মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১১, ১০ কার্তিক ১৪১৮
রিহ্যাব এখন আদালতে
সদস্যপদ বাতিলের নোটিস দিয়ে
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সদস্য পদ বাতিলের নোটিস দিয়ে রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এখন আদালতে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনীত বেআইনী ও এখতিয়ারবহির্ভূত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি দাখিলের সুযোগ দিয়েছে। যতদিন তারা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে আপত্তি দাখিল করবেন না, ততদিন তারা সদস্যপদ স্থগতি ও বাতিলের ব্যাপারে কোন ধরনের শুনানি করতে পারবেন না। রিহ্যাব গ্রীন ডেল্টা হাউজিং এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে সদস্যপদ স্থগিত ও বাতিল করার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস করে। এজন্য তাদের ২০ অক্টোবর রিহ্যাব কার্যালয়ে উপস্থিত হতেও বলা হয়। তা নাহলে একতরফাভাবে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে বলেও নোটিস করা হয়। ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রীন ডেল্টা রিহ্যাবের বিরুদ্ধে সমপ্রতি আদালতে মামলা করে। এর প্রেৰিতে প্রথম সহকারী জজ আদালত ১৭ অক্টোবর রিহ্যাবকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেখানে বলা হয়, আপত্তি দাখিলের আগ পর্যন্ত শুনানি গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। এখন রিহ্যাবকে আদালতের কাছে আপত্তি দাখিল করতে হবে। এখনও পর্যন্ত রিহ্যাব এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে তারা বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে ক্রেতারা অভিযোগ করলে তা মিটিয়ে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেয়া হয়। গ্রীন ডেল্টাকে একবার তিন মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। এরপর তারা আরও এক দফা তিন মাসের সময় চাইলেও দেয়া হয়নি। ফলে তাদের সদস্যপদ স্থগিতের নোটিসের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছে গ্রীন ডেল্টা।
রিহ্যাবের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সমপ্রতি রিহ্যাব থেকে গ্রীন ডেল্টার কারণ দর্শানোর জন্য ও সদস্য পদ বাতিল করার জন্য যে নোটিস করা হয়েছে এটা আইনত কোন ব্যবসায়ী সংগঠনের এ্যাসোসিয়েশন করতে পারে না। রিহ্যাবের অর্গানোগ্রাম সদস্যপদ বাতিল করার বিধান থাকলেও আরও একটি আইনের কারণে কোন এ্যাসোসিয়েশনই তাদের সদস্যদের সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে না।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রিহ্যাবের উচিত ছিল গ্রীন ডেল্টা ও তাদের কাছে যারা টাকা পান তাঁদের দু'পৰকে ডেকে সমঝোতা করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়। তিন মাস সময় দেয়ার পরও কেন গ্রীন ডেল্টা টাকা দেয়নি এ ব্যাপারে সতর্ক করা। তা না করে তারা সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। ফলে এখন অবস্থাটা এমন হয়েছে রিহ্যাবের বিরম্নদ্ধে মামলা করে গ্রীন ডেল্টা। এ কারণে এখন পাওনাদারদের টাকা পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। কারণ এখন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যনত্ম তারা টাকা না দিলেও আমরা কিছু বলতে পারব না।
একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সমঝোতার পথে না গিয়ে হঠাৎ করে সদস্যপদ বাতিলের নোটিস প্রদান করা রিহ্যাবের জন্য ভাল হয়নি। আগে তো রিহ্যাব চাইলে যে কোন সদস্যর বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত। এখন কোন সদস্যের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হলে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। মামলা শেষ না হওয়া পর্যনত্ম তা ঝুলে থাকবে। ফলে ক্রেতা তার সমস্যা সমাধানের যে আশায় রিহ্যাবে এসেছিলেন তা ব্যর্থ হয়ে গেল।
রিহ্যাব সূত্র আরও জানায়, রিহ্যাবের কাছে গ্রীন ডেল্টার বিরম্নদ্ধে মোট ৪৫টি অভিযোগ ছিল। ওই অভিযোগের মধ্যে তারা ৩২টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছেন। সাতটি অভিযোগের বিষয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। বাকি আছে কেবল ছয়টি অভিযোগ নিষ্পত্তির। ওই সব সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রীন ডেল্টাকে শেষবারের মতো তিন মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। ওই সময়ে তারা বলেছিল এ সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। কিন্তু তারা নিষ্পত্তি করেনি। নির্ধারিত সময়ের পরে প্রায় এক মাসের মতো সময় অতিবাহিত হয়েছে। তারা সমস্যার সমাধান না করার কারণে রিহ্যাব ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে রিহ্যাবের প্রতি মানুষের বিরক্তি বাড়বে আর ৰতিগ্রসত্ম হবে রিহ্যাব। রিহ্যাবের মতো একটি সংস্থাকে কার্যকর করার পাশাপাশি আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানের জন্য যাতে ব্যবস্থা নিতে পারেন সেই জন্য ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এ প্রসঙ্গে গ্রীন ডেল্টা হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কোন পাওনাদারের টাকা বাকি রাখব না। মানুষ একটা দোকান থেকে কোন জিনিস কিনলেও সমস্যা হতে পারে। এখানে আমাদের বিশাল সেক্টর অনেক প্রকল্প। সেখানে দু'একটা সমস্যা হতে পারে। কেবল আমাদের দোষ ধরছে রিহ্যাব। আরও অনেক কোম্পানির বিরম্নদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। তা তাঁরা দেখছেন না। অনেক সময় ক্রেতারাও যে আমাদের টাকা দেয় না, কিসত্মি পরিশোধ করে না। বুকিং বাতিল করে দেয়, এরপর আবার লভ্যাংশসহ টাকা দাবি করে _এসব ব্যাপারে রিহ্যাব কোন ব্যবস্থা নেয় না।
তিনি বলেন, আমাদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারণ দর্শানো ও সদস্যপদ বাতিল করার চিঠি দেয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমরা তাদের কাছে সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু একবার দেয়ার পর আর দেয়া হয়নি। বাংলাদেশে এমন কোন ব্যবসায়ী সংগঠন নেই যে কারণে মাদার সংস্থা তার সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করে। আসলে রিহ্যাব সমস্যার সমাধান না করে কেবল আমাদের সদস্য পদ বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন তো নয়। বরং এভাবে তারা ব্যবস্থা নিতে থাকলে অন্য সদস্যরা রিহ্যাবের প্রতি বিরক্ত হবে। রিহ্যাব আমাদের সময় দিলে আমরা অবশ্যই পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দিতাম। এখনও দিতে চাই। মাত্র ছয়টি অভিযোগের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি কোনভাবেই কাম্য নয়।