মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ জুন ২০১৪, ১৪ আষাঢ় ১৪২১
হাঁসের খামারে ভাগ্য বদল এক দিনমজুরের
হাঁসের খামারে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন দিনমজুর শামছুল হক (৪৫)। শামছুল হক শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাগেরভিটা গ্রামের আমের আলীর ছেলে। এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ ৬ সদস্যের পরিবার শামছুল হকের। দিনমজুরী করে চলত তার সংসার। একদিন কাজে না গেলে সেদিন তার ঘরে চুলা জ্বলত না। অনাহারে থাকতে হতো পরিবারের সদস্যদের। হাঁসের খামারে শামছুল হক এখন কেবল স্বাবলম্বীই নয়, এলাকায় স্বাবলম্বীর অনুকরণীয় এক খামারী।
সংসারের দৈন্যদশা আর পরিবারের সদস্যদের জীর্ণদশায় দিনমজুর শামছুল হক তার ভাগ্য পরিবর্তনে বেছে নেয় হাঁস পালন কর্মসূচী। বহু কষ্টে সঞ্চিত টাকায় কয়েক বছর পূর্বে সে ৩০টি হাঁস কিনে লালন-পালন শুরু“ করে। হাঁস পালনের জন্য নিজের বসতভিটাতেই গড়ে তুলতে হয় কাঁচাঘর। কেনা শুকনা খাদ্যের পরও পালিত হাঁসের পুষ্টিসাধনে শামছুল হক পাশের বালিয়া বিল থেকে সংগ্রহ করতে থাকে শামুক ও ঝিনুক। সেই থেকেই শুরু“ হয় শামছুলের হাঁসের খামারের যাত্রা। দু’এক বছরের মধ্যেই তার খামারের হাঁসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বাড়তে থাকে হাঁস ও ডিম বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয়। হাঁস পালন ও পরিচর্যা করতে গিয়ে খামারেই চলে যেতে থাকে দিনের পুরোটা সময়। ফলে শামছুল হক তার দিনমজুরীর পেশা চুকিয়ে হাঁসের খামারী হিসেবেই পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠা পেতে থাকেন। এখন তার খামারে খ-কালীন সময় দেয় পরিবারের সদস্যরাও। এতে শামছুল হকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও খুশি। কারণ হাঁস পালনেই তাদের সংসারে ফিরে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন শামছুলের খামারে রয়েছে ৪শ’ হাঁস। সে জানায়, ওই ৪শ’ হাঁসের মধ্যে প্রতিদিন ১শ হাঁস ডিম দেয়। ক’দিন আগে প্রতিদিন প্রায় ২শ’ ডিম পাওয়া যেত।
কিন্তু খামারে রোগ দেখা দেয়ায় এবং সময়মতো ভ্যাকসিন দিতে না পারায় ডিমের সংখ্যা ১শ’তে নেমে এসেছে। তবুও ডিম বিক্রির টাকায় ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ ও ভরণপোষণ জুগিয়ে সুখেই দিন কাটছে তার। শামছুল হকের মতো হাঁসের খামারে ভাগ্য বদল হয়েছে একই গ্রামের ধলু মিয়া, আকবর আলী ও আকাব্বর আলীর।

-রফিকুল ইসলাম আধার
শেরপুর থেকে



স্বাধীনতার ৪৩ বছরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে অবহেলিত এক মুক্তিযোদ্ধা লালা হরিজন। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল হতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। লালা হরিজন দলিত সম্প্রদায়ের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কারণে তিনি এতদিন অবহেলিত ছিলেন। জানা গেছে, লালা হরিজন ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে ভারতের বাগমারা নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমান সরকারের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, তারাকান্দা ও শম্ভুগঞ্জে পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিজ প্রাণ বিপন্ন করে ময়মনসিংহকে শত্রুমুক্ত করেন। মুক্তিযোদ্ধা লালা হরিজন স্ত্রী, এক ছেলে, দুই বিধবা মেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে এতদিন অভাবের সংসার চালিয়ে আসছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা লালা হরিজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাগো থাকার কোন জায়গাজমি নাই। অহন ভাতার টেকা দিয়া ঘর বাইন্দা থাকবার লাইগ্যা একটু জায়গাজমি কিনুম। -আবুল কাসেম আজাদ, মোহনগঞ্জ থেকে