মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১০, ৩ পৌষ ১৪১৭
হারিয়ে যাচ্ছে মলকা বানুর দীঘি ও মসজিদ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী মলকা বানু মসজিদ ও দীঘি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে । কেউই সংস্কারে এগিয়ে না আসায় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাতা থেকে ঝরে যাচ্ছে এই প্রাচীন মসজিদ ও দীঘিটি। মলকা বানু-মনু মিয়ার প্রেম উপাখ্যান ইতোমধ্যে লোকগাথা, যাত্রাপালা, মঞ্চনাটক ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তাদের প্রেমকাহিনী নিয়ে করা এসব যাত্রাপালা, নাটক, সিনেমা দেশের সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাদের এই প্রেম উপাখ্যান অনেকের কাছে কল্পিতকাহিনী বা রূপকথা মনে হলেও বাসত্মবে কিন্তু তা নয়। মলকা বানু-মনু মিয়ার প্রেম উপাখ্যান ছিল বাসত্মবভিত্তিক প্রেমকাহিনী। ইতিহাসখ্যাত মলকা বানু-মনু মিয়ার প্রেম উপাখ্যানের অন্যতম কালজয়ী সাক্ষী বাঁশখালীর সরল ইউপিতে অবস্থিত মলকা বানুর মসজিদ ও দীঘি। মলকা বানুর পিতার নাম আমির মোহাম্মদ চৌধুরী। বাঁশখালীর সরল গ্রামে ছিল তাদের বসতী এবং জমিদার এস্টেট। সরল গ্রামে মলকা বানুর নামে রয়েছে একটি প্রাচীনতম মসজিদ ও বিলুপ্তপ্রায় একটি দীঘি।
আনোয়ারার জমিদারপুত্র মনু মিয়ার সঙ্গে মলকা বানুর বিয়ে ইতিহাসের এক চমকপ্রদ ঘটনা। ইতিহাসের সূত্র ধরে জানা যায়, মলকা বানু-মনু মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার জীবন শুরম্নু করেন। বিবাহকালীন সারাদেশে অনেক মুখরোচক গল্প রয়েছে। "বাঁশখালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং আলোড়ন"-এর সূত্র ধরে জানা যায়, আমির মোহাম্মদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি সরলে বসবাস করতেন এবং তিনি ছিলেন প্রভাবশালী ও জমিদার। তার ঔরশে একমাত্র কন্যা ও সাত সনত্মানের জন্ম হয়। আর একমাত্র কন্যাটি ছিল ইতিহাসখ্যাত মলকা বানু চৌধুরী। মলকা বানু বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আনোয়ারার জমিদারপুত্র মনু মিয়ার সঙ্গে।
তাদের সংসারে এক কন্যাসনত্মানের জন্ম হলে মলকা বানু স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে পিতৃবাড়ি বাঁশখালীর সরলে চলে আসেন। সরলে বর্তমানে যে মসজিদ এবং দীঘি স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সেটি মলকা বানুর পিতা আমির মোহাম্মদ নির্মাণ করেন বলে দাবি করেন এবং তাতে ফরাসী ভাষায় একটি শিলালিপি ছিল, যা পরবতর্ীতে ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুযের্াগে বিলীন হয়ে যায়। শত শত বছরের প্রাচীন ইতিহাসের স্মৃতিবহ মসজিদটির প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিশাল দীঘিটি বর্তমানে ভরাটের দ্বারপ্রানত্মে। সংস্কার না করাতে দীঘিটি নামেমাত্র থাকলেও সেখানে বর্তমানে মাছচাষ হয় বলে প্রতিবেদককে জানান স্থানীয়রা । মলকা বানুর মসজিদ ও দীঘিকে পুনঃসংস্কার করা না গেলে ইতিহাস থেকে মুছে যাবে মলকা বানুর স্মৃতি। মলকা বানুর মসজিদটি অত্যনত্ম জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও বিশাল আকারের দীঘিটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এটিতে শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছচাষ করেন স্থানীয় জনগণ। বাঁশখালী উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যবহ মসজিদ ও দীঘি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় এলাকার অভিজ্ঞ মহল বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানান_ যেন মসজিদ ও দীঘিটি পুনরায় সংস্কারের প্রতি সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়ার জন্য।
_জোবাইর চৌধুরী, বাঁশখালী