মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১ আশ্বিন ১৪২০
নারায়ণগঞ্জে দেখার আছে অনেক কিছু
গত ৭ সেপ্টেম্বর, সকালে ঘুমে থেকে ওঠার পর থেকেই মনটা কেমন যেন খচ খচ করতে লাগল। শহরের বিষাক্ত আবহাওয়ায় মন-প্রাণ সত্যিই বিষিয়ে উঠেছিল। প্রকৃতির সান্নিধ্যে আশপাশে কোন জায়গা থেকে ঘুরে এলে ভাল লাগবে এমনটা মনে করতেই নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার ভূত চাপল। ঢাকার কাছাকাছি হলেও সেখানে আগে কখনও যাওয়া হয়নি। সাহস করে নারায়ণগঞ্জের বাসে উঠে বসলাম। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর জ্যাম পার হতে না হতেই বাসের জানালা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের দমকা হাওয়া এসে লাগল আমার শরীরে। সঙ্গে সঙ্গেই প্রচ- গরমের মাঝেও শরীরটা জুড়িয়ে গেল। সেখানে বন্ধু রুবেল বাদশাহর সঙ্গে দুটো দিন পুরো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা চষে বেড়িয়েছি।
তবে আপনি ইচ্ছে করলেই একদিনের সফরে অনেক কিছুই দেখে আসতে পারেন। ঢাকা থেকে চলে যেতে পারেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের পথে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে আসিয়ান, বন্ধন, উৎসব, সেতু, আনন্দ, বিআরটিসি ইত্যাদি পরিবহনের এসি/নন-এসি বাস। ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান থেকে এসব বাস পাঁচ মিনিট পর পর ছেড়ে যায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে। ঢাকা থেকে সোনারগাঁ যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল সার্ভিস বোরাক, সোনারগাঁও ইত্যাদি। এছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা, দাউদকান্দিগামী যে কোন বাসে উঠে মোগড়াপাড়া নেমে সহজেই যাওয়া যায় সোনারগাঁ।
এখানে দেখবেন হাজীগঞ্জ দুর্গ এবং বিবি মরিয়ম মসজিদ ও তার সমাধি। এরপর শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে চলে যান প্রথমে নবীগঞ্জ, সেখানে আছে কদমরসুল দরগা। তারপর সোনাকান্দা দুর্গ। একদিনেই ভালভাবে ঘুরেফিরে দেখতে পারবেন এসব জায়গা। যদি সঙ্গে নিজেদের গাড়ি থাকে তাহলে ভ্রমণ শুরু করুন উল্টোপথে। শুরুতেই চলে যান সোনারগাঁ। সেখানে দেখবেন-লোকশিল্প জাদুঘর, পানাম নগর ও সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের সমাধি। এরপর চলে যান বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা দুর্গ দেখতে। সেখান থেকে নবীগঞ্জে কদমরসুল দরগা দেখে চলে আসুন রূপগঞ্জ উপজেলায়। এখানে পাবেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ও জামদানি পল্লী। আবার শীতলক্ষ্যা নদী পেরিয়ে ঢাকায় না প্রবেশ করে আদমজীনগর হয়ে চলে যান নারায়ণগঞ্জ শহরে হাজীগঞ্জ দুর্গ ও বিবি মরিয়ম মসজিদ দেখে ফিরে আসুন। তবে সবচেয়ে ভাল হয় একদিন শুধু হাজীগঞ্জ কেল্লা, বিবি মরিয়ম মসজিদ, কদমরসুল দরগা আর সোনাকান্দা দুর্গ দেখার ভ্রমণ পরিকল্পনা করা। সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জে বেড়ানোর জন্য আরেকটি দিন আলাদা করে ফেলতে পারেন।
হাজীগঞ্জ দুর্গ
জেলা শহরের কিল্লারপুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ দুর্গ। বাংলার বারোভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁর কেল্লা হিসেবে এটি পরিচিত। অবশ্য ইতিহাসবিদরা মনে করেন নদীপথে মগ ও পর্তুগিজদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মীরজুমলার শাসনামলে এ দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল।
বিবি মরিয়ম মসজিদ ও সমাধি
হাজীগঞ্জে অবস্থিত এ মসজিদটি হাজীগঞ্জ মসজিদ নামেও পরিচিত। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি ১৬৬৪-৮৮ সালে শায়েস্তা খাঁ নির্মাণ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। মসজিদের কাছে তার কন্যা বিবি মরিয়মের সমাধি রয়েছে বলেই মসজিদটির নাম বিবি মরিয়ম মসজিদ।
সোনাকান্দা দুর্গ
শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দর উপজেলায় অবস্থিত এই দুর্গ। নদীপথে হাজীগঞ্জ দুর্গের উল্টোদিকে সোনাকান্দা দুর্গের দূরত্ব খুব বেশি নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীতলক্ষ্যা ও আশপাশের নদীপথগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মোঘল শাসক এই দুর্গ নির্মাণ করেছিল বলে অনুমান করা হয়ে থাকে।
কদমরসুল দরগা
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিপরীত দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপারের নবীগঞ্জে অবস্থিত কদমরসুল দরগা। এখানে মহানবী হজরত মোহাম্মদের (সা.) পায়ের (কদম) ছাপযুক্ত একটি পাথর রয়েছে। কথিত আছে, সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী আফগান নেতা মাসুম খান কাবুলি হজরত মোহাম্মদের (সা.) পায়ের চিহ্নযুক্ত এ পাথরটি এক আরব বণিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন। ঢাকার জমিদার গোলাম নবী ১৭৭৭-৭৮ সালে এ দরগা নির্মাণ করেন। আর দরগার প্রধান ফটকটি গোলাম নবীর ছেলে গোলাম মুহাম্মদ ১৮০৫-০৬ সালে নির্মাণ করেন।
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি
রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় রয়েছে প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি। বর্তমানে এ বাড়িতে চলছে মুড়াপাড়া ডিগ্রী কলেজের কার্যক্রম। জমিদার বাড়ির সামনেই বিশাল আয়তনের পুকুর। প্রাচীন এ প্রাসাদটি বেশ আকর্ষণীয়। ৯৫ কক্ষের এ প্রাসাদে আছে অতিথিশালা, নাচঘর, পূজাম-প, কাছারিঘর, আস্তাবলসহ আরও বিভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন কক্ষ।
রূপগঞ্জ জামদানি পল্লী
শীতলক্ষ্যার তীরে রূপগঞ্জ থানার রূপসীতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জামদানি পল্লী। রূপসী বাজার ও এর আশপাশে শত শত জামদানি শিল্পী দিন-রাত তাঁতে বোনেন নানারকম শৈল্পিক জামদানি। তুলনামূলক কম দামে এখান থেকে ভাল মানের জামদানি শাড়ি কেনা যায়।
সাইফুল ইসলাম জুয়েল