মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
পলাশবাড়ীর ড্রিমল্যান্ড
মুক্তিযুদ্ধের স্মারকসহ ২২৫ মনীষীর ভাস্কর্য
আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা থেকে
ড্রিমল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রের নাম জানেন এখন উত্তরবঙ্গের অনেকেই। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ১৭ একর জায়গার ওপর বিশাল এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এর নির্মাণ কাজ এখনও পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি।
এ অঞ্চলের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর লোক আসছেন ড্রিমল্যান্ডে বেড়াতে এবং বনভোজন করতে। রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড় থেকে বগুড়ার দিকে প্রায় ১ কিলোমিটার যেতেই পথের পশ্চিম দিকে পড়বে ‘ড্রিমল্যান্ড।’ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১৯৯৫ সালে। পলাশবাড়ীর হরিণমারী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর নিজস্ব ওই জায়গায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রিমল্যান্ড নামের এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তুলেছেন। এই বিনোদন কেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং আকর্ষণ হচ্ছে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বাংলার কৃতী সন্তান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বের ২৫৫ মনীষীর আবক্ষ ভাস্কর্য। সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি করা এসব ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে মনোরম এই উদ্যানটির বিভিন্ন পথের পাশে সারিবদ্ধভাবে।
এছাড়া বেগম রোকেয়া থেকে শুরু করে আইজাক নিউটন, মাদাম কুরিসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাত পাবেন ড্রিমল্যান্ডে আগত দর্শকরা পথে হেঁটে যেতে যেতে। স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং জাগ্রত জনতা নামে মুক্তিযোদ্ধাদের সাদা রংয়ের ভাস্কর্য এখানে রয়েছে। সেই সঙ্গে ইতিহাসের কুখ্যাত স্মারক হিসেবে ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, মোস্তাক আহমেদের মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছে।
গোটা এলাকাতেই নানা ফল ও ফুলের সুদৃশ্য গাছসহ বিভিন্ন পশুপাখির মূর্তি, মিনি পার্ক, লাল শাপলা ফুলের পুকুর এবং পৃথক পৃথক পিকনিক স্পটও এখানে বিদ্যমান। মিনি চিড়িয়াখানায় এখন শুধু রয়েছে বানর। তবে কর্তৃপক্ষ জানাল, ঈগল, বনবিড়াল, খরগোশসহ বিভিন্ন ধরনের দেশী পাখি ও জীবজন্তু রাখার পরিকল্পনা তারা নিয়েছে। শাপলা পুকুরে ইতোমধ্যেই ফুটতে শুরু করেছে শত শত লাল শাপলা। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য নৌবিহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। দেশী-বিদেশী মৌসুমী ফুল, অর্কিড, ক্যাকটাস, বহু দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ তরুলতায় মনোরমভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রটিকে।
প্রতিদিন দেড়-দু’ শ’ লোক বেড়াতে বা পিকনিক করতে আসছে এখন ড্রিমল্যান্ডে। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে ১০ টাকা। ড্রিমল্যান্ডের ভেতরে রয়েছে ছোট রেস্তরাঁ ও ফাস্টফুডের দোকান। অচিরেই এখানে উন্নতমানের রেস্তরাঁ ও আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে বলে ড্রিমল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। দর্শণার্থী বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বিনোদনের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বিজ্ঞান চেতনা জাগানোর জন্যই বিনোদন কেন্দ্রটিতে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনদের মর্মর মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একই কারণে ১৯৫৭ সালের বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার পলাশীর যুদ্ধ ক্ষেত্রের মানচিত্র এবং বাংলাদেশের একটি মানচিত্রও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।
সাংবাদিক ও রাজনীতিক নুরুজ্জামান প্রধান জানান, পলাশবাড়ির এই বিনোদন কেন্দ্রটি উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র এবং পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে উঠছে। তবে এই বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।