মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১১, ১০ কার্তিক ১৪১৮
সুপারির বাজারে ধস
নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর ॥ স্বরূপকাঠি ও কাউখালীতে সুপারি বাজারে ধস নেমেছে। চলতি বছর খরার কারণে সুপারির উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। এর ওপর বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। কয়েক দিনে ভাল মানের এক কুড়ি (২১০টি) পাকা সুপারির দাম ৪শ' থেকে কমে মাত্র ২শ' থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য সব গ্রেডের সুপারির দামও অর্ধেকের বেশি কমেছে। স্বরূপকাঠির জগন্নাথকাঠি, ইন্দুরহাট, মিয়ারহাট, বন্দরের সুপারি বাজার, কাউখালী দক্ষিণ বাজার, উত্তর বাজার,নতুন বাজার, হোগলা বেতকা, পোলের হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে বিক্রেতা ও চাষীদের কাছ থেকে সুপারির মূল্যহ্রাসের এ অবস্থা জানা গেছে। বাজারে সুপারির দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় কাউখালীর কয়েক হাজার সুপারি চাষী ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। ব্যবসায়ীরা জানান, সমপ্রতি ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিদেশী সুপারি আমদানির কারণে দেশীয় সুপারির দাম কমে গেছে। উপজেলার সুপারি চাষীরা বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করে দেশীয় চাষীদের বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। কাউখালী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কাউখালী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির চাষ হয়েছে।
এছাড়া খড়া ও সুপারির পুষ্ট হওয়ার সময় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সুপারি বাগানগুলোয় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সে কারণে সুপারির ফলন তুলনামূলক এ বছর অনেক কম হয়েছে। অন্যান্য বছর জেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন সুপারি উৎপাদন হলেও চলতি বছর উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্বরূপকাঠি বন্দরের আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী কাজী সাথাওয়াৎ হোসেন, শঙ্কর সাহা, কাজী পান্না আলকির হাটের লাল মিয়া, কাউখালীর জয়কুল গ্রামের সুপারি চাষী সেলিম মিয়া, জয়কুল গ্রামের আলী হোসেন, সালা উদ্দিন, নতুন বাজার এলাকার বারেক হাওলাদার, মীর নাসির জানান, চলতি বছর খরার কারণে সুপারি যেমন পুষ্ট হয়নি, তেমনি উৎপাদনও অনেক কম হয়েছে। তবে সুপারি উৎপাদনের প্রথম দিকে বাজারে দাম ভাল থাকায় চাষীরা খুশি ছিল। চাষীরা জানায়, বর্তমানে পিক সিজনে বাজারে সুপারির যে দাম, তাতে তাঁদের চাষ, আহরণ ও পরিচর্যা করে যে খরচ হয়, তাও উঠছে না। তাঁরা এখন সুপারি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। না পারছেন ঘরে সংরক্ষণ করে রাখতে, আবার বাজারে দাম অনেক কম হওয়ায় তাঁদের লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সুপারি চাষীরা চরম ক্ষতির শিকার হবে, যা ভবিষ্যতে সুপারির চাষ ও উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ অবস্থার নিরসনে সুপারির ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে সুপারি আমদানি বন্ধ করে দেশের সুপারি চাষীদের বাঁচাতে সরকারের সংশ্রিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।