মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৪ পৌষ ১৪২০
কথা রাখেননি রুমি, অনন্যার বাসায় পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ কথা রাখেননি হালের জনপ্রিয় ও সাম্প্রতিক সময়ে বউ পেটানোর কেলেঙ্কারির অভিযোগে মামলার আসামি আরফিন রুমি। কারণ গত ২৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরার পর ফের ডিগবাজি মেরেছেন তিনি। শুধু ডিগবাজি নয় এবার প্রথম স্ত্রী অনন্যার বাসায় পুলিশও পাঠিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, গতকাল দুপুরে পুলিশের একটি টিম অনন্যার বাসায় যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় সার্চ ওয়ারেন্ট। জানানো হয়, রুমি ও অনন্যার মধ্যে যে আপোসনামা স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা উদ্ধারে তারা এসেছে। পরবর্তীতে আপোসনামা ছাড়াই চলে যায় পুলিশ টিম। বলে যায় আপোসনামা না পেলে অনন্যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হবে। এ প্রসঙ্গে অনন্যাকে টেলিফোনে যোগযোগ করা হলে তার মা কল ধরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ২৪ ডিসেম্বর আদালতে শুনানির পর কোন রকম ইতিবাচক সাড়া দেয়নি রুমি। আদালতে সেদিন জানানো হয়েছিল আমাকে ও সন্তান আরিয়ানকে নিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চায় সে। এ জন্য কিছু শর্তও রাখে রুমি। এমনকি সেদিন কয়টি অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় এ বিষয়ে খবর ছাপা হয়। যেখানে জানানো হয় একে অন্যের শর্ত মেনে নতুন করে জীবন শুরু করতে যাচ্ছে রুমি ও অনন্যা। অথচ গতকাল আমাদের বাসায় বংশাল থানা পুলিশের একটি টিম এসে হাজির হয়। রুমি আমাদের বিরুদ্ধে আপোসনামা উদ্ধারের মামলা করেছে। যা আমাকে সত্যিই অবাক করেছে। রুমি এবং তাঁদের পরিবার জানিয়েছেন, যে আপোসনামা করা হয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যে। এমনকি আমরা নাকি তাঁকে জোড় করি ওই চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করিয়েছিলাম। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে অনন্যার মা আরও জানান, গত ১২ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার পর রুমি ও তাঁর ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁদের পরিবার আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। দেয়া হয় হুমকি-ধামকি। এক পর্যায়ে উপায় না দেখে আমাদের বাসায় এসে অনুনয়-বিনয় করতে থাকে তাঁর মা ও ভাবি। তখন আমাদের মধ্যে এ আপোসনামাটি হয়। মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই আদালতে জামিনের দরখাস্ত করেন রুমির উকিল। তবে এটাও জানানো হয় যে, চুক্তি অনুযায়ী শর্ত না মানলে আমি আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারব। স্বাক্ষরটি রুমির কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অনন্যা বলেন, প্রশ্নই উঠে না। বরং রুমির পরিবার অনেক অনুনয়-বিনয় করে আমাদের বাসায় আপোসের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এমনকি এসব শর্তাবলী লেখার সময় সিডি চয়েজের এমদাদ, প্রিন্স, কাজী শুভ, ইলিয়াস, খেয়া, আরমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রুমির ব্যান্ড দলের মামুন, লিটন ও শান্তরাও ছিলেন। এরাও এ শর্ত সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
এ ছাড়া এই মুহূর্তে রুমির এ কথা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ আদালতে গত শুনানিগুলোতে রুমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শীঘ্রই সে শর্তগুলো পূরণ করবে। উল্লেখ্য, এই আপোসনামায় লেখা ছিল, সন্তান আরিয়ানের ভরণপোষণের জন্য রুমি অনন্যাকে ২০ লাখ টাকা প্রদান করবে, যা ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখা হবে। এ ছাড়া অনন্যার সঙ্গে সে আর খারাপ ব্যবহার করবে না। অধিকার দেবে স্ত্রীর প্রকৃতি মর্যাদার।