মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪১৯
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে ওবামা কতদূর যেতে পারেন
পুনর্নির্বাচিত হবার পর থেকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ মোকাবিলার বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করে আসছেন। অভিষেক অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি বলেছেন যে, দাবানলের খা-বদাহন, সর্বনাশা খরা ও প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের বিধ্বংসী প্রভাবকে কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না। ওবামা তাঁর এই নীতি নির্ধারণী ভাষণে অন্যান্য বিষয়ের ওপর যতটুকু যা বলেছেন, এ প্রসঙ্গে বলেছেন তারচেয়ে বেশি।
মানুষের কর্মকা- জলবায়ুর ওপর কি বিরূপ প্রভাব ফেলছে প্রেসিডেন্ট ওবামা তা সম্যকভাবে উপলব্ধি করেছেন বলেই গত বছর মোটরগাড়ির জ্বালানির মান নাটকীয়ভাবে কঠোর করে তুলেছেন যাতে কার্বন নিঃসরণ কমে। এটা একটা বড় ধরনের পদক্ষেপ, যার বিরাট সুফল শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে- যদিও তাতে সময় লাগবে। কিন্তু ওবামা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সত্যি কতটা আন্তরিক তা যাচাই করার আরও একটা ক্ষেত্র আছে- তাহলো কয়লাচালিত বিদ্যুতকেন্দ্র। এসব কেন্দ্র যদি তিনি কার্যকর অর্থে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারেন তাহলেই এ ব্যাপারে তার পূর্ণ আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যাবে। কারণ কার্বন নির্গমনের সবচাইতে বড় উৎসগুলোর একটি হলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র। কিন্তু সেগুলো একেবারে বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে তিনি কোন সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন কি না তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ওবামা বলেছিলেন যে, ‘কংগ্রেস যদি আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষার ব্যাপারে শীঘ্রই পদক্ষেপ না নেয় আমি নেব এবং সেকথা আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে দিতে চাই।’ উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কীস্টোন পাইপলাইন বাতিলের দাবিতে গত মাসে ওয়াশিংটনে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করে। সংগঠকদের দাবি অনুযায়ী জলবায়ু ইস্যুতে এত বড় বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে আর হয়নি। কীস্টোন পাইপলাইন দিয়ে কানাডার এলবার্টা থেকে টারস্যান্ড টেক্সাসে তেল আহরণের জন্য আনা হবে। পরিবেশবাদীদের বক্তব্য, টারস্যান্ড থেকে তেল আহরণের প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ কার্বন বায়ুম-লে গিয়ে মেশে। সুতরাং এই প্রকল্প বাতিল করতে হবে। এই পাইপলাইন নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ওবামার সিদ্ধান্তটা এখনও ঝুলে আছে।
বিজ্ঞানীদের বক্তব্য হলো, শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। কারণ সে সময় থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ফেলা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয় তার ৪০ শতাংশ হয় বিদ্যুতকেন্দ্রগুলো থেকে। বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোর মধ্যেও আবার অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে কয়লাভিত্তিক স্থাপনাগুলোর কার্বন নিগর্মন সবচেয়ে বেশি। যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুত উৎপাদনে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয় কয়লার ক্ষেত্রে হয় দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রাকৃতিক গ্যাস সস্তা বলেই অনেক স্থাপনা গ্যাস ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে। দশ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের অর্ধেক আসত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে; আর এক-পঞ্চমাংশেরও কম আসত গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। গত বছর ৩৭ শতাংশ বিদ্যুত কয়লা দিয়ে এবং প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস দিয়ে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা ক্রান্তিকালীন পদক্ষেপ চলছে। সেই পদক্ষেপকে ত্বরান্বিত করে কার্বন নির্গমন হ্রাস করার সুযোগ ওবামার রয়েছে। এ ব্যাপারে রিপাবলিকান প্রাধান্যপুষ্ট বৈরী প্রতিনিধি পরিষদের কিংবা ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগুরু নার্ভাস সিনেটকে মোকাবিলা করার প্রয়োজন নেই। ওবামা এ ব্যাপারে কতটুকু কি করেন সেটাই এখন দেখা বাকি।
চলমান ডেস্ক