মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৩, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
গরমেও পারফেক্ট ব্লেজার
এস আই জুয়েল
আদনানের নতুন একটি দিনের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ। লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে নিজের গুণেই ভাল একটা চাকরি পেয়ে গেছে সে। চাকরিটা একটা কর্পোরেট হাউসে। আজ তার কর্পোরেট জীবনের প্রথম দিন। চাকরিটা ভাল, সেলারি নিয়ে ভাবনার কিছুই নেই। যোগ্যতা ও বয়সের তুলনায় অনেক ভাল। কিন্তু এখানে টিকে থাকতে হলে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপনা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। স্মার্টনেস জিনিসটার ভীষণ ভেল্যু এখানে। তবে এই একটা ক্ষেত্রে আদনানের খুঁতখুঁতে ভাবনা কখনও দূর হওয়ার নয়। কীভাবে নিজেকে উপস্থাপনা করতে হয়, সে সম্পর্কে তার জ্ঞান খুবই সীমিত। লিখিত পরীক্ষায় অন্যদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকায় ভাইভা বোর্ডে তেমন কঠিন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে, তবে তখনই কিছুটা ধারণা সে পেয়েছিল নিজেকে বদলানোর প্রয়োজনীয়তার। আজ চাকরির প্রথম দিনে কী পরে যাবে সে? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিধায় অনেকটা সময় কেটে যায় তার। চুলের পারফেক্ট কাটিং, ক্লিন সেভ। কিন্তু সমস্যা হলো ওই পোশাক নিয়ে। ফরমাল ড্রেস তো অবশ্যই পরতে হবে। কিন্তু কতটা? হালের ট্রেন্ড জিন্স পড়তে অভ্যস্ত আদনান বুঝতে পারছে না প্যান্টের সাথে তাকে ঠিক কিসে ভাল মানাবে। তার ওপরে এখন গরম কাল। আর বাংলাদেশের সব থেকে উষ্ণ সময়টা তো এখনই। সাদা পাতলা শার্ট পরে গেলে হয়তো মানাবে, কিন্তু কেমনতর? আচ্ছা, শার্টের উপরে ব্লেজার পরে গেলে কেমন হয়? পরক্ষণেই আবার নিজের বোকামোর জন্য নিজেই হেসে ওঠে সে। এই গরমে কেউ ব্লোজার পড়ে নাকি। অফিসের এসিতে হয়তো সমস্যা হবে না। কিন্তু চাকরিটা তো আর অফিসে বসে বসে থাকার নয়। মাঝে মাঝে হয়তো আউট ওয়ার্কেও যেতে হতে পারে। আর তখন কী শরীর সিদ্ধ না হয়ে থাকবে? কিন্তু পাতলা শার্ট পরে গলেও তো একই সমস্যা। এসির বাতাসে সহজেই ঠা-া লেগে যেতে পারে। তাহলে উপায় ...?
এমন সময় আদনের সব থেকে ক্লোজ ফ্রেন্ড রানার আগমন। রানার কাছে সমস্যাটা খুলে বলতেই রানার হাসি আর কে থামায়। তারপর রানার পরামর্শ মতো একটা ব্লেজার কিনে তারপরই পরিতৃপ্ত মনে অফিসমুখী হয় আদনান।
শীতকালে আমরা সচরাচর পোশাক আশাক নিয়ে না ভাবলেও গরমেও দিনে এটাই মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা শরীরে সতেজতা ধরে রাখতে পোশাকের ব্যাপারে সচেতন না হয়ে উপায় নেই। কিছুদিন আগেও গুটিকতক মানুষ গরমের দিনে অফিসে ব্লেজার পরে যেতেন। অফ সিজনে ব্লেজার পরায় মানুষের একটা নেতিবাচক ধারণাও ছিল। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। কর্পোরেট লাইফে এখন স্মার্টনেসের অনেক ভেল্যু, সুতরাং এসব ব্যাপার নিয়ে অনেকেই সচেতন হয়ে উঠছেন। তারা বেছে নিচ্ছেন গরমের জন্য স্পেশাল ব্লেজার।
কয়েক বছর হয়ে গেল ব্লেজারের ফরমাল ভাবটা কেটে গেছে। বেসরকারী সংস্থা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, সরকারী অফিস আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গতানুগতিক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ক্যাজুয়েল হয়ে উঠেছে ব্লেজার। বয়স, অবস্থান ও রুচিভেদে নানা ডিজাইনের ব্লেজার প্রায়ই চোখে পড়ছে। এখন আর কেউ একে ফরমাল পোশাকের কোটায় ফেলেন না। শর্ট শার্ট আর যে কোন প্যান্টের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্লেজার পরছেন তারা। কিছুদিন আগেও শুধু ব্ল্যাক, এ্যাশ আর বাদামি ব্লেজারের কদর ছিল। কিন্তু এখন ব্লেজারের ক্ষেত্রেও কালারের বৈচিত্র্য এসেছে। লাল, নীল, হলুদ বা ফিরোজা কালারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে পরবির্তন এলেও আগের মতোই একটাই রঙ আছে। যেমন আগে ছিল শুধু কালো এক রঙা, এখন সেখানে হয়েছে হলুদ একরঙা ইত্যাদি। সামারে ব্ল্যাক ব্লেজার পরার বদলে অনেকেই হোয়াইট ব্লোজার পছন্দ করছেন। পাঁচ বাটন হ্যান্ডস্টিচ, এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ করা, বাটনলেস, এক বাটন, জ্যাকেট টাইপ, টপসিন, বেন কলার, শার্টকলারসহ অসংখ্য ডিজাইনের ব্লেজার আছে। তবে সামারের তৈরি ব্লেজারগুলোতে পলিউন বা উইন্টার, কটন, উলেন, সফট লেদার ফেব্রিকের ব্যবহার কম। কাপড়টাও অনেক সফট। ফলে তেমন গরম অনুভূত না হয়ে স্বস্তিদায়কই মনে হয়। বর্তমানে এমন ব্লেজার তৈরি করা হচ্ছে যেগুলো আমাদের মতো কম শীতের দেশে শীত এবং গ্রীষ্ম উভয় সময়েই পরতে পারেন। এসব ব্লেজার আমাদের দেশে খুব বেশি তৈরি হয় না। অধিকাংশ ব্লেজারই তুরস্ক, চায়না, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আমদানি করা। জেসি পেনিতে ব্লেজার পাবেন সাড়ে দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার ওপর পর্যন্ত দামে। প্যারিস গ্রুপের আমদানি করা ব্লেজার সাধারণ পার্টিতেই বেশি ব্যবহৃত হয়। এখানে ব্লেজার পাবেন সাত হাজার টাকা থেকে শুরু করে সত্তর হাজার টাকার মধ্যে। জেন্টলম্যানের ব্লেজারের দাম পড়বে চার থেকে দশ হাজার টাকা। মোডলিনের ব্লেজার পাবেন সাড়ে এগারো হাজার টাকা থেকে শুরু করে ষোল হাজার পাঁচ শ’ টাকার মধ্যে। এছাড়া মসের ব্লেজার পাবেন সাড়ে বারো হাজার থেকে পয়ষট্টি হাজারের মধ্যে। ল্যানভিনে পাবেন দুবাই থেকে আনা প্রোডাক্ট। এগুলোর দাম পড়বে দশ হাজার টাকা থেকে শুরু পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত। আমাদের দেশের কিছু কিছু ব্র্যান্ড ইদানীং এ ধরনের ব্লেজার তৈরি করছে। দর্জিবাড়ীতে পাবেন চার হাজার চারশত নব্বই থেকে শুরু করে ছয় টাকা দামের ব্লেজার।
এছাড়াও রিচম্যানের নিজস্ব প্রোডাক্ট পাবেন তিন হাজার নয় শ’ নব্বই টাকা থেকে সাত হাজার পাঁচ শ’ পঞ্চাশ টাকার মধ্যে। গরমের দিনে একটু ঢিলেঢালা ব্লেজারের কদর বেশি। এক বাটনের ব্লেজারই ভালো কাটতি বলে জানিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতে বিভিন্ন রংয়ের শেডযুক্ত স্মিফিট ব্লেজার কিংবা ক্যাজুয়াল জার্সিং ব্লেজার পাবেন।
ব্লেজার ফ্যাশনে আগেই যুক্ত হয়েছে হুডি। ব্লেজার পাবেন ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের। তবে এবারের ফ্যাশনে আগের থেকে ছোট হয়ে গেছে ব্লেজার। নরমাল ও প্লেইন ব্লেজার বেশি চললেও স্ট্রাইপ ও চেক ব্লেজারের চাহিদা ভাল। সুতরাং এখন থেকে সামারে ব্লেজার পড়ার ক্ষেত্রে আর ভাবনার কী!
মডেল : রাইজা ও ফিটন