মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১০, ৩ পৌষ ১৪১৭
জীবনযুদ্ধে পরাজিত মুক্তিযোদ্ধা আজিজ
অস্ত্রহাতে নয় মাস যুদ্ধ করে যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিনিয়ে এনেছিলেন সবুজে রক্তে লাল বিজয় পতাকা। আজ সেই বীর সৈনিক আজিজ হাওলাদার নিজেই জীবনযুদ্ধে পরাজিত। গত বছরের ৭ মে স্টক করে তার ডানপাশ অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা আজিজ হাওলাদার রয়েছেন শয্যাশায়ী। তাঁর চিকিৎসকরা বলেছেন দ্রুত তাঁকে উন্নত চিকিৎসা করানো হলে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব কিন্তু অসহায় পরিবারটির পক্ষে বর্তমানে যেখানে ওষুধ ক্রয়ের সামর্থ্য নেই সেখানে উন্নত চিকিৎসার কথা ভাবাই দুঃসহ। তাই অসহায় পরিবারটি মুক্তিযাদ্ধা আজিজ হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের মহানুভব ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে হাত পেতেছেন।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কালিহাতা গ্রামের মৃত আব্দুস ছোবাহান হাওলাদারের পুত্র আজিজ হাওলাদার। ১৯৭০ সালে এসএসসি পাস করে ইস্ট পাকিসত্মান রাইফেলসের (ইপিআর) ল্যান্স নায়েক হিসেবে কর্মজীবন শুরম্ন করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ঢাকার পিলখানায় কর্মরত অবস্থায় দেশে যুদ্ধ শুরম্ন হওয়ার পর তিনি দেশ মাতৃকার টানে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টরের গ্রম্নপ কমান্ডার উজিরপুরের বামরাইল গ্রামের ওয়াদুদ সরদারের নেতৃত্বে সৈনিক আজিজ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সৈনিক আজিজ পাক সেনাদের সঙ্গে একাধিকবার সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা রাখেন। দেশ স্বাধীনের পর পুনরায় তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস্ (বিডিআর)'র নায়েক সুবেদার হিসেবে যোগদান করেন। ৮ বছর পূর্বে অবসরে আসেন মুক্তিযোদ্ধা আজিজ হাওলাদার।
আবেগাপস্নুত হয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বাংলার গর্বিত সনত্মান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ হাওলাদার (৫৯) বলেন, "মুই আমনেগো লাহান হাইট্টা চইলস্না বাঁচতে চাই, মোরে ডাক্তার দ্যাহাইয়া ভাল করার লাইগ্যা মোর পোলাপানে জায়গা জমি য্যা আছিল সব বেইচ্চা ডাক্তার দ্যাহাইছে। এ্যাহন ওষুধ খাওয়ারও টাহা নাই। আলস্নায় এ্যার চাইয়া ক্যান মোরে লইয়া যায় না।" জানা গেছে, স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ১ কন্যার পড়াশোনার কথা চিনত্মা করে তারা সপরিবারে বসবাস শুরম্ন করেন পাশর্্ববর্তী বাবুগঞ্জের আগরপুর গ্রামে। তার বড়পুত্র সাদ্দাম হোসেন বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীতে, মেঝপুত্র সাদেক হোসেন ১০ম ও ছোট পুত্র সাজ্জাত ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। খেয়ে না খেয়ে ভালই ছিল মুক্তিযোদ্ধা আজিজের পরিবার। হঠাৎ করে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ত্র খুইয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
_নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল