মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৪ পৌষ ১৪২০
এখন পরাজিত শত্রুরা নতুন করে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টায় লিপ্ত ॥ শিল্পী সুব্রত সেনগুপ্ত
স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত সেনগুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়ে, গান লিখে ও গেয়ে উদ্দিপ্ত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের, সংগঠিত করেছিলেন লাখ লাখ স্মরণার্থীসহ সাধারণ মানুষদের। এখনও অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিরন্তর গান লিখে চলেছেন। তাঁর দেখা সে সময়ের ঘটনাবলী সম্পর্কে আলাপচারিতার মূল অংশ টেলিফোনে আলাপন বিভাগে তুলে ধরা হলো-

কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকে যেমন দেখেছেন?
সুব্রত সেনগুপ্ত : আমি আত্মীয়তার সূত্রে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নাতি। কাজেই বিপ্লবী রক্ত আমার ভেতরও প্রবাহিত। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারিণ মজুমদার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমার ভেতর সেই বিল্পবী চেতনা আরও উদ্দীপ্ত হয়। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাক সেনারা ঢাকাসহ সারাদেশে খুন-জালাও-পোড়াও শুরু করে। আমার সহপাঠীসহ শ্রদ্ধেয় কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। ২৬ মার্চে খুব কষ্টে সেখান থেকে বাইরে এসে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মৃত লাশ দেখে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু সাহস নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে থাকি। আমি পাগলের বেশে বিভিন্ন জায়গার খবর ও বোমা বহন করতাম। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন কায়দায় লড়ে যেতে লাগলাম। পরে যখন দেখলাম তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না, তখন ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কমলাপুর রেল স্টেশনে এসে দেখলাম একটি ট্রেন মানুষের রক্তে ভেজা এবং অসংখ্য মৃতদেহ। চোখের জল আর রাখতে পারলাম না। ভয়ও পেলাম। অনেক কষ্টে কসবা বর্ডার দিয়ে পার হয়ে ভারতের সোনামুড়ায় পৌঁছে আগরতলা শহরের কংগ্রেস ভবনে উঠলাম।
সেখান থেকে কিভাবে স্বাধীন বাংলা বেতারে যোগ দিলেন?
সুব্রত সেনগুপ্ত : কংগ্রেস ভবনে এসে অনেক পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হলো। সেখান থেকে বলা হলো যে বিষয়ে যে পারদর্শী সে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমার আছে সুর, গান লেখার ক্ষমতা। স্বাধীনবাংলা বেতারে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করলাম।
সেসময়য়ের কথা বলুন...
সুব্রত সেনগুপ্ত : সেখানে গান লেখা ও সুর করা হতো এবং সবাই রিহার্সাল করে গানগুলো রেকর্ড করতাম, পরে সেগুলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত হতো।
যে আশা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন স্বাধীন দেশে এখন তার বাস্তবায়ন কতটুকু?
সুব্রত সেনগুপ্ত : আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম তা পুরোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখন পরাজিত শত্রুরা আবার নতুন করে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টায় লিপ্ত।
Ñগৌতম পা-ে