মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২ মার্চ ২০১১, ১৮ ফাল্গুন ১৪১৭
আরব যুবশক্তির মহাজাগরণ বদলে দিচ্ছে দৃশ্যপট
এনামুল হক
শুরুটা হয়েছিল তিউনিসিয়ার মতো ছোট ও কম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশে। তারপর তা ছড়িয়ে পড়েছিল ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দেশ মিসরে। দুটো দেশেই জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে থাকা সরকারের পতন ঘটেছিল গণঅভু্যত্থানের রুদ্ররোষে। এর প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী। আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছিল মুক্তি ও গণতন্ত্রের দাবিতে। এই পণজাগরণ অনুপ্রাণিত করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের গোটা তলস্নাটের মানুষকে। দেশে দেশে রাজপথগুলো বিৰুব্ধ জনতার পদভারে কম্পিত হয়েছিল। দাবি উঠেছিল স্বৈরাচার ও রাজতন্ত্র নিপাত যাক।
দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্য কোন্ জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় এভাবে জেগে উঠল? কি কারণে সে অঞ্চলের মানুষ বিসুভিয়াসের মতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করল? সে উত্তরটা পেতে হলে খুঁজে বের করতে হবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের প্রধান অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যকে। আর সেটা হলো যুবশক্তির বিশাল স্ফীতি। মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এই কোটি কোটি যুবকের চোখে অনেক স্বপ্ন। বুকে অনেক আশা-আকাঙ্ৰা। কিন্তু সেই স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ৰা পূরণ করার মতো সামর্থ্য ও সদিচ্ছা কোনটাই নেই এসব দেশের শাসকগোষ্ঠীর। এই যুবশক্তি পরিবর্তন চায়, রূপানত্মর চায়। আর সে দাবি তুললেই শাসকগোষ্ঠীগুলো এর পেছনে ইসলামী মৌলবাদ নয়ত পাশ্চাত্যের হাত আবিষ্কার করে বসে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যুবশক্তির এই আন্দোলন ও বিৰোভ স্বদেশের বুক থেকেই উৎসারিত, যা পাশ্চাত্যেরও অস্বসত্মি ও চিনত্মার কারণ ঘটিয়েছে। এই যুবশক্তি সর্বপ্রথম নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হতে চায়_ প্রজা হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মিসর, সুদান, লিবিয়া, আলজিরিয়া, তিউনিসিয়া, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, জর্দানের প্রথম ও প্রধানতম ইচ্ছা হলো তারা একটা মুক্ত দেশ ও সমাজে বাস করতে চায়।
যুবশক্তির স্ফীতি ঘটলেই যে তা সর্বদা সহিংসতার উৎসে পরিণত হবে এমন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক দশক পর পাশ্চাত্যেও যুব সমাজের স্ফীতি ঘটেছিল। কিন্তু তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। চীন ও ভারতেও যুবশক্তি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপানত্মরিত হয়েছে। কিন্তু সে সব সমাজে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং যুব সম্প্রদায়ের বিশেষ করে যুবকদের সংখ্যাও বেশি সেখানে ব্যাপক গণঅসনত্মোষ ঘটার আশঙ্কা থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে এটাই ঘটেছে। সেখানে যুব সমাজের স্ফীতি চরমে পেঁৗছেছে। সম্ভবত এ মুহূর্তে সেটা বিশ্বের সর্বাধিক। ১৯৭০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে সব ধরনের সংঘাতের ৮০ শতাংশ ঘটেছে সেসব দেশে যেখানে জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এমনকি যেসব দেশে জনসংখ্যা স্ফীতি প্রবৃদ্ধির কারণ ঘটিয়েছিল সেগুলোও সমস্যামুক্ত থাকেনি। পাশ্চাত্যে যুব সমাজের সংখ্যাগত স্ফীতি সর্বোচ্চ মাত্রায় পেঁৗছেছিল ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে। সে সময়টাতেই যুব বিদ্রোহ ও গণবিৰোভ ঘটেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুবকদের সমস্যা সাংবাদিক, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী বিদগ্ধজন_ সবারই চোখে পড়েছিল কিন্তু সংশিস্নষ্ট সরকারগুলো সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তেমন কিছুই করেনি। যুবক বেকারত্বের হার অনেক বেশি। কোন কোন হিসাবে ২৫ শতাংশের কাছাকাছি। তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর পৰে নানাভাবে তার কিছু সুফল জনগণকে পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হলেও মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি এমন এলাকায় থাকে যেখানে তেল নেই। উপরন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোতে তেল একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেশের অর্থনীতি তেল আহরণ করা ছাড়া আর তেমন কিছুই দিতে পারেনি। সেখানে বিদেশীরাই সব কাজ করে দেয়। সরকারগুলো জনগণের সামনে একটা মৌলিক শর্ত জুড়িয়ে দেয়_ 'যতদিন তোমরা আমাদের শাসন মেনে নেবে ততদিন তোমাদের নানারকম ভতর্ুকি দিয়ে যাওয়া হবে।' কিন্তু সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে কম্পিত হয়ে কুয়েত ও বাহরাইন উভয়ে তাদের নাগরিকদের সবাইকে এ বছর যথাক্রমে ৩ হাজার ও ২৭শ' ডলার বোনাস দেয়ার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। এটা আসলে এক ধরনের ঘুষ। গণহারে ঘুষ।
মধ্যপ্রাচ্যে দু'ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে_ একটা হলো ব্যাপক দমননীতি, অন্যটা গণহারে ঘুষ প্রদান। শেষেরটা অধিকতর কার্যকর। এটা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোতেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা এখন নাজুক আকার ধারণ করেছে এই কারণে যে, এই অঞ্চলের জনগণ উত্তরোত্তর সচেতন ও ওয়াকিফহাল হয়ে উঠছে এবং পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। মিসর ও তিউনিসিয়ায় যা ঘটেছে ফেসবুকের কারণেই ঘটেছে_ এর চেয়ে সরল ব্যাখ্যা আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু তার পরও বলতে হয় প্রযুক্তি তথা স্যাটেলাইট টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট এ অঞ্চলের জনগণকে ওয়াকিফহাল করা, শিৰিত করা ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যাপারে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি জনগণকে যেমন ৰমতায়ন করেছে তেমনি রাষ্ট্রের ৰমতা খর্ব করেছে। আগের দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ৰমতাসীনদের পৰপাতিত্ব করত। সে কারণেই ১৯৩০ এবং পরবতর্ী দশকগুলোর বিদ্রোহী-বিপস্নবীদের লৰ্য থাকত বেতার কেন্দ্র দখল, যাতে করে তারা তাদের কথা জনগণের কাছে প্রচার করতে পারে। কিন্তু আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি আর শাসকদের হাতে কেন্দ্রীভূত নেই। সে কারণে এটা কারোর নিয়ন্ত্রণে নেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্কের দ্বারা প্রত্যেকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রযুক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার এবং প্রত্যেকের। কারোর নিয়ন্ত্রণে নেই বলেই কারোর পৰেই আজ তথ্যকে দমন করা বা ধামাচাপা দেয়া সম্ভব নয়।
তাই বলে শাসকগোষ্ঠী যে পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করে না তা নয়। যেমন মিসর সরকার পাঁচ দিন ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিল। ইরান সরকার ২০০৯ সালের বিৰোভের চরম অবস্থায় সেলফোন সার্ভিস বন্ধ করে। কিন্তু এমন পদৰেপের মাসুল কি হতে পারে তারা সম্ভবত ভেবে দেখেনি। ইন্টারনেট ছাড়া আজ ব্যাংক চলতে পারে না। সেলফোন ছাড়া ব্যবসাবাণিজ্য চলে না। সে জন্য যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, শেষ পর্যনত্ম তা সফল হয় না।
যুবশক্তির জাগরণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মিলনের কারণে আজ মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিবর্তন বাসত্মবে কতটা ঘটবে বলা মুশকিল। অন্যান্য দেশের এ ধরনের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল নয়। স্বৈরাচারের বিরম্নদ্ধে বিৰোভকারীরা এক পর্যায়ে প্রবল ৰমতাধর হয়ে ওঠে। তারপর খ-িত হয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে দুর্বল হয়ে যায়। সামরিক বাহিনী পুরনো ব্যবস্থার প্রতি অনুগত থাকে এবং সুবিধামতো সময়ে বিৰোভকারীদের দমন করে। রাজা বা স্বৈরাচারীরা পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যনত্ম অপেৰা করে। তারপর আবার স্বমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে। মধ্যপ্রাচ্যেও কি এমন ঘটতে পারে? এমনটা খুবই সম্ভব। তবে মৌলিক দুটো কারণ আছে যার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের আজকের এই টানাপোড়েন সম্ভবত শেষ হবে না। কারণ আজকের বিশ্বে পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী যে দুটো বাহন রয়েছে সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অতিমাত্রায় ক্রিয়াশীল_ যুবশক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুবশক্তি সম্পর্কে আরও কিছু উলেস্নখ করা ভাল। উত্তর আফ্রিকা থেকে আরব উপসাগর পর্যনত্ম গোটা তলস্নাটের শাসকদের ৰমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়া যুবশক্তির এই বিৰোভ কারোর অনুকরণে হয়নি। আপনা থেকে স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। বিৰোভের নেতৃত্বদানকারী যুবক ও যুবতীরা সবাই রাজনৈতিক কর্মকা-ে নতুন ও অনভিজ্ঞ। সবাই যোগাযোগের আধুনিক মাধ্যম ইন্টারনেট ও সেলফোনের সাহায্যে জনগণকে সংগঠিত করেছে ও রাজপথে নামিয়েছে। সবার দাবি এক_ নেতৃত্বের পরিবর্তন, বল্গাহীন দুর্নীতির অবসান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়ন। তিউনিস থেকে কায়রো হয়ে মানামা পর্যনত্ম সব জায়গার আরব যুবকরা একই ওয়েভলেনথ্ থে;েকেছে।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে এই যুবশক্তি তাদের বাবা-মায়েরা ত্রিশ বছরে যা করেনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার চেয়ে বেশি করেছে। এদের এখন বলা হচ্ছে ইন্টারনেট প্রজন্ম বা ফেসবুক প্রজন্ম কিংবা স্রেফ মিরাকল জেনারেশন।
অথচ বেশিদিন আগের কথা নয়, এরা হারানো প্রজন্ম কিংবা উচ্ছন্নে যাওয়া প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত ছিল। এরা ছিল হতাশাগ্রসত্ম ও উদ্যমহীন, স্বৈরাচারী শাসকদের তারা অপছন্দ করত, অবিশ্বাস করত, নিজেদের সীমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তীব্রভাবে অনুভব করত। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির ইচ্ছা বা ৰমতা তাদের ছিল না। সেদিক থেকে তারা ছিল নিবীর্য। মোবারক, সালেহ, জয়নাল আবেদীনের মতো শাসকের হুমকির মুখে ছিল তাঁরা। সেই সঙ্গে তাদের ওপর ছিল স্পাই ও গুপ্ত পুলিশের নজরদারি। বাবা-মার প্রজন্মের ব্যর্থ চেষ্টার কথা মনে করে তারা হতাশ ও স্বপ্নহারা হয়ে পড়েছিল। তাদের ৰোভ ও বিরোধিতা প্রকাশের একমাত্র পথ ছিল ইসলামী উগ্রবাদ এবং সেদিকেও তারা ঝুঁকে পড়েছিল। এ ধরনের ব্যাখ্যাই অনেক সময় দেয়া হয়ে থাকে।
কিন্তু আরব যুবশক্তি সম্পর্কে এই মূল্যায়নটা ভুল ছিল। কারণ বাসত্মবে তাদের বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ছিল নীরব ও আধুনিক মনস্ক। কার্যত প্রতিটি আরব দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশির বয়স ৩০ বছরেরও কম, যা আগেও উলেস্নখ করা হয়েছে। অন্যসব দেশ ও সমাজের যুবকদের মতো আরব যুবকরাও স্বৈরাচার বা রৰণশীল শাসনের চেয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকেই বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে। এমনকি উন্নত নাগরিক অবকাঠামো, সেরা শিৰার সুযোগ কিংবা ন্যায্য মজুরির ওপরও তারা গণতন্ত্রকে স্থান দেয়। এটা পাশ্চাত্যের এক জনসংযোগ ফার্মের সমীৰায় দেখা গেছে।
বহু আরব দেশে এই যুব সমাজই ছিল কার্যত বিরোধী শক্তি। অথচ তারা নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য বা ৰমতাটা দেখতে পায়নি। সেটা যাতে তাদের চোখে ধরা পড়ে সে উদ্দেশ্যে বিদ্রোহের প্রয়োজন ছিল এবং বিদ্রোহের আগুন জ্বালানোর জন্য হাজার হাজার স্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন পড়েছিল। এই দেশগুলোর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অবমাননা, লাঞ্ছনা-নির্যাতন-অত্যাচারের অসংখ্য নিষ্ঠুর ঘটনা সেই স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছিল। তারপর তাদের ক্রোধবহ্নি বিসুভিয়াসের উদ্গিরণের রূপ ধারণ স্বৈরাচারী ও নৃপতিদের স্বেচ্ছাচারী শাসনের তখ্ত তাউস কাঁপিয়ে দেয়। তিউনিসিয়া ও মিসরের শাসকরা ৰমতা ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু লিবিয়া, ইয়েমেন ও আলজিরিয়ায় এখনও সরকারের পতন ঘটেনি। সিরিয়ায় এখনও আন্দোলন দানা বাঁধেনি এবং বাহরাইনে প্রাথমিক সত্মরে আছে।
তিউনিসিয়ায় গণশক্তির বিস্ফোরণ কিভাবে গোটা তলস্নাটের ওপর প্রভাব ফেলবে কেউ আগে থেকে দেখতে পায়নি, অাঁচও করতে পারেনি। তথাপি তা প্রবল প্রতাপে ফেলেছে। থেকে থেকে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে গোটা আরব ভূমি। কারণ প্রতিটি দেশের জনগণ তাদের নিজস্ব দিক দিয়ে অসন্তুষ্ট, বিৰুব্ধ ও অস্থিরতাতাড়িত হয়ে উঠেছিল। লিবিয়া ও সিরিয়ায় নিপীড়নের মাত্রা মিসরের চেয়ে বেশি। দৰিণাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ইয়েমেনের পরিস্থিতি অধিকতর জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরানে ২০০৯ সালের গণঅভু্যত্থান ব্যর্থ হয়েছে। জর্দানের বাদশাহ এমন এক দেশে রাজত্ব করেন যার সিংহভাগ মানুষ ফিলিসত্মিনী। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেলের অর্থে সব জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করে দেয়ার চেষ্টা হয়। তথাপি তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট গণবিস্ফোরণের ঢেউ মিসর, বাহরাইন, লিবিয়া হয়ে একে একে সব দেশেই ছড়িয়ে পড়বে। পরিণতি কি দাঁড়াবে? প্রথম প্রথম পরিস্থিতি ঘোলাটে ও গোলমেলে আকার ধারণ করবে। তারপর এক পর্যায়ে তা সুস্পষ্ট রূপ নেবে। শেষ পর্যনত্ম মধ্যপ্রাচ্য নয়া গণতন্ত্রের এক নতুন পরিবারের আবির্ভাব ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোল্যান্ড বা চেকপ্রজাতন্ত্রের মতো নয় বরং তুরস্কের মতো। কিংবা হয়ত ইন্দোনেশিয়ার মতো। কিন্তু তার জন্য যথেষ্ট সময় লাগবে এবং সে পর্যনত্ম অপেৰা করে থাকা ছাড়া আমাদের আর উপায়ও নেই।
সূত্র : টাইম/দি ইকোনমিস্ট