মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১০, ৩ পৌষ ১৪১৭
আলোর মুখ দেখেনি চীনামাটির খনি প্রকল্পটি
উত্তরের সীমানত্মঘেঁষা নওগাঁ জেলার একমাত্র খনিজ শিল্প চিনামাটি প্রকল্পটি দীর্ঘ ৪২ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিরুৎসাহের কারণে এই প্রকল্পটি সুচনালগ্নেই মুখ থুবড়ে পড়ে।
জান গেছে, ১৯৬৮ সালে উত্তরাঞ্চলে তৎকালীন সরকার খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে নওগাঁর বর্তমান পত্নীতলা উপজেলা থেকে ৫ কি.মি. দূরে পত্নীতলা-ধামইরহাট সড়কের পাশে আমবাটি গ্রামের একটি পুকুরের পাশে চিনামাটির খনিটি আবিষ্কৃত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট গভীরে উন্নত এবং উৎকৃষ্টমানের চিনামাটির খনি আবিষ্কৃত হলে গোটা উত্তরাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। একই সময় পাশর্্ববতর্ী জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে কয়লাখনির সন্ধান পাওয়া যায়। সে সময় জরিপকারীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও অদ্যাবধি ওই প্রকল্পের কোন সুরাহা হয়নি। এলাকাবাসী এখনও প্রতীৰায় রয়েছে, কবে এই খনিজ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে।
জানা গেছে, জরিপ দল কয়লার সত্মর বিন্যাস ও মান নির্ণয়ের সময় কয়লার পাশাপাশি চুনা পাথরের মতো এই চায়না ক্লে বা চিনামাটির সন্ধান পায়। কিন্তু তৎকালীন পাকি সরকারের বৈষম্যতার কারণে ওই প্রকল্পটি ফাইলচাপা পড়ে যায়। এলাকার জনগণের দাবি ছিল, ওই খনিজ প্রকল্পের কাঁচামাল দিয়ে একটি চিনামাটি শিল্প গড়ে তোলা। যা এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেসময় প্রকল্পটি চালু করার জন্য আন্দোলনও গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সেই আন্দোলনের আওয়াজ সে সময় পাকি সরকারের কান পর্যনত্ম পেঁৗছায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৩৯ বছর পরও কোন সরকার এই চিনামাটির খনির ওপর তেমন কোন গুরম্নত্ব দেয়নি।
এদিকে বাংলাদেশের মানচিত্রে পত্নীতলা চিনামাটির খনির ওপর ছোট্ট একটি বিন্দুতে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪২ বছর অতিক্রান্ত হলেও গুরম্নত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ জাতীয় সংসদে সেরকম কোন জোরালো দাবিও উত্থাপন করেননি। ওই প্রকল্পটি আর কতদিন ফাইলবন্দী হয়ে থাকবে, এমন প্রশ্ন আজ এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। খনি এলাকায় খনির মুখের চারধারে মোটা সিমেন্টের তৈরি পিলার দিয়ে চিহ্নিত ও ভূতত্ত্ববিদরা যেখানে বসে পরীৰা চালিয়েছিলেন, সে স্থানটি বাঁধাই করা ছিল। লোকজন সেসবের অধিকাংশই ভেঙ্গে ফেলেছে। চিহ্ন হিসেবে গর্ত আর বেশ কয়েকটি সিমেন্টের তৈরি পিলার বিৰিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন কালের সাৰী হয়ে পড়ে রয়েছে। শুধু নেই প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের কোন কার্যকরী পদৰেপ। বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ।