মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৩, ২ মাঘ ১৪১৯
দাঁত শিরশিরে করণীয়
দাঁত শিরশির করা বহুল আলোচিত একটি সমস্যা। দাঁত শিরশির করলে খাবার গ্রহণ বা তরল জাতীয় কোন কিছু পান, ব্রাশ করা এমনকি শ্বাস নেয়ার সময় অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। দাঁত শিরশির করার সময় খুব ক্ষণস্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়, যেহেতু ডেন্টিন বের হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঠাণ্ডা কোন খাবার খেলে দাঁত শিরশির করে যদি দাঁতে সমস্যা থাকে। তবে টক বা মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণের সময়ও একই ধরনের অনুভূতি হতে পারে। কারও দাঁতের সাদা অংশ এনামেল ক্ষয় হয়ে ডেন্টিন নামক অংশটি যখন বের হয়ে যায় তখনই দাঁতে ঠাণ্ডা কিছু লাগলে দাঁত শিরশির করে। কারণ ডেন্টিনাল টিউবলস্ এ ধরনের অনুভূতি বহন করে স্নায়ুর মাধ্যমে ব্রেনে পৌঁছে দেয়। সিমেন্টাম দাঁতের গোড়ার অংশকে আবৃত করে রাখে কিন্তু এটি এনামেলের মতো পুরু নয়। বিশেষ করে মাড়ির নিকট এটির গুরুত্ব কম হয়। যখন মাড়ির স্থান থেকে সরে যায় অর্থাৎ গাম রিছেশন হয় তখন দাঁতের গোড়া বের হয়ে যায় এবং দাঁত শিরশির করে।
দাঁত ক্ষয় হবার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো :
১। চর্বনজনিত ক্ষয় বা এট্রিশন : পান সুপারি ক্রমাগত খাওয়ার ফলে বা চিবানোর ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে পর্যায়ক্রমে ডেন্টিন বের হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় ডেন্টিনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেকের আবার দাঁত কামড়ানোর অভ্যাস রয়েছে। জাগ্রত অবস্থায় দাঁত না কামড়ালেও অনেকেই ঘুমের মধ্যে দাঁত কামড়ান যা সিøপ ব্রকসিজম নামে পরিচিত। ক্রমাগত দাঁত কামড়ানোর ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে দাঁত শিরশির করতে পারে।
২। ঘর্ষণজনিত ক্ষয় বা এবরেশন : টুথপেস্ট ছাড়া কয়লা, গুল, ছাই, বালি বা এ জাতীয় কোন পদার্থ দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের উপরিভাগ অর্থাৎ এনামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পর্যায়ক্রমে ডেন্টিন বের হয়ে গেলে দাঁত শিরশির করবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া শক্ত ফাইবার যুক্ত টুথব্রাশ বা ভুল পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের উপরিভাগ এবং গোড়া ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে দাঁত শিরশির করতে পারে।
৩। ইরোশন বা অম্লজনিত ক্ষয় : কোন রাসায়নিক দ্রব্য বা এ্যাসিড দ্বারা দাঁতের এনামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হলে দাঁত শিরশির করে মুখের অভ্যন্তরে এ্যাসিডিক অবস্থা থাকলে দাঁত শিরশির করে। এ্যাসিডিক কোলো জাতীয় পানীয় পান করলে ধীরে ধীরে দাঁত শিরশির করতে পারে।
৪। ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত ক্ষয় : মায়ের গর্ভাবস্থায় পরিমিত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ না করলে শিশুর দাঁতে গঠন মজবুত হয় না। এ অবস্থায় শিশুর দুধ দাঁত পড়ার পর স্থায়ী দাঁতের এনামেল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়, যে কারণে দাঁত শির শির করতে পারে।
৫। আঘাতজনিত কারণে : যে কোন ধরনের আঘাতের কারণে দাঁত ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে আবার অনেক সময় এনামেলে ফাটলের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে দাঁত শিরশির করে।
৬। ডেন্টাল পকেট : ডেন্টাল পকেট সৃষ্টি হলে ডেন্টিন ও সিমেন্টাম বের হয়ে যায়। ফলে দাঁত শিরশির করে।
৭। বিবিধ : দাঁতে কোন ফ্যাকচার থাকলে দাঁত শিরশির করে। ফিলিং যদি ঠিকভাবে করা না হয় বা ফিলিং এর মধ্যে কোন মার্জিনাল লিকেজ থাকে তাহলে দাঁত শিরশির করবে। এ্যাসিডিক খাবার বেশি পরিমাণে খেলে দাঁত ক্ষয় হয়ে দাঁত শিরশির করতে পারে।
চিকিৎসা : দাঁত যে কারণে শিরশির করে থাকে সে কারণটির সমাধান অর্থাৎ চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। তবে দাঁত শিরশির করার ক্ষেত্রে ফিলিংয়ের ক্যাপ বেশ কাজে আসে। সামনের দাঁতের জন্য লাইট কিউর ফিলিং আর পিছনের দাঁতের ক্ষেত্রে গ্লাস আয়োনোমার লাইট কিউর ফিলিং অথবা অটো কিউর গ্লাস আয়োনোমার ফিলিং প্রদান করতে হবে। তবে বেশি সমস্যা থাকলে ক্রাউন বা কৃত্রিম মুকুট স্থাপন করতে হবে। এছাড়া সংবেদনশীল দাঁতের জন্য কিছু টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো দাঁত শিরশির করার ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কিছুটা আরাম দিতে পারে।
ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন
মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
মোবাইল : ০১৮১৭-৫২১৮৯৭
ই-মেইল : dr.faruq@gmail.com