মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২২ জুন ২০১৩, ৮ আষাঢ় ১৪২০
মোটরসাইকেল যখন গণপরিবহন
ব্যক্তিগত যান মোটরসাইকেল এখন গণপরিবহনে পরিণত হয়েছে। নেত্রকোনার দশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন অবাধে গণপরিবহন হিসাবে চলছে প্রায় তিন-চার হাজার মোটরসাইকেল। এক শ্রেণীর বেকার যুবক এসব মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু ওই চালকদের বেশিরভাগ অদক্ষ এবং এদের চলাচলে কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার হার। অন্যদিকে মাদক পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়ছে কিছু কিছু চালক। অথচ এদের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, নেত্রকোনা-কলমাকান্দা, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা-দুর্গাপুর, নেত্রকোনা-পূর্বধলা, নেত্রকোনা-সিধলী, নেত্রকোনা-মদন, নেত্রকোনা-কেন্দুয়া, নেত্রকোনা-আটপাড়া, মদন-নাওটানা, পূর্বধলা-দুর্গাপুরসহ জেলার প্রায় ১৫ সড়কে প্রতিদিন তিন-চার হাজার মোটরসাইকেল ভাড়ায় চলাচল করে। এসব মোটরসাইকেলের চালকদের বেশিরভাগই বেকার তরুণ-যুবক। কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে এরা রোজগার করছে। আবার অনেকে ওই যুবকদের কাছে দৈনিক ভিত্তিতে মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়েও লাভ নিচ্ছে। কিন্তু সমস্যার কারণÑ ওই চালকদের বেশিরভাগই অদক্ষ। অনেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এরা ট্রাফিক আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। দিন-রাত যেখানে-সেখানে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। একটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে পরিবহন করছে তিন-চার করে যাত্রী। এসব কারণে বাস বা টেম্পু চালকদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের বচসা বা সংঘর্ষ হচ্ছে। নাজেহাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যদিকে রাত-দিন বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায় সময় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। ওদিকে কিছু কিছু চালক ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি মাদক পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরাও যাত্রীবেশে এসব মোটরসাইকেল দিয়ে মাদক আনা-নেয়া করছে। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ঘটনায় কয়েক মোটরসাইকেল চালক খুনও হয়েছে। জানা গেছে, নেত্রকোনায় বিআরটিএ’র স্থায়ী অফিস নেই। ময়মনসিংহ সার্কেলের কর্মকর্তারা সপ্তাহে মাত্র একদিন নেত্রকোনায় আসেন। ফলে এ জেলায় অবৈধ চালকদের ব্যাপারে বিআরটিএ অনেকটা উদাসীন। অন্যদিকে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে তৎপর নয়। জেলার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম হোসেন অবৈধ মোটরসাইকেল ও চালকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। -সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা