মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২ চৈত্র ১৪২০
রাষ্ট্রীয় খেতাব পেতে চান যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক (৬২)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে এখনো তিনি কায়িম পরিশ্রম করে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে শত্রুদের মোকাবেলায় সম্মুখযুদ্ধে যিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশকে হানাদারমুক্ত করেছিলেন সেই রণাঙ্গনের দেশপ্রেমিক আজ জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিক। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের পুমদী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপুমদী গ্রামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেও কোন চাকরি না পেয়ে দরিদ্রতার কশাঘাতে তিনি আজ জর্জরিত। সহায় সম্বল বলতে ভিটেবাড়ি ছাড়া তাঁর কিছুই নেই। স্ত্রী শামছুন্নাহার গৃহিণী, ৪ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে তিনি ছেলেদের হোটেলের শ্রম বিক্রির আয় আর তাঁর প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকা দিয়ে কোনরকমে সংসার চালাচ্ছেন। যুদ্ধজয়ের কথা স্মরণে এনে তিনি আবেগাপ্লত হয়ে বলেন, ‘৭২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলাম, বহু হানাদার খতম করেছি। মাথার ওপর দিয়ে কয়েকবার গুলি চলে, অল্পের জন্য বেঁচে যাই। অথচ স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আমি রাষ্ট্রীয় খেতাব পায়নি’।
তিনি জানান, ১১নং সেক্টরের তুরা নামকস্থানে যুদ্ধের প্রাথমিক ট্রেনিংয়ের পর মিত্রবাহিনীর ৬নং বিহার রেজিমেন্টের এটম কোম্পানির ৯৯ এপিওর অধীনে উচ্চ ট্রেনিং গ্রহণ করি। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কোম্পানি কমান্ডার জিকে রাও এবং গ্রুপ কমান্ডার পিএল রাও আমাকে প্লাটুন কমান্ডার করে হালুয়াঘাট থানা আক্রমণের জন্য প্রেরণ করেন। প্রায় ৯ মাস আহার নিদ্রা ত্যাগ করে তিনদিক দিয়ে হালুয়াঘাট থানা আমার গেরিলাদল আক্রমণ করে নবেম্বর মাসের শেষের দিকে মুক্ত করে। পরে কংশ নদীর পূর্বপাড়ে দুর্গাপুর, ময়মনসিংহ শহর ও মুক্তাগাছা মুক্ত করি। ময়মনসিংহ এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি ক্যাম্প থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ভালুকা থানা, মধুপুরগড় হয়ে জয়দেবপুর পৌঁছি। মিত্রবাহিনীর সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর সকালে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিলিত হয়ে চূড়ান্ত বিজয়ে অংশ নেই।
Ñমাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে