মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
আমাদের দেশে লোকগানের ঐতিহ্য আছে ॥ ইন্দ্রমোহন রাজবংশী
আ লা প ন
ব্যাপক আকারে এবারের লোকসঙ্গীত উৎসবের উদ্দেশ্য কি?
এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমানে আমাদের দেশে লোকসঙ্গীতের সার্বিক অবস্থা কেমন এটা গভীরভাবে পর্যবেৰণ করা। এ জন্য আমরা দেশব্যপী এই আয়োজনের ব্যবস্থা করেছি।
এর মাধ্যমে কিভাবে এই পর্যবেক্ষণ করবেন?
দেশের ৭টি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই উৎসবের কার্যক্রম চলবে। আমরা ১৮ নবেম্বর শুক্রবার সিলেট থেকে অনুষ্ঠান শুরু করেছি। নির্ধারিত জেলায় স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকারদের নিয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠান হবে। দেশব্যাপী ১৪০ লোকসঙ্গীত শিল্পী ও ২৮০ জন গীতিকারকে এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। নির্ধারিত প্রতিটি জায়গায় আমরা স্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও শিৰকদের নিয়ে সেমিনারেরও আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব সেখানের লোকসঙ্গীতের মান কেমন।
সিলেট থেকে এই উৎসব শুরম্ন করার কারণ কি?
আমরা দেশের কয়েকটি জায়গাকে লোকগানের ৰেত্রে বিশেষ কয়টি ভাগে বিভক্ত করেছি। হাওড় অঞ্চলের জায়গা সিলেট। এখানে লোকগানের প্রাচীন ঐতিহ্য আছে। লোকগানের পূণ্যভূমি সিলেট। এ জন্য এই অঞ্চল দিয়েই আমরা উৎসবের যাত্রা শুরম্ন করেছি।
আপনারা কাদের সহায়তায় এত বড় আয়োজন করতে সমর্থ হলেন?
বাংলাদেশে আগে কখনোই এত বড় লোকসঙ্গীত উৎসব হয়নি। এবং এর আয়োজনে প্রচুর অর্থেরও প্রয়োজন। ইউনেসকোর অর্থায়নে বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ এই আয়োজনে সমর্থ হয়েছে।
দেশের আর কোথায় কোথায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে?
শুরম্ন হয়েছে সিলেট থেকে এবং শেষ হবে ঢাকাতে। আগামীকাল ২৫ নবেম্বর রংপুর, ২ ডিসেম্বর রাজশাহী, ৯ ডিসেম্বর বরিশাল, ১৭ ডিসেম্বর খুলনা, ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম এবং ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ঢাকাতে এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।
আপনি কি মনে করেন এই ধরনের উৎসব আমাদের দেশে আরও আগে হওয়া উচিত ছিল?
অবশ্যই। লোকগান আমাদের মাটির গান। কেননা আমাদের দেশে লোকগানের ঐতিহ্য আছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার লোকগান গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মুখে এখনও সমানভাবে সমাদৃত। আমাদের শেকড়কে ভুলে গেলে চলবে না। আমরা যদি আরও আগে থেকে এই ধরনের উৎসব করতে পারতাম তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী গান এত পিছিয়ে থাকত না।
লোকসঙ্গীতের বর্তমান জনপ্রিয়তা সম্পর্কে কিছু বলুন।
এটা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। লোকসঙ্গীত ছিল, আছে এবং থাকবে। এর জনপ্রিয়তা সব সময় বেশি। এই সঙ্গীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি এ নিয়ে ঘুরেছি বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে, এখনও ঘুরছি এই গানের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা কেমন গাইছেন?
এদের কণ্ঠ অনেক ভাল। সবাই যে ভাল গাইছে এ কথা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। আগের তুলনায় গান গাওয়ার ৰেত্র অনেক বেশি। তবে এদের অধিকাংশের মধ্যে লোকগানের ৰেত্রে প্রাচীন লৌকিক ধারণা অনেক কম। আমার গবেষণা বলে নতুন প্রজন্মের লোকসঙ্গীত গাইয়িদের শিৰার পরিধি অনেক কম।
লোকসঙ্গীত নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
এই মুহূর্তে পরিকল্পনার কথা বলা কঠিন। লোকসঙ্গীত আমার জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। এই সঙ্গীত নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখি। তবে এইটুকু বলতে পারি আমার ইচ্ছা লোকসঙ্গীত সংগ্রহ, পুনরম্নদ্ধার, সংষ্কার, গবেষণা, চর্চা করা। এবং আমি এর বিকাশ সাধনে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।