মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ৩ অগ্রহায়ন ১৪২০
পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ২০ শতাংশ
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের পুুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা দ্রুতই ফিরে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা প্রতি নিয়তই বাড়ছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির মতো কোম্পানিগুলোকে ঘিরেই বাজারে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে বাজারের লেনদেন বাড়ছেই। এ ছাড়া গত সপ্তাহে নতুন করে যোগ হয়েছে বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ। খাতভিত্তিক লেনদেন বাড়ার কারণে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতালেও সার্বিক লেনদেন বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট। তবে লেনদেন বাড়লেও কিছু কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে মুনাফা তোলার প্রবণতাও দেখা গেছে। যার কারণে আগের তুলনায় সূচকের বৃদ্ধি কিছুটা কম ঘটেছে। সার্বিকভাবে প্রধান সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে প্রায় ৪০ পয়েন্ট। তবে বাছাই খাতের কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগের দর পতনের কারণে ডিএস-৩০ সূচক কমেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহের শুরুতে রবিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ২শ’ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবারে আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ২শ’ ৪১ পয়েন্টে। মোট ১ শতাংশ হারে এই সূচক বেড়েছে। আগের সপ্তাহে মোট ২৩৩ দশমিক সার্বিক সূচক বেড়েছে। অর্থাৎ ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ হারে এই সূচক কমেছে।
এদিকে অপর বাছাই সূচক ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমেছে। গত রবিবারে ডিএস-৩০ বাছাই সূচক ১ হাজার ৪শ’ ৫৩ পয়েন্ট ছিল। বৃহস্পতিবারে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪শ’ ৪৬ পয়েন্ট।
বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ার কারণে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ২ হাজার ৩শ’ ৭১ কোটি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের। যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৯শ’ ৮২ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন বাড়ার কারণে দৈনিক গড় লেনদেনও বেড়েছে। প্রতিদিনের লেনদেনের দাঁড়ায় ৪শ’ ৭৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের আগের সপ্তাহে ছিল ৩শ’ ৯৬ কোটি টাকা।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির এবং লেনদেন হয়নি ৩টি কোম্পানির। আগের সপ্তাহে একই সংখ্যক কোম্পানির মধ্যে মাত্র ২২০টির দাম বেড়েছিল, কমেছে ৬৫টি, অপরিবর্তিত ছিল মোট ৯টির দাম এবং ৩টির কোন লেনদেন হয়নি।
ডিএসইতে বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়ার কারণে মোট বাজার মূলধনও বেড়েছে। শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। সেখানে মোট ২ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে।
ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আর এন স্পিনিং, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, আর্গন ডেনিমস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইউনাইটেড এয়ার।
দর বৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : আইসিবি এএমসিএল ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, ৬ষ্ঠ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, দেশ গার্মেন্টস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড।
দর পতনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : স্টাইল ক্রাফট, রহিম টেক্সটাইল, জাহিন টেক্সটাইল, তাল্লু স্পিনিং, ডেসকো, এম আই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, প্রগেসিভ লাইফ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, রূপালী লাইফ এবং গ্লোবাল হেভি ক্যামিক্যাল।