মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১১, ১০ কার্তিক ১৪১৮
ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দাবি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ভারতকে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে দেশের স্টিল ও রি-রোলিং খাতের তিনটি সংগঠন জোর দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, যতদিন ভারত বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদিত রডসহ সকল এমএস পণ্য ভারতে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশাধিকার না দেয় ততদিন ভারতকে এ বিষয়টির সুবিধা দেয়া উচিত নয়। এবং রফতানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার আগেই ট্রানজিট হিসাবে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করতে দেয়াটা হবে আত্মঘাতীমূলক। এতে দেশীয় শিল্প বিশেষ করে স্টিল ও রি-রোলিং মিলগুলো অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ শ্রমিক। দেশীয় শিল্পের নিশ্চিত সুরক্ষা ছাড়া ভারতকে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হলে তা যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করার কথা জানান এই শিল্পের উদ্যোক্তা নেতৃবৃন্দ।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ খাতের তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাতটির উদ্যোক্তারা এই হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে রডসহ সকল এমএস পণ্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এসব পণ্যের কাঁচামালের ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স, পিএসআই প্রত্যাহার এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে বিদু্যত ও গ্যাসের সিস্টেম লসের ঠেকানোসহ মূল্য বৃদ্ধি না করা, ডলারের মূল্য হ্রাস, ব্যাংক ঋণের সুনির্দিষ্ট হার নির্ধারণ, রাজস্ব কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ ও শিপব্রেকিং ও মেল্টিং স্ক্র্যাপের মূল্য হ্রাসের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব দাবি-দাওয়া শীঘ্রই মেনে নেয়া না হলে আগামী ২৫ নবেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে রাজপথে বিৰোভ, মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ, শিল্পমন্ত্রণালয় ঘেরাও এবং সর্বশেষ আশুগঞ্জে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালনের বিষয়ে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং এ্যান্ড স্টিল মিলস এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল কাসেম মজুমদার। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মাসুদুল আলম মাসুদ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্টিল মিলস ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান বকুল, মহাসচিব মোঃ শাহজাহান, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কাসেম মজুমদার এই শিল্পখাতে বিরাজমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশীয় অর্থনীতিতে সরকার এই তিন খাতের গুরম্নত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে শিল্পোদ্যোক্তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে সম্ভাবনাময় সব শিল্প। কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ শ্রমিক। এতে মানুষের জীবনমান যেমন নেমে যাবে। তেমনি একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে।