মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১০, ১৬ কার্তিক ১৪১৭
মূল্যবান বইয়ের সংগ্রহশালা দুষ্প্রাপ্য ও পাণ্ডলিপি শাখা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক গ্রন্থাগার। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এ গ্রন্থাগারের রয়েছে বিভিন্ন শাখা। এর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ দুষপ্রাপ্য ও পাণ্ডলিপি শাখা। এ শাখা প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।
এ শাখায় রয়েছে হাতে তৈরি তুলট কাগজ, তালপাতা ও বাঁশ খণ্ডের ওপর বাংলা, সংস্কৃত, পালি, আরবী, ফারসী ও উদর্ ভাষায় লেখা ৫৬৫টি পাণ্ডলিপি। এসব পাণ্ডলিপি আড়াই শ' থেকে এক শ' বছরের মধ্যে অনুলিখিত হয়েছে।
শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এগুলোর মধ্যে কিছু পাণ্ডলিপি রয়েছে, যা দেশের অন্য কোন গ্রন্থাগারে নেই। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সফর আলী বিরচিত গোলে হরমুজ খান, গয়াস বিরচিত বিজয় হামজা, আব্দুর নবী রচিত বিজয় হামজা, জিন্নাত আলী রচিত মনিউল বেদায়াত, সৈয়দ গাজীর হর গৌড়ির পুঁথি, হামিদুলস্নাহ খাঁ রচিত ধর্ম বিবাদ পরাগাল খাঁর মহাভারত।
এছাড়া এ শাখায় রয়েছে দুর্লভ কোরান, হাদিস, ফেকাহ শাস্ত্র। এই শাখায় পুরনো ছাপা পুঁথি রয়েছে প্রায় দুশ'টি। ইতিহাস, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে রয়েছে দুই হাজার ৮০৯টি।
গ্রন্থাগার কতর্ৃপৰ জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের দুষপ্রাপ্য শাখা প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পুঁথি সংগ্রাহক আবদুস সাত্তার চৌধুরী। প্রধানত তাঁর সংগ্রহের পুঁথি, পুসত্মক ও পা-ুলিপি নিয়েই এ শাখা খোলা হয়। তিনি এ শাখায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার সাময়িকী দান করেন। এগুলো ১৮৭২ থেকে ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। উলেস্নখযোগ্য সাময়িকীগুলো হলো_ অঞ্জলি, অনুসন্ধান, আর্যবর্ত, ভারত, আল ইসলাম, ইসলাম প্রচারক, আলো, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সাধনা, পাঞ্চজন্য, পূরবী, সীমানত্ম ইত্যাদি।
আবদুস সাত্তার ছাড়াও আরও নয় শিক্ষক-সংগ্রাহক দুষপ্রাপ্য শাখায় তাঁদের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন পা-ুলিপি দিয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন শ্রী ক্ষেমেশ চন্দ্র রক্ষিত, এবনে গোলাম নবী, নজরম্নল ইসলাম, প্রফেসর ড. আব্দুল গফুর, ড. আব্দুর রশীদ আল ফারম্নকী, অধ্যাপক ড. ভূূঁইয়া ইকবাল, অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, অধ্যাপক ড. মনিরম্নজ্জামান এবং ড. দিলওয়ার হোসেন।
গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা গাজী নুরম্নদ্দিন জানান, দুষপ্রাপ্য শাখায় প্রাচীন পা-ুলিপি, দুর্লভ দলিল, বই, সাময়িকী, দৈনিক ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত নানা প্রকাশনা সংরক্ষিত আছে। গবেষকরা তাঁদের গবেষণাকর্মে এসব পান্ডুলিপি ব্যবহার করে থাকে।
এ শাখায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংরক্ষণ করা হয়। দুষপ্রাপ্য শাখার সংগ্রহ বিশ্বের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ব্যবহার করতে পারেন। এ শাখা প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যনত্ম খোলা থাকে।
য়সুজন ঘোষ