প্রাণী বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে সুন্দরবনসহ বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে বিলুপ্ত প্রজাতির ইরাবতিসহ ৬ প্রকার ডলফিন ও হোয়েল প্রজাতির ১ রকমের তিমির সন্ধান পায়। এরপর 'প্রটেক্টটেড এরিয়ার নেটওয়ার্ক ফর সিটাসিন ডাইভারসিটি (প্যানসিডি) নামে একটি প্রকল্প তৈরি করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। ডলফিন রক্ষায় প্যানসিডি প্রকল্প বাসত্মবায়নে সুন্দরবনের পূর্ব-উত্তর কোণে ঘাগরামারী ক্যাম্প হতে ঢাংমারী স্টেশন হয়ে করমজল পেট্রোল পোস্ট পর্যনত্ম ১০ কিলোমিটার চ্যানেল, মংলা বন্দরের নিচে সুন্দরবনের জোংড়া পেট্রোল পোস্ট থেকে পশুর নদী হয়ে নন্দবালা, মিরাগামারী ক্যাম্প বরাবর শ্যাওলা নদী দিয়ে আন্ধারমানিক ক্যাম্প পর্যন্ত উরুবুনিয়া খাল হয়ে চাঁদপাই খাল থেকে ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার চ্যানেল, দুধমুখী ক্যাম্প-সংলগ্ন খালের ২ কিলোমিটার উত্তরে বেতমার খাল থেকে বড়শিয়ালা খাল ও দক্ষিণে ভোলা নদী পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার অর্থাৎ সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদী, খাল চ্যানেলে অচিরেই ফাঁস জাল, কারেন্ট জাল, নেট জাল, বেন্দী জাল ও রেণু পোনা ধরা জাল নিষিদ্ধ করে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। মিহির কুমার দে জানান, সুন্দরবনসহ উপকূলে ডলফিনের সন্ধান মেলায় গত আড়াই বছর ধরে পূর্ব সুন্দরবনে ইকো-টু্যরিজমে রেকর্ডসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসছে। এ সংখ্যা প্রতিবছরই অতীতের রেকর্ড ভাঙছে। শুধু পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ পর্যটন খাত থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করছে। গত পর্যটন মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনে দেশী-বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ছিল দুই লক্ষাধিক।
ইরাবতি ছাড়াও সুন্দরবনে অন্য ডলফিনের মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসেফিক হাম্প ব্যাক্ট, ফিনলেজ, ইন্দো-প্যাসেফিক বটলনোস, স্পিনার, স্পটেড ও গংগেজ রিভার ডলফিন। এ ছাড়া ব্রাইডস হোয়েলস নামের এক প্রজাতির তিমি রয়েছে এখানে। বঙ্গোপসাগরসহ সুন্দরবনের নদ-নদীর পানি, পানির উষ্ণতা ইরাবতি ডলফিনের বংশ বৃদ্ধির জন্য খুবই সহায়ক। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এ এলাকায় চিংড়ির রেণু পোনা আহরণে কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে ইরাবতি ডলফিনের বংশ বৃদ্ধি এখন চরম হুমকির মুখে পড়ায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুন্দরবনের ৩টি এলাকাকে ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করবে।