মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৩, ২৯ পৌষ ১৪১৯
বাণিজ্যিকভিত্তিতে পাখি চাষ
পঞ্চগড়ে এখন বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশী পশু-পাখি পালন করা হচ্ছে। শখের বসে এসব পশু-পাখি পালন করতে করতে বাণিজ্যিকভাবে পালন করে বেশ স্বাবলম্বী হওয়ারও বাস্তব চিত্র রয়েছে। জেলার বোদা উপজেলার ধনীপাড়া গ্রামের এমনই একজন সফল উদ্যমী যুবক ফিরোজ কবীর। গত ৫ বছর আগে তিনি শখের বসে সৈয়দপুর থেকে দুই জোড়া লাভ বার্ড পাখি ৮০০ টাকায় কিনে এনে ছোট্ট একটি খাঁচায় পোষা শুরু করেন। এক বছরের মধ্যে ওই লাভ বার্ড ডিম ও বাচ্চা দেয়া শুরু করে। ফিরোজ বিদেশী এই পাখির বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর খাঁচা বড় করে সবুজ, হলুদ, সাদাসহ বিভিন্ন রঙের আরও কয়েক জোড়া লাভ বার্ড কিনে এনে পোষা শুরু করেন। প্রতিবছরই লাভ বাডের্র বাচ্চা বিক্রি করে পাখি পোষা লাভজনক মনে করে ফিরোজ চীনা ঘুঘু, কোয়েল পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর, জেবা পাখি, রাজহাঁস, চীনা হাঁস, খরগোশ, কনিল পাখি পোষা শুরু করেন। বাড়ির ঘরের বারান্দায় কংক্রিটের ঢালাই ছাদের ওপরেই তার পাখির চাষ। কি নেই ফিরোজের বাড়িতে। রাম ছাগল, বিদেশী গাভী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দিয়েই পুরো বাড়িটিই এখন তার ছোট্ট একটি চিড়িয়াখানা। ফিরোজের বাড়িটি এখন বেশ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এলাকার লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন বিশেষ করে ছোট শিশুরা ফিরোজের বাড়িতে পাখি দেখতে ভিড় করছে।
এভাবেই পথচলা শুরু পাখিপ্রেমী যুবক ফিরোজের। এই পাখি পোষার পেছনে ফিরোজের বাবা-মা ও স্ত্রীরও বেশ অবদান রয়েছে। ফিরোজের খাঁচায় পুরুষ-মহিলা মিলে ৪০ জোড়া লাভ বার্ড রয়েছে। অধিকাংশই ডিম ও বাচ্চা দিচ্ছে। এ ছাড়া তার নানা প্রজাতির ৫ জোড়া ঘুঘুসহ ৫ জোড়া চীনা ঘুঘু, ৬ জোড়া ছোট্ট জেবা পাখি, ১০ জোড়া কোয়েল পাখি, রাজ হাঁস, চীনা হাঁস, বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কবুতর এবং একজোড়া কলিন পাখিও রয়েছে। ফিরোজ তার বাড়িতে ঘরের বারান্দার ছাদে এসব পাখির চাষ করছেন।
ফিরোজ জানান, বর্তমানে তার খাঁচায় যে লাভ বার্ড রয়েছে তা প্রতি জোড়া দেড় থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি বিক্রি করে থাকেন। তবে লাভ বার্ডের বাচ্চা ৬-৭০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। লাভ বার্ড একাধারে ছয় মাস ডিম ও বাচ্চা দেয়। আর সবচেয়ে মূল্যবান কলিন পাখির একজোড়া বাচ্চা তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। কোয়েল পাখির ডিম ও মাংস নিজের সংসারের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পর বাজারে বিক্রি করে বেশ আয়ও করেন মর্মে তিনি জানান।
ফিরোজের দাবি, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে একজন বেকার যুবক পশু-পাখির খামার করে খুবই সচ্ছলভাবে সংসার চালাতে পারবে।
Ñএ রহমান মুকুল, পঞ্চগড়