মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
শুঁটকি পল্লীতে পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে নারীরা
বিকাশ চৌধুরী, পটিয়া থেকে
শুঁটকি উৎপাদনের ভরা মৌসুমে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পশ্চিম পটিয়ায় শত শত শ্রমিক শুঁটকি শুকানোর কাজে ব্যস্ত। বর্তমানে এ কাজে পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে নারী শ্রমিক। তবে একশ্রেণীর মালিক শিশুশ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে শুঁটকি উৎপাদনে শিশুদের কাজে লাগাচ্ছেন। যাদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। এই বয়সে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও এখানে তার ব্যতিক্রম ঘটছে। আর্থিক সমস্যা ও জনসচেতনতার অভাবে দিন দিন উপজেলার ইছানগর, চরপাথরঘাটা, খোঁয়াজনগর, ডাঙ্গারচর, জুলধা ও কর্ণফুলী এলাকায় শিশু শ্রমিক বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে এখানে কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পশ্চিম পটিয়ায় বর্তমানে শতাধিক ‘চাঙ্গে’ শুঁটকি শুকানোর কাজ চলছে। এখানকার প্রক্রিয়াজাতকৃত শুঁটকি দেশে ছাড়াও বিদেশে কদর রয়েছে। তবে উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে তারা এই শুঁটকি শিল্পকে আরা বাড়িয়ে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান করতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক ‘চাঙ্গে’ শিশু শ্রমিক কাজ করলেও প্রশাসন নীরব।
প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও ইছানগর, খোয়াজনগর, চরপাথরঘাটা, ডাঙ্গারচর, জুলধা ও কর্ণফুলী এলাকায় শতাধিক চাঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি শুকানোর কাজ চলছে। শীত মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদনের সুবিধাজনক হওয়ায় মূলত এ সময়টা বেছে নেয়ে ব্যবসায়ীরা। এখানে বছরে সাত মাস ছুরি, ফোপা, ফাইশ্যা, লইট্যা, হাঙ্গর, বাইল্যা, অস মাছ, চাঁদা বাইল্যা, ফটকা, টিক্কা, টাপ ফিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি উৎপাদন হয়। এখানে নির্ধারিত শ্রমিক ছাড়াও শতাধিক শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছে। উৎপাদিত এইসব শুঁটকি নগরীর বৃহত্তর শুঁটকি বাজার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাইয়ে পাইকারী বিক্রি হয়। এখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাইকারি কিনে তা বিভিন্ন বাজারে খুচরা মূল্যে বিক্রি করেন। শুঁটকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্বরূপ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেমের ছোট ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, তাদের নিজ গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী। কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে ইছানগর এলাকায় এস আলম গ্রুপের চার শ’ শতক জায়গা ভাড়া নিয়ে গত পাঁচ বছর শুঁটকি উৎপাদন করছেন। প্রথমে ৮জন শ্রমিক নিয়ে শুঁটকির ‘মাচা’ তৈরি করে শুঁটকি উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন ৬০-৭০জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তবে বঙ্গোপসাগরে মাছ কমে যাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন কম হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পটিয়া উপজেলার ইছানগর গ্রামের বাসিন্দা রেখা। স্বামী একজন অটোরিক্সা চালক। তাদের পরিবারে রয়েছে এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তান। ছেলে-মেয়ে দুই জনেই স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে রেখা আকতার ৫ বছর ধরে শুঁটকি উৎপাদন কাজে মহিলা শ্রমিক হিসেবে ১৫০-১৮০ টাকা বেতনে কাজ করেন। এই বেতন দিয়েই চলে রেখার সংগ্রামী জীবন ও পরিবার। এভাবেই উপজেলার ইছানগর, চরপাথরঘাটা, খোয়াজনগর, ডাঙ্গাচর, জুলধা ও কর্ণফুলী এলাকার বহু পরিবার কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীন বলেন, শিশুশ্রম আইন ভঙ্গ করে যেসব শুঁটকি কারখানার মালিক কাজ করাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।