মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০১৩, ২৪ ফাল্গুন ১৪১৯
এগিয়ে যাওয়া গুচি
চ লচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও জমকালো পুরস্কারটি নিঃসন্দেহে অস্কার। প্রতিবছর সিনেমা প্রেমিকরা যেমন অপেক্ষায় থাকেন কার হাতে এবার সেরা অভিনেতা বা অভিনেত্রীর অস্কারটি ওঠে তা দেখার জন্য। তেমনি পর্দা কাঁপানো তারকাদেরও প্রতীক্ষা থাকে অস্কার এ্যাওয়ার্ডের রাতের জন্য। যত বড় তারকাই হোক না কেন সে, বিশ্বব্যাপী থাকুক তার বিপুল জনপ্রিয়তা, অফুরন্ত উপার্জন-তারপরও সে তারকার স্বপ্ন থাকে অস্কারের সেই অতি পরিচিত স্মারকটি নিজের মুঠোয় নেবার। আর অস্কারের কথা ভাবলেই মনের অজান্তেই ভেসে আসে একের পর এক স্বপ্নের তারকাদের লালগালিচা দিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের দৃশ্য। লালগালিচার এই পথটুকু পাড়ি দিতে গিয়ে হাজারো ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকানি এবং মিডিয়াকর্মীদের প্রশ্নের উত্তর হাসি মুখেই দিয়ে যেতে হয়। প্রতিবছর অস্কারের রাতে যে প্রশ্নটির উত্তর কম বেশি সবাইকেই দিতে হয় সেটা হচ্ছে কোন ডিজাইনার বা ফ্যাশন হাউসের পোশাক পরে এসেছেন। এর উত্তরে তারকাদের বেশিরভাগই একটি ফ্যাশন হাউসের নামই ঘুরে ফিরে বলে থাকেন। তারকাদের পছন্দের সেই ব্র্যান্ডটির নাম আজ বাংলাদেশের পাঠকদেরও অজানা নয়। তারকাদের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই পাওয়া সেই ফ্যাশন হাউসটির নাম হচ্ছে গুচি। ক্লিন স্টুড থেকে হালের টম ক্রুজ বা জনি ডেপ কিংবা জুলিয়া রবার্ট, জেনিফার লোপেজ, কেট উইন্সলেট বা হালের সুপারহিট মুভি ‘দ্য হাঙ্গার গেইমস’-এর নায়িকা জেনিফার লরেন্স সবারই পছন্দের তালিকার শীর্ষ স্থানটি গুচির দখলে। আভিজাত্য মুভি স্টার, ফ্যাশনের লেটেস্ট স্টাইল ও গুচি আজ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।
দ্য হাউস অব গুচি যা সর্বসাধারণের কাছে শুধুই গুচি নামে পরিচিত। ইতালিয়ান ফ্যাশন ও চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে গুচি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও এটি ফরাসী কোম্পানি পিপিআর মালিকানাধীন। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে গুসিও গুচির হাতে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু হয় গুচি নামের প্রতিষ্ঠানটির। বিক্রির দিক থেকে গুচি ইতালিয়ান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে নিজের দখলে রেখেছে। ২০০৯ সালের হিসাবে বিশ্বব্যাপী গুচির ২৭৮টি স্টোর চালু রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী অভিজাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে গুচি তাদের পণ্য বিক্রি করে থাকে। ১৯২১ সালে যাত্রা শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই গুচি তার পণ্য দিয়ে ক্রেতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। বিশেষ করে অভিজাত শ্রেণীর। বর্তমানে গুচিকে বিশ্বের সবচেয়ে সফল একটি ফ্যাশন প্রোডাক্ট তৈরিকারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গুচির এই স্বপ্নযাত্রা ঘটেছিল কিছুটা অদ্ভুতভাবে। তরুণ গুসিও গুচি একজন অভিবাসী হিসেবে লন্ডন ও প্যারিসের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে কাজ করতেন। হোটেলে অভিজাত শ্রেণীর যে অতিথিরা আসতেন তাদের লাক্সারিয়াস লাগেজগুলোয় চোখ আটকে যেত গুচির। অতিথিদের লাগেজ বহন করতে করতেই মনের ভেতর তৈরি হতে থাকে একটি স্বপ্ন। স্বপ্নের বীজ নিয়ে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে আসেন গুচি। ফ্লোরেন্স শহরের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে প্রথমে বাছাই করে শুরু করেন কাঁচামাল সংগ্রহ। ১৯২০ সালে গুচি স্বপ্নের দোকানটির যাত্রা শুরু করেন ফ্লোরেন্স শহরে। মূলত চামড়াজাত পণ্য বিক্রি হতো সেখানে।
তিন পুত্রকে নিয়ে গুচি তার স্বপ্নের পরিধি বাড়াবার কাজ শুরু করেন। ফ্লোরেন্সের পর মিলান এবং রোমে দেখা মেলে গুচির স্টোর। পণ্য তালিকায় যোগ হয় বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, জুতা ও অল্প কিছু পোশাক। মহিলাদের হ্যান্ডব্যাগ ডিজাইনের উপকরণ নিয়ে তখন শুরু হয় গুচির নিরীক্ষা। মূলত এই হ্যান্ড ব্যাগের মাধ্যমেই গুচি তার নিজস্বতা একটি শ্রেণীর কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হন। এরপর শুধুই এগিয়ে যাবার ও সাফল্যের গল্প। তিন সুযোগ্য পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন যুগের সূচনা ঘটায়। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যেই গুচি পণ্য আন্তর্জাতিকমানের সিম্বল হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।
ফ্যাশন ডেস্ক