মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৫ জুলাই ২০১৪, ২১ আষাঢ় ১৪২১
নেই রক্ষণাবেক্ষণ ধ্বংসের পথে ঝিনাইদহের হেরিটেজ
ঝিনাইদহ জেলায় হেরিটেজ ভবনাদি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ব্রিটিশ হেরিটেজ নীলকুঠি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্রিটিশ হেরিটেজ টিকে আছে। তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ভবনের আকর্ষণ আছে।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবার সিরাজ-উদ্ দৌল্লার পতনের পর ব্রিটিশরা এ দেশের ক্ষমতায় বসে। দলে দলে সাহেবরা ভাগ্য পরির্তনের আশায় এ দেশে আসতে থাকে। নীল চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় সাহেবগণ চাষে নেমে পড়ে। শুরু হয় চাষিদের ওপর চরম অত্যাচার-নির্য়াতন। ঝিনাইদহ, নদীয়া (বর্তমানে ভারত) ও রাজশাহী জেলায় নীলকুঠি গড়ে তোলে তারা। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে চাষিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। বিদ্রোহীরা নীলকুঠি আক্রমণ করে পুড়িয়ে দিতে থাকে। কৃতিম নীলের আবিষ্কার হলে ব্যবসায় ভাটা পড়ে। ইংরেজ সাহেবরা এ দেশীয় জমিদারদের কাছে কুঠি বিক্রি করে বা ফেলে রেখে চলে যায়। ওই সময় ঝিনাইদহ জেলাতে অন্তত ১০টি নীলকুঠি ছিল। খালিশপুর নীলকুঠি বাদে সবগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক একর জমির ওপর নির্মিত এ নীলকুঠিটি টিকে আছে। তবে ধ্বংসের পথে। কুঠি ও সংলগ্ন জমির মালিক এখন সরকার। কপোতাক্ষ পাড়ের এ কুঠিটি সংষ্কার করে সুন্দর একটি পিকনিক কর্নার বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়। বর্তমানে কুঠির জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরে আছে ম্যাকলিউড সাহেবদের বাড়ি। যা সাহেববাড়ি নামে পরিচিত। বর্তমানে বাড়িটি কোটচাঁদপুর হাইস্কুলের দখলে। ওই বাড়িটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। এ ভবনটি সংষ্কার করার মতো অর্থ স্কুলের নেই। এটিও হেরিটেজ ভবন ঘোষণার দাবি স্থানীয়দের।
ঝিনাইদহ শহরের ব্রিটিশদের চিহ্নগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। মহকুমা স্থাপনের পর নবগঙ্গা নদী তীরে ফৌজদারি ও দেওয়ানী আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়। ফৌজদারি আদালত ভবন ও ট্রেজারি ধ্বংস হয়ে গেছে। একমাত্র দেওয়ানী আদালত ভবনটি টিকে আছে। ঝিনাইদহ জেলা গঠনের পর এ ভবনে জেলা জজ আদালতের কাজ চলত। তারপর সাব রেজিস্ট্রার অফিস স্থাপন করা হয়। এরপর এটি নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমানে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসেকদের কেউ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নদীর পাশ ঘেষে দু’সারি দেবদারু গাছ লাগিয়ে ছিলেন। সেই গাছগুলোর মধ্যে বেশ কিছু নষ্ট হে গেলেও এখনও অনেকগুলো দেবদারু গাছ টিকে আছে। যা দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণ করে তোলার জন্য এই হেরিটেজ ভবনগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
-এম. রায়হান, ঝিনাইদহ থেকে