মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১৮ ভাদ্র ১৪১৯
শুরু হচ্ছে ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম নাট্যোৎসব ২০১২
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নন্দিত অভিনেত্রী লাকী ইনামের জন্মদিন ও মঞ্চে অভিনয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে যৌথভাবে উৎসব নাট্যস্বজন পর্ষদ ও নাগরিক নাট্যাঙ্গন। ‘ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম নাট্যোৎসব ২০১২’ শিরোনামে এই উৎসবের সেøাগান ‘তোমার মাভৈঃ বাণী বাজে নীরব নির্ঘোষণে।’ উৎসবে লাকী ইনামের নির্দেশিত ৬টি নাটক প্রদর্শন হবে। এ উপলক্ষে শনিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সভাপতি নাট্যজন ড. এনামুল হক, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝুনা চৌধুরী, অভিনেত্রী লাকী ইনাম, গোলাম শফিক, মাসুদুল হক, শাহ আলম ও অরুণ দাশ।
নাগরিক নাট্যাঙ্গনের শিল্পীদের সম্মেলক ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ঐদিন বিকেল ৫টায় ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সম্মেলক গান দিয়ে শুরু হবে এই উৎসব। অনুষ্ঠানে লাকী ইনামের বাছাইকৃত ৫টি নাটক ৩টি বই আকারে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া তার অভিনয়ভিত্তিক একটি ভিডিও ক্লিপস্ ও দেখানো হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা ৭টায় পরিবেশিত হবে আর্থার মিলার রচিত, প্রৈতী হক অনূদিত ও লাকী ইনাম নির্দেশিত নাটক ‘পুসি বিড়াল ও একজন প্রকৃত মানুষ’। এ ছাড়া উৎসবে যে নাটকগুলো প্রদর্শন হবে তা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প অবলম্বনে লাকী ইনাম রূপান্তরিত ‘মুক্তির উপায়’, দীপক সেন রচিত ‘সরমা’, মাণিক বন্দোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে মাহমুদুল সেলিম রচিত ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ড. ইনামুল হক রচিত ‘সেইসব দিনগুলো’ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী রেপার্টরি প্রযোজিত শাহমান মৈশান রচিত ‘বিদেহ’। নাট্যোৎসবের শিরোনাম ‘ষড়ৈশ্বর্য’ কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে অভিনেত্রী লাকী ইনাম বলেন, এখানে ঐশ্বর্য মানে কোন টাকা-পয়সার বিষয় নয়, গুনকে বলা হয়েছে। ৫ বছর বয়স থেকে আমি নাচ শিখছি, এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের ক্ষেত্রে সুনামও অর্জন করেছি। একই বয়স থেকে গান শিখছি, এখনও গাইছি। আমার শেষ দিকের সঙ্গীত শিক্ষক ছিলেন র্ফরুখ আহমদ। মঞ্চে আমার অভিনয় শুরু ১৯৭২ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এই দলের হয়ে ১৫টি নাটকে অভিনয় করেছি এবং সফলও হয়েছি। এরপর ১৯৯৫ সালে আমরা কয়েকজন মিলে গঠন করি ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। এ দলের হয়ে আমি এ পর্যন্ত ১৯টি নাটকে অভিনয় করেছি। এ ছাড়া দলে ও দলের বাইরে আমি ২০টি নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছি। বেশ ক’টি নাটক লিখেছি যেগুলো বই আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। নাচ, গান, অভিনয়, নাটক লেখা, নির্দেশনা ও নাট্য শিক্ষক এই ৬টি বিষয়ে আমি সফলতার সঙ্গে এখনও কাজ করে যাচ্ছি। সেই অর্থে আমার ৪০ বছরের নাট্য জীবনে এই উৎসবকে ‘ষড়ৈশ্বর্য’ হিসেবেই এর নামকরণ করেছে ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন।’