মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৬ আগষ্ট ২০১৩, ১১ ভাদ্র ১৪২০
পুজিবাজারে আট শ’ কোটি টাকার লেনদেন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সূচকের উর্ধগতি দিয়ে দেশের পুুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উভয় বাজারেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছিল। রবিবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের সূচকে যোগ হয়েছে ৩৮ পয়েন্ট। সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ডিএসইতে আট শ’ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, হিডেলবার্গ সিমেন্ট, স্কয়ার টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে গড়ে ৪ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ডিএসইতে দিনটিতে মোট ২৪ কোম্পানির শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে খাতভিত্তিক তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রীন ডেল্টা ছাড়া সবগুলোরই দর বেড়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সাধারণ সূচক বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। সেখানেও আগের দিনের তুলনায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ৯০০ কোটি টাকা পুনর্অর্থায়নের প্রথম কিস্তির অর্থছাড়ের খবরটিই মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আশান্বিত করেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে লেনদেন শুরুর পর থেকেই। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) নামের তিনটি পৃথক সংস্থার মধ্যে তহবিলটি পরিচালনায় বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া আপাতত রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী না থাকার ইতিবাচক প্রভাবও বাজারে পড়ে থাকতে পারে। মূলত সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের আস্থা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে সার্বিক লেনদেন বেড়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
রবিবার সকালে প্রথম ৫ মিনিটেই সূচক প্রায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শুরু হয়। সারাদিনই প্রায় ৬০-৬৫ পয়েন্ট সূচক বেড়েছিল। কিছু কিছু কোম্পানির মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতাও দেখা গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও বিদ্যুত খাতের কোম্পানি এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের ক্ষেত্রে তা দেখা গেছে। সারাদিনই সূচকের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের গতি বাড়তে থাকে। কিন্তু দুপুর দেড়টার পর থেকে মুনাফা তোলার গতি আরও বেড়ে যায়। যে কারণে সূচক দিনশেষে সে হারে বাড়েনি। দুপুর আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬৩ পয়েন্ট। মোট ১ শতাংশ হারে এই সূচক বেড়েছে। নতুন বাছাই সূচক ডিএস-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইতে মোট ৮২০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৮৬ কোটি টাকা বেশি। হাতবদল হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ৯২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মোট ২৫টির দর।
রবিবার জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের শেয়ারে মিশ্রাবস্থা থাকলেও তা লেনদেনের শীর্ষে ছিল। তবে আগের তুলনায় খাতটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম দেখা গেছে। ১২৮ কোটি টাকার লেনদেন করে খাতটি মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৭৬ ভাগ দখল করেছে। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা দেখা গেছে। খাতটির বেশিরভাগ শেয়ারই উর্ধমুখী অবস্থানে ছিল। খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৫৪ ভাগ। বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো লেনদেনের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৭৪ ভাগ। টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিগুলোর মোট লেনদেনের পরিমাণ ৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৪৩ ভাগ। শুধুমাত্র গ্রামীণফোনই দিনটিতে মোট ৪৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন করেছে, যা মোট লেনদেনের ৬ ভাগ।
ডিএসইতে সারাদিন সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, রেনেটা, ম্যারিকো এবং বার্জার পেইন্টস। নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, তিতাস গ্যাস এবং অলিম্পিক।
ডিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, পদ্মা ওয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আফতাব অটোস, ইউনাইটেড এয়ার, একটিভ ফাইন, এপেক্স ডেলটা এবং সিঙ্গার বিডি।
এদিকে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সকালে সূচকের উর্ধগতি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু পরক্ষণই কিছু কোম্পানির দর কমতে থাকে। এভাবে সারাদিন শেষে সিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের মোট ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৮৩১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অপর সূচক সিএসই-৩০ আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬১২ পয়েন্টে। সেখানে মোট ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মোট ২২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ৮৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টি কোম্পানির শেয়ারের।
সিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, বার্জার পেইন্টস, পদ্মা ওয়েল, ইউনাইটেড এয়ার, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, আফতাব অটোস, আর এন স্পিনিং এবং বেক্সিমকো।