মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১০, ৩ পৌষ ১৪১৭
মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের এখন রিক্সাচালক, দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে
নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে মেহেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের। ক্ষিপ্র গতিতে পাকবাহিনীর বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ করার কারণে তাঁকে পাগলা তাহের নামে ডাকা হতো। সেই পাগলা তাহের এখন অসহায়। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তাঁর। রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিন শেডের ছোট্ট একটি কক্ষে এক সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। বয়সের ভারে দিন দিন অক্ষম হয়ে পড়ায় এখন আর ঠিকমতো খাটতে পারেন না। যে হাতে এক সময় অস্ত্র ধরেছিলেন সে হাত এখন রিক্সার হ্যান্ডেল ধরেছে দু'বেলা দু-মুঠো ভাত যোগাতে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশকে পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত করতে মেহেরপুর সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আলী আহম্মদের পুত্র আবু তাহের অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রথমে ২নং সেক্টরে থেকে যুদ্ধ করলেও পরে গ্রম্নপ কমান্ডার রফিকের নেতৃত্বে ৮নং সেক্টর থেকে পাক বাহিনীর বিরম্নদ্ধে লড়াই করে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কারণে পাক বাহিনী তার স্ত্রী কোহিনুর ও একমাত্র সনত্মান সুমনকে শারীরিক নির্যাতন শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ খবরে নতুন উদ্যমে ক্ষিপ্র গতিতে যুদ্ধ শুরম্ন করেন তিনি। তার ক্ষিপ্রতার কারণে তাঁকে পাগলা তাহের নামে ডাকা হতো। সেই প্রিয়তমা স্ত্রীর নাম অমোছনীয় কালি দিয়ে এখনও হাতে লেখা রয়েছে। যার কথা আজও ভুলতে পারেননি তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের জানান, জীবন বাজি রেখে আমি অস্ত্র হাতে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ আমি বড় অসহায়। জমি-জায়গা কিছুই নেই। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। পরিবার নিয়ে রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিন শেডের একটি ছোট্ট কক্ষে আশ্রয় নিয়েছি। সামান্য কিছু মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পায়। তাই দিয়ে আর রিঙ্া চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। স্ত্রী আর এক সনত্মানকে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। ক্রমশই বয়সের ভারে অক্ষম হয়ে পড়ছি। মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের নিয়ে গর্বিত আশ্রয়ণ প্রকল্পবাসী। সরকার তার প্রতি নজর দিলে তারা আরও খুশি হবেন বলে জানান প্রতিবেশিরা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাশেম অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধার পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের দেশের অনেক মুক্তিযোদ্ধা অর্ধাহারে অনাহারে এখন দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার ক্ষমতায়। সরকার ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধার পুনর্বাসনের জন্য সরকার এগিয়ে আসবেন এমনটিই আশা করছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পবাসী।
-সংবাদদাতা, মেহেরপুর