মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১২ আগষ্ট ২০১১, ২৮ শ্রাবণ ১৪১৮
নাটোরের পথে একদিন
এসএম নাজমুল হক ইমন
রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। আর নাটোরের কথা এলেই কেন জানি শুধু কাঁচাগোলস্নার কথা মনে পড়ে। কি সুস্বাদু সেই কাঁচাগোলস্না। যাক সে কথা, এই নাটোর জেলার উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। আমরা এবার আমাদের যাত্রায় অগ্রসর হয়েছি নাটোর জেলার দিকে।


রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ
নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১০ সালের কোন এক সময় পুঠিয়ার রাজার কাছ থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।

উত্তরা গণভবন
জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তাঁর নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ কটি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিসত্মান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যনত্ম এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মান সরকারের নজরে আসে এবং এর সংস্কার করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ব্যবহার করে উত্তরা গণভবন হিসেবে। প্রায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে চারদিকে লেক ও প্রাচীরবেষ্টিত এ রাজবাড়িটিতে ছোটবড় বারোটি সুরম্য ভবন আছে। ভেতরে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। উত্তরা গণভবনের প্রবেশপথে চারতলা বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির প্রবেশদ্বার। আর এর চূড়ায় রয়েছে বিলেতের কোক এ্যান্ড টেলভি কোম্পানির শতবর্ষী প্রাচীন ঘণ্টা ঘড়ি।

চলনবিল
চলনবিলের একটি অংশ পড়েছে নাটোরে। জেলার সিংড়া উপজেলায় রয়েছে চলনবিলের বড় একটি অংশ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরম্নল থেকে বনপাড়া পর্যনত্ম দীর্ঘ সড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের ওপর দিয়েই। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। সড়কের দু'পাশে এ সময় যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলরাশি। নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাত্রাপথেই চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।

চলনবিল জাদুঘর
জেলার গুরম্নদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে আছে চলনবিল জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন বিচিত্র এ জাদুঘর। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরম্নদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এ জাদুঘরে। শনিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।

হাইতি বিল
জেলাশহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা উপজেলায় আছে হাইতি বিল। প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ বিলটি দেশের সবচেয়ে গভীর বিল। প্রায় বারো মিটার গভীর এ বিলে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন প্রভৃতি বাসে যাওয়া যায় নাটোর। এ ছাড়া রাজশাহীগামী যে কোন বাসেই নাটোর আসা সম্ভব। ভাড়া ২৫০-৪০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে আনত্মনগর ট্রেন একতা এঙ্প্রেস, লালমনি এঙ্প্রেস, দ্রম্নতযান এঙ্প্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বাথ ৩৮০ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৭৫ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। এছাড়া খুলনা থেকে রূপসা ও সীমানত্ম এঙ্প্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া শোভন চেয়ার ১৪৫ টাকা, শোভন ১২০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
নাটোর শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের চকরামপুরে হোটেল ভিআইপি (০৭৭১-৬৬০৯৭) নন-এসি কক্ষ ১০০-২০০ টাকা। মাদ্রাসা মোড়ে হোটেল উত্তরা (০৭৭১-৬২৫১৯) নন-এসি কক্ষ ১০০ টাকা, মাদ্রাসা মোড়ে হোটেল মিলস্নাত (০৭৭১-৬১০৬৫) নন-এসি কক্ষ ১৮০ টাকা, কানাইখালীতে হোটেল আরপি (০৭৭১-৬২৫৭৯) নন-এসি কক্ষ ১৭০ টাকা। কানাইখালীতে হোটেল রম্নখসানা (০৭৭১-৬২৪৩১) নন-এসি কক্ষ ১০০ টাকা। নাটোর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় চলিস্নশ কিলোমিটার। ভাল কোন হোটেলে থাকতে চাইলে রাজশাহী শহরে এসে থাকা যেতে পারে।