মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৮ আগষ্ট ২০১৩, ১৩ ভাদ্র ১৪২০
বাংলাদেশের ক্রিকেটের চালচিত্র
সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ
অনেকের মতে, বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য একটু তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে। সহযোগী সদস্যপদ লাভের নবম বছরে ওয়ানডে স্ট্যাটাস না পেয়েও প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলার অনন্য গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় এশিয়া কাপে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত হয় বাংলাদেশ। যদিও সে অভিষেক সুখকর হয়নি। হার দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডে পথচলা। তবে দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৩তম ম্যাচে ভারতের হায়দ্রাবাদে কেনিয়ার বিপক্ষে আসে প্রথম জয়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি বিজয়ের সুবাদে ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ লাভ করে বাংলাদেশ। আইসিসি ট্রফি জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ ১৮৯৮ সালে ওয়ানডে মর্যাদা লাভ করে। সপ্তম বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে পরাজিত করার সুবাদে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির দাবি আরও জোরালো হয়। ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদা অর্থাৎ আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। এপর কেবলই এগিয়ে চলা। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এ বছরই একই দলের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ লাভ করে বাংলাদেশ। তবে টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ২০০৯ সাল পর্যন্ত। ২০০৯ সালে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ তে টেস্ট সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বাগতিক হওয়া ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য গৌরবের। এটা হচ্ছে আইসিসির সদস্যপদ প্রাপ্তির পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি তথ্য-সংক্ষেপ। আসলে এ ফিরিস্তি তুলে ধরা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। এ লেখার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের অবস্থা তুলে ধরা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের অবস্থা যে খুব একটা ভাল নয় তা অনেকেই স্বীকার করবেন। ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ ’এ’ দল ভাল যাচ্ছেতাই খেলেছে। অনুর্ধ-১৯ দলের অবস্থাও একই। সিঙ্গাপুরে এশিয়ার ক্রিকেট কাউন্সিল এমার্জিং টিমস কাপে আমিরাতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে ভাল যাচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটের সার্বিক অবস্থা। তার ওপরে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে বোর্ড কর্তারা মুখোমুখি অবস্থানে।
ক্রিকেট বোর্ড তথা ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। ক্রিকেটসহ বেশিরভাগ খেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামের সঙ্গে সরকারী দলের তকমা লাগানো থাকে। এটা খেলার উন্নয়নে কতটা ফলপ্রসূ জানা নেই। যারা খেলার জগতের মানুষ, খেলার মাঠ যাদের পরিচয় কেবল তাদেরই এ কাজে নিয়োজিত থাকা উচিত বলে বিজ্ঞ মহলের ধারণা। ইদানীং দেখা যায়, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ নিজেদের ক্রীড়াঙ্গনের নিবেদিতজন বলে জাহির করেন। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। যেটা কারও কাম্য নয়। যারা খেলেছেন, যারা খেলা বোঝেন; যারা খেলার ভুবনের মানুষ কেবল তাদেরই ফেডারেশনগুলোর দায়িত্বে আসা উচিত। আর তা যখন যে সরকারই আসুক। তাহলেই খেলার উন্নয়ন সম্ভব। সেটা ক্রিকেট বা অন্য যে কোন খেলা হোক। আর খেলার উন্নয়নের স্বার্থেই দরকার খেলার মানুষদের জায়গা ছেড়ে দেয়া।
মূল আলোচনায় ফিরে আসি। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ। কেন পারছে না? ক্রিকেটের এই পরাজয়ের পথ থেকে উত্তরণের উপায় বের করা দরকার। জানা দরকার, কেন আজকেও আমরা আমিরাতের কাছে হারছি? এ হারের নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করে তার প্রতিকার করা অতি অবশ্যই করণীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা করতে হবে আমাদের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থেই। আমাদের ক্রিকেটের এই ব্যর্থতা দেখতে চায় না এ দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটামোদি মানুষ।
লেখক : ঔপন্যাসিক ও ক্রীড়ালেখ