মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৩, ২ মাঘ ১৪১৯
মূত্র ও জননতন্ত্রের রোগ গনোরিয়া
অবাধ, অনিরাপদ যৌন মেলামেশা ও যৌন রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে এবং কাপড়চোপড় থেকে ছোঁয়াচে জাতীয় যৌন রোগের নাম গনোরিয়া। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মূত্র ও জননতন্ত্রে এর জীবাণু আক্রমণ করে। যেভাবে ছড়ায়: মুখমেহনের মাধ্যমে গলার ভেতরের অংশ আক্রান্ত হয়। ফলে গলাব্যথা ও ঘন পুঁজের ন্যায় কাশি হতে পারে। পায়ুপথে মেলামেশার মাধ্যমে মলদ্বার ও রেকটামে প্রদাহ হয়। মা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুর দুই চোখও আক্রান্ত হয়। বাচ্চারা অসাবধানতাবশত রোগীর জীবাণুযুক্ত তোয়ালে ও পরিধেয় কাপড় ব্যবহার করলে বা এ রোগে আক্রান্ত কারও দ্বারা ধর্ষিত হলে বাচ্চাদের যোনিপথে প্রদাহ দেখা দেয়।
লক্ষণ: পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০-১৫ ভাগক্ষেত্রে উপসর্গবিহীনভাব থাকে। ২-১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। প্রস্রাবের রাস্তায় অস্বস্তি ভাব, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিনভাব করে। রোগী বলে প্রস্রাব করার সময় কুট করে কামড় দেয়। পরবর্তী সময়ে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া করা এবং কখনও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। এ সময় লিঙ্গ বিশেষ করে প্রস্রাবের নালী লাল হয়ে ফুলে যায় ও ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসা ছাড়াও কিছু কিছু রোগীর দেহের নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ১-৩ মাসের মধ্যে আপনাআপনি ভাল হয়ে যায়।
জটিলতা: এই প্রদাহের চিকিৎসা না করালে লিঙ্গ ও তার আশপাশের কিছু গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে ফুলে যায় এবং প্রদাহের সৃষ্টি হয়। লিঙ্গ উত্থিত হলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বের হতে পারে না। ফলে প্রস্রাব থলিতে জমা হতে থাকে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে: প্রায় ৫০-৭৫ ভাগ মহিলা উপসর্গবিহীন থাকে। অনেক সময় সাদা স্রাব বা নিউকোরিয়ার মতো উপসর্গ থাকে। তাই ভুল চিকিৎসা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২৫ ভাগ মহিলার প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, সাদা স্রাব, বার বার প্রস্রাব হওয়া, মিলনের পর সামান্য রক্ত বের হওয়া, কোমর ও তলপেট ব্যথা এবং কুচকির লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায়। যোনিপথের আশপাশের কিছু গ্রন্থি ফুলে যায় ও এখানে ফোঁড়া হয়। প্রচ- মাথাব্যথা, জ্বর, তলপেট ব্যথাসহ প্রচুর পরিমাণে বিজলপুঁজ মিশ্রিত বা পুঁজের ন্যায় প্রস্রাব বের হতে থাকে। এছাড়াও অনিয়মিত মাসিক ও মাসিকের সময় প্রচুর রক্ত যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেলোপিয়ান টিউবে প্রদাহ হয়ে নালী বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে যায়।
ডা. দিদারুল আহসান
লেখক : চর্ম ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আলরাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা। মোবাইল: ০১৮১৯২১৮৩৭৮, ফোন: ৮১১৯২২৯