মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
শেয়াল বানরের অদ্ভুত বন্ধুত্ব
এক সময় পশু-পাখি, বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম ছিল হাওড়-বাঁওড়, বিল-ঝিল আর নদী-নালাবেষ্টিত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। সময়ের বিবর্তনে এখন আর তেমন বন জঙ্গল নেই এ এলাকায়। বন্য প্রাণীদেরও দেখা যায় না প্রকাশ্য দিবালোকে। ঘনবসতি আর মানুষের উৎপীড়নে বন্যপ্রাণীরা অনেক আগেই চলে গেছে ভারতের পাহাড়ী এলাকায়। প্রতিবছর পাহাড় ছেড়ে অনেক প্রাণী সমতলে পাড়ি জমায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতায় এখানেও নিরাপদে থাকতে পারে না তারা। মানুষের উৎপীড়ন আর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বনের এ বাসিন্দাদের আবারও পাহাড়ে চলে যেতে হয় সীমানার ওপারে। লোকালয়ের প্রাণীদের যখন স্বাধীনভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, তখন কৌতূহলের সৃষ্টি হয় জনমনে। অনেকে চড়াও হয় এ বন্যপ্রাণীদের ওপর। ব্যতিক্রম দেখা গেল উপজেলার কামারগাঁও-ডুলপশি গ্রামে। লোকালয়ের শেয়াল আর কৌশলী প্রাণী বানরের বন্ধতপূর্ণ সম্পর্কে খুশি স্থানীয়রা। তারা নির্ভয়ে রাত-দুপুরে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে। এমনি কৌতূহলী খবর শুনে দোয়ারাবাজার উপজেলার মন্নারগাঁও ইউনিয়নের কামারগাঁও, ডুলপশি গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল লোকালয়ে ‘বুদ্ধির রাজা’ শেয়ালের রাজত্বে বানরকে দায়িত্ব পালন করতে। বাঁশবাগানের ‘প্রজা’ শেয়ালের আহার যোগাতে অনেক সময় চড়াও হয় বসতিদের গৃহপালিত হাঁস-মোরগ ও কবুতরের ওপর। ৎগায়ের জোরে শাসক বানরটি ছিনিয়ে নেয় জীবিত হাঁস-মোরগ অথবা কবুতর। তারপর শিয়াল আর বানর দুজন ভাগাভাগি করে খায়। স্থানীয়রা এদের উপদ্রবে বিরক্ত হন খুবই কম। বানর ও শিয়ালের এ বিরল ঘটনায় এলাকার মানুষ মুগ্ধ। সত্যি আশ্চর্যজনক ঘটনা এটি। প্রতিনিয়ত মানুষে এ এলাকায় ভিড় জমান বানর আর শেয়ালের কৌতূহলী কা- দেখতে।
-এমরানুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে