মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০১১, ১ চৈত্র ১৪১৭
সদয় হোন হৃদযন্ত্রের প্রতি একে অন্তত মনে করুন ভালবাসা দিবসে
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
হৃদস্বাস্থ্যকর ভাবনা তো বেশি করে মনে করার কথা ভালবাসা দিবসে। কেননা 'ভ্যালেন্টাইন ডে' হলো হৃদভাবনার দিন। ভালবাসার দিন। হৃদভালবাসার দিন।
হৃদয়চিহ্ন তো ভালবাসার চিহ্ন, ভালবাসা দিবসে এভাবে উদ্যাপন করি ভালবাসাকে, উৎসবে। কিন্তু হায়। শিল্পোন্নত দেশে হৃদরোগ হলো পহেলা নম্বর ঘাতক রোগ। আর এর চেয়ে মর্মানত্মিক সংবাদ হলো এটি নারীদের ৰেত্রে ১ নম্বর ঘাতক রোগ।
জনানত্মিকে আরও খবর, এ রোগ ঘাতক হিসেবে ভয়ালথাবা বিসত্মার করছে উন্নয়নশীল বিশ্বেও। বাড়ছে এর প্রকোপ।
এ প্রসঙ্গে "ঐবধৎঃ সধঃঃবৎং" নামে একটি সুলিখিত গ্রন্থের কথা স্মরণ করি আর চমৎকার এ বইটি লেখার জন্য অভিনন্দন জানাই ডা. ক্যাথি ম্যাগলিয়াটেকে।
আমেরিকার দু' শ' জন মহিলা হার্ট সার্জনদের তিনি একজন। তিনি একজন হার্ট ট্রান্সপস্নান্ট সার্জনও। টলমল পায়ে হাঁটে এমন দুটো সনত্মানেরও মা তিনি।
তাঁর বিশ্বাস এই ভয়ানক স্বাস্থ্যসমস্যা সম্পর্কে আরও জানা উচিত নারীদের।
ডা. ম্যাগলিয়াটো বলেন, "মানুষ ভাবে হার্টের রোগ হলো পুরম্নষদের রোগ, অথচ বাসত্মব পৰে সব ক্যান্সার একত্রে নারীদের যত প্রাণ হরণ করে এর চেয়ে বেশি প্রাণ যায় হৃদরোগে।"
"আমরা নারীদেরকে সত্মন ক্যান্সার সম্বন্ধে বেশ সচেতন করেছি, প্রায়ই মহিলারা ম্যামোগ্রাম করছেন, তবে মনে করে দেখুন তো শেষ কবে তারা হার্ট চেক করিয়েছেন।"
ডা. ম্যাগলিয়াটো সতর্ক করে দিচ্ছেন, হৃদরোগের উপসর্গ নারীদের ৰেত্রে পুরম্নষদের চেয়ে আলাদা।
হৃদরোগের এমন সব উপসর্গের কথা আমরা সচরাচর শুনি "বুকে যেন হাতি চেপে বসে আছে, বজ্রমুষ্টি দিয়ে হাঁটৃকে ধরে বসা, প্রচুর ঘাম হচ্ছে"... এমন লৰণ সব পুরম্নষদের, নারীদের তেমন নাও হতে পারে।
ম্যাগলিয়াটো বলেছেন, "হৃদরোগে ৫০ শতাংশ মহিলাদের বুকে কোন ব্যথা হয় না।"
"মহিলাদের হৃদরোগে পয়লা নম্বর উপসর্গ হলো ক্লানত্মি, অবসন্নতা"।
কিন্তু নারী যদি ক্লানত্ম অবসন্ন না হন, তাহলে?
এই সেদিন এবিসি টেলিভিশনের বাববারা, ওয়ালটার্স, যিনি নিজেই হার্ট এটাক সেরে উঠেছেন মাত্র, তাঁর হৃদরোগের ওপর একটি টিভি স্পেশালে ডা. ম্যাগলিয়াটোকে সেই প্রশ্নটি করা হলো, আপনি একটু চাপগ্রসত্ম মাত্র, নয়ত ক্লানত্ম, নাকি এটি হৃদরোগের লৰণ?"
ডা. ম্যাগলিয়াটো স্বীকার করলেন, এ দুটোর মধ্যে চিহ্নিত করা বড় কঠিন আর এ জন্যই তো নারীদের মধ্যে হৃদরোগ অনেকগুলো নির্ণয় করা যায় না।"
"নারীরা জরম্নরী চিকিৎসালয়ে আসে, ক্লানত্মি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে আসে, তারা জানেন না কিসে হচ্ছে, আর তাদেরকে মানসিক চাপ ও দুশ্চিনত্মা রোগ নির্ণয় করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।"
তাই নারীরা যা করতে পারেন তা হলো ডাক্তারকে অনুরোধ উপরোধ করা তাকে হৃদরোগের জন্য যাচাই পরীৰা করে দেখা।
রান্নাঘরের মেঝেতে ধুপ করে পড়ে মরে যাওয়ার চেয়ে চেকআপ করে হৃদরোগের চিহ্ন খুঁজে না পাওয়া বিলৰণ ভাল।"
ক্লানত্মির উপসর্গ ছাড়াও নারীদের হৃদরোগের আরও সব লৰণ থাকতে পারে_
ঘাড়, কাঁধ, উপর ,পিঠ ও পেটে অস্বসত্মি।
শ্বাসকষ্ট।
বমিভাব বা বমি।
ঘাম হওয়া।
মাথা হাল্কাপাতলা লাগা বা মাথা ঝিমঝিম।
চোয়ালে ব্যাথা, মনে হবে যেন দাঁতে ব্যথা।
দুশ্চিনত্মা।
বুকে জ্বলুনি।
অটল কফ-কাশ বা হুপকাশ।
দুর্বলতা
এসব উপসর্গের কোন একটি অনুভব করলে, ডাক্তার দেখাতে অবশ্য দেরি করা উচিত নয়। নারীরা কোন কোন উপসর্গ বেশ অবহেলা করেন এবং জরম্নরী চিকিৎসালয়ে পেঁৗছাতে পেঁৗছাতে হার্টের বড় ৰতি হয়ে যায় বিলম্বে আসার জন্য, কেউ হয়ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের দশায় উপনীত হন। নারীরা অনেক বেশি ঢুকছেন কর্মজীবনে, বাইরে কাজ করছে নারীরা অনেক বেশি, হেঁসেলে বসে রান্না আর ঘর গোছানোর কাজ কেবল নয়, অনেক কাজ বেড়েছে, তাই চাপও জীবনে বেড়েছে, সঙ্গত কারণেই বেড়েছে হার্টএটাক তাঁদের মধ্যে। ঘরে রান্না উঠে যাচ্ছে, ফাস্টফুড, রেসত্মরাঁয় উদরপুর্তি করার চল বাড়ছে।
আর এসব ফাস্টফুডে রয়েছে প্রচুর ট্রান্সফ্যাট ও নুন। ফলে যা হবার তা হচ্ছে। বাড়ছে রক্তে কোলেস্টেরোল, বাড়ছে রক্ত চাপ। স্থূলতার কথা নাইবা বললাম। আর এসব হলো হৃদরোগের পরিচিত ঝুঁকি।
নারীদের জন্য অন্যান্য ঝুঁকি আরও হলো ডায়াবেটিস ও ধূমপান। জর্দা-গুল চিবানো। আর পরিবারে কারো হৃদরোগের ইতিহাস না থাকলেও যে হৃদরোগ হবে না, তা তো নয়। অনেক নারী আজকাল তরম্নণ বয়সে হার্টএটাকের শিকার হচ্ছে। ত্রিশ বছর বয়সেও আক্রমণ হচ্ছে হার্টের ওপর।
ডা. ম্যাগলিয়াটো নারীদেরকে তাদের হৃদস্বাস্থ্য যাচাই করে দেখতে বলেছেন, আর তা স্বাভাবিক মানে রাখতে বলেছেন। যেমন:
রক্তচাপ থাকবে ১২০/৮০ বা এর নিচে।
মোট কোলেস্টেরোল ২০০-এর নিচে।
হিতকর কোলেস্টেরোল (এইচ.ডি.এল) ৬০-এর উর্ধে।
ৰতিকর কোলেস্টেরোল (এলডিএল) ১০০-এর নিচে।
যদি থাকে হৃদরোগের ইতিহাস তা হলে ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করাতে হবে তৎৰণাৎ। বুকের এঙ্রে, রক্ত পরীৰা ও ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম। আর একটি স্কিনিং হলো কার্ডিয়াক স্ক্যান। ধমনীতে চর্বিপুঞ্জ, পস্ন্যাক জমা হয়ে যায় কিনা তা চিহ্নিত হয়। জানেন যে হার্টএটাকের বড় কারণ এটি।
সুস্থ হার্টের জন্য আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের রয়েছে ৭টি পরামর্শ
সক্রিয় হন, বেরিয়ে পড়ুন, হাঁটুন। ব্যায়াম করম্নন।
নিয়ন্ত্রণে রাখুন কোলেস্টেরোল, রাখুন ২০০-এর নিচে।
প্রচুর ফল, শাকসবজি, দানাশস্য খান, নুন প্রতিদিন খাবেন ১৫০০ মিলিগ্রামের কম।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ওজন বেশি থাকলে কমান। ঝেড়ে ফেলুন।
রক্তসুগার বেশি থাকলে কমান। ডায়াবেটিস থাকলে হার্টএট্যাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে দ্বিগুণ।
বর্জন করম্নন ধূমপান।
হৃদরোগের ব্যাপারে জেনে, সচেতন হয়ে, নারীদেরকে নিজেদের শরীর ও স্বাস্থ্যের দেখভাল নিজেদের করতে হবে। নারীরা অন্যদের দেখভাল করতে এত ব্যসত্ম থাকেন যে নিজেদের খেয়াল রাখতে ভুলে যান। জীবন বাঁচান নিজেদের নারীরা।
সুখী ভালবাসা দিবস। চকোলেটের দিকে হাত বাড়াবেন তো এবার, একটিই তো? মনে রাখবেন তা যেন গাঢ় চকোলেট হয়। হৃদযন্ত্রের জন্য ভাল।

ৎংঁনযধমধঃধ.নফ@মসধরষ.পড়স