মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ জানুয়ারী ২০১১, ২৬ পৌষ ১৪১৭
৪০ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
১২ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্দাপণ করবে ৪০ বছরে। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি শুক্রবার। আশা করা যায় নতুন-পুরনো কিংবা নবীন-প্রবীণের পদচারণায় ক্যাম্পাস আনন্দের মহামিলনে পরিণত হবে। এই ৪০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় গৌরবোজ্জ্বল অনেক কীর্তি সাধিত হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেশের অন্যতম প্রধান এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস খানিকটা আলোচনা করা যাক।
ইংরেজ শাসনামলে পূর্ববাংলায় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে। ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষিত হবার পরে অখ- ভারতের প্রধান প্রশাসক লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় নওয়াব স্যার সলিমুলাহসহ আরও অনেকে পূর্ববাংলার মানুষের জন্য একটা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানান। উপযর্ুপরি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিসত্মান ও ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। তখন পূর্ববাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিসত্মান। ১৯২১ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যনত্ম সময়ের মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, কৃষি, প্রকৌশল ও চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয় স্থাপিত হলেও পূর্ব পাকিসত্মানের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার সালনায়। কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যনত্ম ১৯৬৭ সালে ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সাভার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্থান নির্বাচন করা হয়। সাভারের ওপর দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে। এই মহাসড়কের পশ্চিমপাশে নির্ধারণ করা হয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্থান। এর পাশে রয়েছে ডেইরি ফার্ম, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার সেনানিবাস ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প প্রধান হিসেবে ড. সুরত আলী খানকে নিয়োগ করা হয়। বাস্তুকলাবিদ প্রকৌশলী সংস্থা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা ও নির্মাণকাজের দায়িত্ব লাভ করে। ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পূর্ব পাকিসত্মান সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখে 'জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়'। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজউদ্দিন আহমদ। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিসত্মানের গবর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার এ্যাডমিরাল এসএম আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে 'জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়'-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তবে এর আগেই ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাস শুরম্ন হয়। প্রথম ব্যাচে মাত্র ১৫০ ছাত্র ভর্তি হয়। কিন্তু এ সময় দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটাধিক্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিসত্মানী শাসক গোষ্ঠী নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হসত্মানত্মরে গড়িমসি করছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ঢাকার বিভিন্ন জনপদে অতর্কিতে ঘুমনত্ম মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। মার্চ মাস থেকেই শুরম্ন হয়ে যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজই বন্ধ থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা আবার শুরম্ন হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট পাস করা হয়। এই এ্যাক্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়'।
৬৯৭.৫৬ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ৩০টি বিভাগ চালু আছে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি), ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ-জেইউ), ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং ও ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। আবাসিক হল ১২টি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। উপাচার্য হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির।
অমর একুশ, সংশপ্তক ও দেশের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও গৌরব বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। যে একটি মাত্র আবাসিক হল দিয়ে দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরম্ন হয়েছিল সেখানে বর্তমানে নবনির্মিত শহীদ রফিক-জব্বার হল নিয়ে আবাসিক হলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বারোটিতে।

য় সালাম সাকলাইন
আহমেদ সুমন