মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ জুন ২০১৪, ১৪ আষাঢ় ১৪২১
সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর হারিয়ে যাচ্ছে
রিয়াজউদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ॥ সরকারী সাহায্য সহযোগিতা নেই। নেই দেখভাল করার কেউ। তাই অনেকটা বিলুপ্তির পথে গ্রে-হাউন্ড কুকুর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের এ কুকুর খুবই বিখ্যাত। পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থের অভাবে বর্তমানে বিরল প্রজাতির গ্রে-হাউন্ড কুকুর। বর্তমানে কায়ক্লেশে হাতে গোনা কয়েকজন কুকুর পালন করছে।
সরাইলের বিরল প্রজাতির গ্রে-হাউন্ড কুকুরের পরিচিতি উপমহাদেশ জুড়ে। দেশ বিদেশের শৌখিন লোকজন প্রতিবছরই এখানে আসেন কুকুর নিতে। কিন্তু বর্তমানে আগের মতো এখানে এই কুকুর মিলছে না। আগে উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে কুকুর পালন করত। কেউ শখের বশবর্তী হয়ে আবার কেউ আভিজাত্যের জন্য পালন করত বিখ্যাত এই কুকুর। কিন্তু কালের আবর্তে আজ সবই অতীত।
সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর দেখতে অন্যান্য কুকুরের চেয়ে কিছুটা আলাদা। মুখটা অনেকটা শেয়ালের মতো, কান লম্বা। দুধ ভাত আর মাছ-মাংস খাইয়ে বড় করা হয় এদের। সাদা, কালো, লালসহ বিভিন্ন রঙের এসব কুকুর ব্যবহার করা হতো শিকারের কাজে। শিয়াল, বন বিড়াল, বাঘদাস শিকারে পারদর্শী। চোর- ডাকাতরা এই কুকুরের নাম শুনলেই আঁৎকে ওঠে। তাই সরাইলের এসব গ্রে-হাউন্ড কুকুরের দামটাও বেশি। বাচ্চা কুকুর ২০/২৫ হাজার আর বড় কুকুর ৬০/৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
আগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে কুকুর পালন করত। এখন তেমনটি নেই। তারপরও উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে এই কুকুর পালন করা হয়। সরাইলের বিখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুরের উৎপত্তি সম্পর্কে এলাকায় রয়েছে নানা জনশ্রুতি। বিভিন্নজন বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন।
কিভাবে এই কুকুর সরাইলে আসে তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। কুকুরের উৎপত্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে যতটুকু জানা যায়, বহুকাল আগে সরাইলের এক দেওয়ান তাঁর হাতি নিয়ে সরাইল পরগনা থেকে ভারতের কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক বাড়িতে একটি কুকুর দেখতে পান তিনি। অনেক বলার পরও কুকুরের মালিক দেওয়ানকে কুকুরটি দিতে রাজি হয়নি। পরে তিনি হাতির বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে কুকুরটি নিয়ে আসেন। সে কুকুর এক সময় কয়েক হাত বদল হয়ে তার দাদা গঙ্গাচরণ রবিদাসের কাছে চলে আসে। আর শিয়ালের সঙ্গে মিলনের ফলে সৃষ্টি বর্তমান এই জাতের কুকুরের সৃষ্টি। জনশ্রুতি আছে, সরাইলের এক দেওয়ান একবার হাতি নিয়ে শিকারের জন্য বনে যান। সঙ্গে ছিল তার প্রিয় মাদী কুকুর।
এক সময় হারিয়ে যায় কুকুরটি। পরে বনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখতে পান এটি একটি বাঘের সঙ্গে মিলন করছে। বাঘের সঙ্গে মিলনের ফলেই শিকারি প্রকৃতির এই গ্রে-হাউন্ড কুকুরের উৎপত্তি। টাইগার, মধু, পপি, কালী, লালী, টমি, কালাসহ বিভিন্ন নাম আছে এই কুকুরের। জন্মের পর তাদের আচরণ অনুযায়ী নাম রাখা হয়। ৫টি ছোট বাচ্চার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন ২ লিটার দুধ। মাংসসহ উন্নতমানের খাবারও দিতে হয়। কুকুর নিতে চোর ডাকাত হানা দেয় তার বাড়িতে।
প্রত্যাশিত সাহায্য না মিললে এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিশ্বখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুর। স্থানীয়রা বলছে, সরাইলের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে বিখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুরকে বাদ দেয়া যাবে না। দেশ বিদেশে এই কুকুর সরাইলের পরিচিতি বহন করে।
সরাইলের সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, রবিদাসের বাড়িতে এখনও বাণিজ্যিকভাবে কুকুর পালন করা হয়। ৫০ বছর ধরে তারা কুকুর পালন করে আসছে।
এদিকে, সরাইল প্রাণিসম্পদ বিভাগ সম্প্রতি কুকুর প্রজনন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোন সারা নেই। সরাইলে এই কুকুরের প্রজনন কেন্দ্র করা প্রয়োজন বলে সকলে মনে করেন।


মরিচ চাষে ভাগ্য বদল ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকের

মরিচ চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে ঠাকুরগাঁও জেলার অনেক কৃষকের। মসলা জাতীয় অন্য যেকোন ফসলের চেয়ে অল্প খরচে মরিচ চাষ করে কৃষক বেশি মুনাফা পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা বেশ খুশি। চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ায় আরো বেশি মরিচ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এ অঞ্চলের কৃষক। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঠাকুরগাঁওয়ের মরিচ বাজারজাত করে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জনে আশাবাদী কৃষকরা। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মরিচের হাট ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাউলার হাট। সপ্তাহে দুইদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এই হাটে মরিচ কেনা-বেচার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মরিচ নিয়ে যাওয়া হয়।
মরিচ ব্যবসায়ী আক্কাছ আলী জানান, এ জেলার মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এই মরিচের গুণগত মান খুবই ভাল। কৃষকরা দামও ভাল পাচ্ছে। মরিচ আবাদ করে এই এলাকার অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।
জেলার প্রায় সব এলাকায় কমবেশি মসলাজাতীয় ফসল চাষ হলেও সদর উপজেলার রায়পুর, নারগুন, জামালপুরে মরিচসহ যাবতীয় তরিতরকারি খুব ভাল জন্মে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় উন্নতজাতের বীজ, সার, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ। মরিচ চাষি সাইফুল আহমেদ জানান, কয়েক বছর আগে যে জমিতে অন্যান্য ফসল আবাদ করে ১০ হাজার টাকা আয় করা যেত না, সে জমিতে বর্তমানে মরিচসহ মসলাজাতীয় ফসল চাষ করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে। পরিশ্রমও অনেক কম।
কৃষক আশরাফ আহম্মেদ জানান, মরিচ বীজ রোপণের ৪৫ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে মরিচ তোলা যায়। প্রতি একর মরিচ আবাদে খরচ হয় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘা জমিতে মোট খরচ বাদে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। এতে ঝুঁকিও কম। চাষি মজনু মিয়া জানান, কৃষি বিভাগ থেকে যথাসময়ে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আরও লাভবান হতে পারবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কমল কুমার সরকার জানান, এবার ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হচ্ছে। এখানকার কৃষক কাঁচামরিচের সঙ্গে সঙ্গে পাকা মরিচ তুলে শুকিয়ে বাজারজাত করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই এলাকার মরিচ যায়। জমিগুলো উঁচু এবং বেলে-দোআঁশ হওয়ায় মরিচ চাষ খুব ভাল হয় এবং কৃষক লাভবান হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আগামীতে আরও ভাল ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
-এস এম জসিম উদ্দিন
ঠাকুরগাঁও থেকে